“আমাকে চিনতেই পারলেন না বাবা…” হঠাৎ কেন নিজের ছেলে বুম্বাকে চিনতে অস্বীকার করলেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়? পদ্মশ্রী পেতেই কি ফের বাবা-ছেলের সম্পর্কে ফাটল? মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ, মন্তব্যে নতুন করে চর্চায় ব্যাক্তিগত জীবন!

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি দেশের অন্যতম সম্মানজনক নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ লাভ করেছেন। সেই সম্মান পাওয়ার পর নতুন ছবি ‘অভিমান’-এর প্রচারে এসে নিজের কর্মজীবন, নতুন চরিত্র, ব্যক্তিগত অভিমান এবং বাংলা সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, এই সম্মান শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প এবং বাংলা দর্শকদের ভালোবাসারই স্বীকৃতি।

১৯ জুন মুক্তি পেতে চলেছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত ছবি ‘অভিমান’। ছবিতে এক রকস্টারের চরিত্রে দেখা যাবে প্রসেনজিৎকে। চরিত্রটির জন্য তিনি দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেও জানান। অভিনেতার কথায়, এই ধরনের শিল্পী চরিত্র কেবল জনপ্রিয়তার নয়, বরং সময়, সমাজ এবং ব্যক্তিগত বোধেরও প্রতিনিধিত্ব করে। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি রূপম ইসলাম, অঞ্জন দত্তদের মতো শিল্পীদের পুরনো ভিডিও দেখেছেন এবং তাঁদের জীবন ও সৃষ্টির জগতকে বোঝার চেষ্টা করেছেন। একইসঙ্গে পদ্মশ্রী পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা শুধু আমার নয়। আমার মা, ঋতুপর্ণ ঘোষ, আমার সমস্ত পরিচালক এবং বাংলা দর্শকদের অবদানে আমি এই জায়গায় পৌঁছেছি। বাংলা সিনেমা করে এই সম্মান আনতে পেরেছি, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ছবির লুক নিয়েও ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। প্রসেনজিৎ জানান, তাঁর এই নতুন লুক দেখে সবচেয়ে অবাক হয়েছেন তাঁর বাবা, অর্থাৎ প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি নাকি ছবির পোস্টার দেখে প্রথমে চিনতেই পারেননি ছেলেকে। প্রসেনজিতের কথায়, “বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এটা কি সত্যিই তুমি? ওনার মনে হয়েছিল কোনও বিদেশি শিল্পীর ছবি দেখানো হচ্ছে।” অভিনেতার মতে, এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে চরিত্রের জন্য তাঁর পরিশ্রম কতটা সফল হয়েছে। ছবিতে তাঁর পাশাপাশি রয়েছেন যীশু সেনগুপ্ত, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এবং কাঞ্চন মল্লিক। প্রত্যেকের চরিত্রই গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত ‘অভিমান’-এর প্রসঙ্গও উঠে আসে। ছবির নামের সঙ্গে মিল রেখে প্রসেনজিৎ বলেন, মানুষের জীবনে অভিমান থাকতেই পারে। তাঁর নিজের জীবনেও এমন অভিমান রয়েছে, যা এখনও ভাঙানো হয়নি। যদিও সেই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি। অতীতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও বলেন। কখনও কখনও দু’বছর বা আড়াই বছর পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে কথা বন্ধ থেকেছে, আবার কোনও একদিন হঠাৎ করেই সেই দূরত্ব মুছে গেছে। অভিনেতার মতে, অভিমান ভেঙে গেলে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাই সুযোগ পেলে তিনিও নিজের অভিমান দূর করতে চান।

আরও পড়ুনঃ চোখে চোখ পড়তেই গলছে বরফ! একসময় মুখ দেখতে চাইত না রাহুল, এখন রাহির ছোঁয়া পেতেই অস্থির! ‘শুধু তোমারই জন্য’তে বদলাচ্ছে সম্পর্কের রং! রাহুল-রাহির জুটির রসায়ন কেমন লাগছে আপনাদের?

বাংলা সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন প্রসেনজিৎ। তাঁর মতে, সিনেমাকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের বদলে ছবিকে উদযাপন করার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দর্শক হলে যান আনন্দ পাওয়ার জন্য, আর সেই আনন্দের মাধ্যমই হল সিনেমা। তাই সিনেমার বাইরের বিষয় নয়, বরং ছবির গুণমান, অভিনয়, পরিচালনা ও সৃজনশীলতা নিয়েই বেশি আলোচনা হওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা ছবি বিশ্বাসদের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ‘অভিমান’ দেখার। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, ছবিটি প্রত্যেক বাঙালি পরিবারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং দর্শকদের ভালো লাগবেই।

You cannot copy content of this page