“সব পুরুষই ধ’র্ষণ করে…” বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় তুললেন অরুণ ব্যানার্জি! সমাজকে কোন আয়নায় দেখাতে চাইলেন প্রবীণ অভিনেতা? পুরুষদের নিয়ে এমন মন্তব্যের নেপথ্যে কী দিলেন যুক্তি?

ধ’র্ষণ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের মানসিকতা, পারিবারিক শিক্ষা এবং নারী-পুরুষ সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। দেশের নানা প্রান্তে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে এলে বারবার উঠে আসে একই প্রশ্ন কেবল কঠোর আইন করলেই কি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, নাকি বদলাতে হবে সমাজের চিন্তাধারাও? এই বিতর্ক নতুন নয়। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারী নিরাপত্তা, পারিবারিক সংস্কার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনাও আরও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি এই বিষয়েই নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরে আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রবীণ অভিনেতা অরুণ ব্যানার্জি।

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অরুণ ব্যানার্জি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তাঁকে অধিকাংশ সময়ই দর্শক দেখেছেন বিভিন্ন চরিত্রাভিনেতার ভূমিকায়। সিনেমা, টেলিভিশন ও ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে। তবে বর্তমানে তাঁকে আগের মতো নিয়মিত অভিনয়ে দেখা না গেলেও সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিতে দেখা যায়। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও আলোচনায় তিনি নিজের অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এবারও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এবং পারিবারিক মানসিকতা নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি করেছে।

অরুণ ব্যানার্জি বলেন, ধর্ষণ সব পুরুষই করে, কয়েকজন অপরাধীই এই কাজ করে থাকে। তবে বিষয়টিকে তিনি আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, যদি উল্টোভাবে বিচার করা হয়, তাহলে অনেক পুরুষের মধ্যেই নারীর প্রতি এক ধরনের মানসিক আগ্রাসন বা দখলদারির প্রবণতা কাজ করে। তাঁর কথায়, কেউ কেউ সেই মানসিকতাকে বাস্তবে রূপ দেয়, আবার অনেকে বিভিন্ন সামাজিক বাধা, ভয় বা ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে তা করে না। তিনি মনে করেন, শুধু অপরাধীকে চিহ্নিত করলেই সমস্যার মূল কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না, সমাজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা মানসিকতাকেও প্রশ্ন করা জরুরি।

প্রবীণ অভিনেতার মতে, এই সমস্যার সমাধান সহজ নয় এবং কেবল আইন করে তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন না। তাঁর বক্তব্য, সমাজে নারীদের আরও সচেতন হওয়া দরকার। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে একজন নারীর সম্মান নষ্ট করার পিছনে অন্য নারীর ভূমিকাও থেকে যায়। পরিবার ও সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে, সেটাকেও তিনি এই সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ভিন্ন ধরনের আচরণ করা হয়, যা পরবর্তীতে সমাজের মানসিকতাকে প্রভাবিত করে।

আরও পড়ুনঃ অবসর ঘোষণার দীর্ঘদিন পর ফের ফিকশনে সব্যসাচী চক্রবর্তী! মা’রণ রো’গকে হারিয়ে স্বামীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ফিরছেন মিঠু চক্রবর্তীও! পর্দায় ফিরছে বাস্তবের দম্পতি, কোথায় দেখা যাবে তাঁদের?

এই প্রসঙ্গে নিজের পরিবারের উদাহরণও তুলে ধরেন অরুণ ব্যানার্জি। তিনি বলেন, তাঁর বাড়িতে মা বা ঠাকুমারা আগে ছেলেদের খেতে দিতেন, তারপর মেয়েদের। এই প্রথা দেখে ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত মেয়েদের কি খিদে পায় না? কেন তাদের পরে খেতে হবে? অভিনেতার মতে, এই ধরনের ছোট ছোট বৈষম্যই সমাজে নারী-পুরুষের অসম অবস্থানকে স্বাভাবিক করে তোলে। তাই ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো বড় সমস্যার সমাধান খুঁজতে হলে শুধু অপরাধীর শাস্তির দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের মানসিকতা ও শিক্ষাব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে।

You cannot copy content of this page