তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর থেকেই বাংলা বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ প্রকাশ্যে নানা অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। টলিপাড়ার অনেকেই দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধরনের ‘ব্যান কালচার’ চলত, যেখানে নির্দিষ্ট মতের বিরুদ্ধে গেলে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যেত। কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, শিল্পীদের উপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতো। শুধু বিরোধী মতের শিল্পীরাই নন, অতীতে শাসকদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা বা প্রকাশ্যে সৌজন্য বজায় রাখা অনেক তারকাও এখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুখ খুলছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সম্প্রতি একটি লাইভে এসে তিনি ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি, প্রতিবাদের ধরন এবং রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
লাইভে অপরাজিতা আঢ্য জানান, অনেকেই প্রশ্ন করছেন কেন শিল্পীরা এতদিন প্রতিবাদ করেননি। তার বক্তব্য, প্রতিবাদ মানেই সব সময় প্রকাশ্যে চিৎকার করা বা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা নয়। তিনি দাবি করেন, ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষ নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি ছবিতে কাজ করার সময় অভিনেতা দেব তাকে জানিয়েছিলেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিয়ে কাজ করলে সমস্যা হতে পারে, এমনকি সংশ্লিষ্টদের ‘ব্যান’ও করা হতে পারে। তবুও তিনি, কাঞ্চন মল্লিক, প্রদীপ এবং আরও কয়েকজন সেই কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তও এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ।

অপরাজিতা আরও বলেন, রাজনৈতিক সৌজন্য আর রাজনৈতিক সমর্থনকে এক করে দেখা ঠিক নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা জনপ্রতিনিধি কাউকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে উপস্থিত হওয়া সৌজন্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ওই ব্যক্তির সব মতাদর্শ বা রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে বহু বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক, সঙ্গীতশিল্পী এবং ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়েছেন শুধুমাত্র সৌজন্য রক্ষার জন্য। তাই কোনও ছবি বা ভিডিও দেখে কাউকে ‘চাটুকার’ বা ‘পার্টিবাজ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া অন্যায় বলেই মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রীর দাবি, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন একটা সময় ছিল যখন প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, কেউ প্রতিবাদ করলে তার সঙ্গে টেকনিশিয়ানরা কাজ করতে চাইতেন না, অনেককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হতো, এমনকি কাজের সুযোগও বন্ধ হয়ে যেত। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভয়ের মধ্যে ছিলেন। অপরাজিতার কথায়, বড় বড় শিল্পী ও পরিচালকও সেই চাপের মুখে পড়েছিলেন। ফলে বাইরে থেকে সবাই চুপ থাকলেও, ভিতরে ভিতরে অসন্তোষ ছিল। তবে সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই এখন নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন।
আরও পড়ুনঃ রূপম ইসলামের স্ত্রীকে একাধিকবার খু’নের হুম’কি! গায়ক-পত্নীর বি’স্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য! কারা রয়েছে এইসবের পেছনে? রূপসার কথায় সামনে এল নেপথ্যের নাম?
লাইভের শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটাক্ষের বিরুদ্ধেও সরব হন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে একটি ছবি তোলা বা কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে সেই ব্যক্তির চরিত্র, মতাদর্শ বা উদ্দেশ্য নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। বিশেষ করে মহিলা শিল্পীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য ও অপমানজনক প্রচার বন্ধ হওয়া দরকার বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছেও তিনি আবেদন জানান, যাতে এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অপরাজিতার কথায়, দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিল্পী নানা চাপ ও অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পুরো ঘটনা জানা এবং সব দিক বিবেচনা করা জরুরি।






