“রাজনীতির ডাক এসেছিল, কিন্তু আমি আর অরিন্দম কেউই যাইনি…” যেখানে কেউ উপেক্ষা করতে পারতেন না রাজনীতির ডাক সেখানে কিভাবে মঞ্চে ওঠার সুযোগ পেয়েও পিছিয়ে এসেছিলেন খেয়ালী দস্তিদার ও অরিন্দম? কেনই বা যাননি তাঁরা? জানলে চমকাবেন

বাংলা বিনোদন জগৎ এবং রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। প্রাক্তন সরকার তৃণমূলের আমলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে যে রাজনৈতিক দলগুলি জনপ্রিয় শিল্পীদের নিজেদের কর্মসূচি, সভা বা প্রচারে যুক্ত করতে আগ্রহ দেখায়। তবে এই বিষয়টি নিয়ে শিল্পীমহলের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। কেউ সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন, আবার কেউ নিজেদের শিল্পচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী খেয়ালী দস্তিদারও এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা এবং মতামত তুলে ধরেছেন।

অভিনয়, নাটক, চিত্রনাট্য রচনা এবং সাহিত্যচর্চা একাধিক ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন খেয়ালী দস্তিদার। নাট্য পরিবারে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী বরাবরই স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবন, অভিনয়জগৎ, ট্রোল সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং শিল্পীদের সামাজিক ভূমিকা নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারেই উঠে এসেছে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদানের আমন্ত্রণ পাওয়ার প্রসঙ্গ।

খেয়ালী দস্তিদারের দাবি, এক সময় রাজনৈতিক সভা-মিছিলের জন্য তাঁকে এবং তাঁর স্বামী অরিন্দমকেও ডাকা হয়েছিল। তবে তাঁরা সেই ডাকে সাড়া দেননি। অভিনেত্রীর কথায়, ডাক এলেও তাঁরা কখনও সেই পথে হাঁটতে চাননি। তিনি জানান, তাঁদের কাছে আমন্ত্রণ পৌঁছেছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁরা নিজেদের শিল্পচর্চার জায়গাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি সেই সময়ে নাটকের শো বা অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সময়টা ছিল পরিবর্তনের, তাই সবকিছু নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না।

সাক্ষাৎকারে শিল্পী এবং রাজনীতিকের ভূমিকার পার্থক্য নিয়েও নিজের মতামত জানান খেয়ালী। তাঁর মতে, অভিনয় এবং রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা ক্ষেত্র। একজন ভালো অভিনেতা মানেই তিনি সফল রাজনৈতিক নেতা হবেন, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, শিল্পীর প্রধান শক্তি তাঁর শিল্প, আর রাজনৈতিক নেতার শক্তি মানুষের প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যা সামলানোর ক্ষমতা। এই দুই ক্ষেত্রকে এক করে ফেললে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্য, শিল্পীদের অনেকেই আবেগ বা পরিস্থিতির কারণে রাজনীতিতে যোগ দেন, কিন্তু সবার পক্ষে সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা সম্ভব হয় না।

আরও পড়ুনঃ ব্লকবাস্টার জুটি থেকে ব্যর্থ জুটি! টিআরপি কাঁপানো ধারাবাহিক ‘গাঁটছড়া’ ছিল সাফল্যের গল্প, ‘মিলন হবে কত দিনে’ শুরুর কয়েক মাসেই শেষ! পছন্দের জুটি সত্ত্বেও কেন মিলল না কাঙ্ক্ষিত সাফল্য? শোলাঙ্কি ও গৌরবকে ঠিকমতো ব্যবহারই করা গেল না, ক্ষোভ দর্শকদের!

একইসঙ্গে বর্তমান সময়ের ট্রোল সংস্কৃতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সামাজিক মাধ্যমে এখন সমালোচনা করা খুব সহজ হয়ে গেছে। অনেক সময় একজন শিল্পীর বহু বছরের পরিশ্রমকে কয়েকটি মন্তব্যের মাধ্যমে খাটো করে দেখা হয়। তিনি মনে করেন, শিল্পীদেরও ভুল হতে পারে, কিন্তু তাঁদের কাজের মূল্যায়ন করার সময় সেই দীর্ঘ সাধনা এবং পরিশ্রমের কথাও মাথায় রাখা উচিত। সব মিলিয়ে, এই সাক্ষাৎকারে খেয়ালী দস্তিদার শুধু নিজের অভিজ্ঞতার কথাই বলেননি, বরং শিল্প, সমাজ, রাজনীতি এবং মানুষের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তুলে ধরেছেন।

You cannot copy content of this page