মমতার আদর্শে গ্ল্যামার ছেড়ে সাদা শাড়ি, চটিতে সেজে ছোট মমতা সেজেছিলেন সায়নী, ভোটের ধাক্কার পর‌ই দিদিপন্থী’ লুক ছেড়ে নতুন অবতারে প্রাক্তন যুবনেত্রী! জিন্স টপে দেখে সমাজমাধ্যমে কটা’ক্ষ “রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাতেই কি বদলে গেল ব্র্যান্ডিংও?”

তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ধাক্কার পর দলের একাধিক নেতানেত্রীর অবস্থান, বক্তব্য এবং আচরণ নিয়ে যেমন জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তেমনই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন যুব তৃণমূল সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। ভোটের ফল প্রকাশের পর কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে তাঁর বিমানবন্দর লুক দেখে অনেকেই যেন চোখ কচলাতে বাধ্য হয়েছেন। এতদিন যে সায়নীকে সাদা সুতির শাড়ি, ছোট টিপ, সাধারণ খোঁপা আর ‘দিদি-ঘরানার’ সাজে দেখা যেত, সেই সায়নী এখন জিনস, টি-শার্ট, স্নিকার্স আর নতুন হেয়ারস্টাইলে একেবারে অন্য অবতারে ধরা দিচ্ছেন। আর সেই বদল নিয়েই শুরু হয়েছে জোর ট্রোলিং।

রাজনীতিতে আসার পর থেকেই সায়নী ঘোষকে অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজপোশাক ও জীবনযাপনের ধাঁচ অনুসরণ করতে দেখেছেন। অভিনয় জগতের গ্ল্যামারাস ইমেজ ছেড়ে তিনি নিজেকে তুলে ধরেছিলেন একেবারে সাধারণ, মাটির কাছাকাছি থাকা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ইমেজ তৈরি করার পিছনে ছিল দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে দেখানোর চেষ্টা। কিন্তু ভোটে দলের ভরাডুবির পর সেই ‘সাধারণ’ লুক যে দ্রুত অতীত হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কম কটাক্ষ হচ্ছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সাধারণ থাকার দর্শন কি তবে নির্বাচনের ফলের সঙ্গেই উধাও হয়ে গেল?

এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে ভাইরাল হয়েছে গত বছরের নভেম্বর মাসে দেওয়া সায়নী ঘোষের একটি সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, তিনি যে নেত্রীর দল করেন, তাঁর মতোই সাধারণ থাকতে চান। সায়নীর কথায়, “আমি যাঁর দল করি, আমাকে তাঁর মতো দেখতে লাগে, আমি তাঁর মতো সাধারণ থাকতে চাই। তাঁর মতোই মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই।” এমনকি তিনি আরও বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যত বেশি দেখছেন, তাঁর সাধারণ জীবনযাপন তত বেশি নিজের ওপর প্রভাব ফেলছে। সেই মন্তব্যই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় টেনে এনে নেটিজেনদের একাংশ নানা ধরনের খোঁচা দিতে শুরু করেছেন।

সমালোচকদের বক্তব্য, কয়েক মাস আগেও যিনি ‘দিদির মতো সাধারণ হওয়া’কে নিজের রাজনৈতিক আদর্শের অংশ হিসেবে তুলে ধরছিলেন, তিনি হঠাৎ করেই কেন সম্পূর্ণ বিপরীত ইমেজে হাজির হলেন? কেউ বলছেন, ভোটের ফলের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, তাই বদলেছে ব্র্যান্ডিংও। আবার কেউ কটাক্ষ করে লিখছেন, “শাড়ি গেল, টিশার্ট এল, আদর্শও কি সঙ্গে গেল?” যদিও সায়নী নিজে এই পরিবর্তন নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে বিশেষ কিছু বলেননি। ফলে তাঁর নতুন সাজ শুধুই ব্যক্তিগত পছন্দ, নাকি রাজনৈতিক বার্তা সেই জল্পনা আরও বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ ‘চারুলতা’ থেকে ‘হীরক রাজার দেশে’, সত্যজিতের ছবিতে যাঁর অভিনয় বাঙালির স্মৃতিতে অমর! শেষে সেই অভিনেতাই পঙ্গু হয়ে অবহেলায় মা’রা যান! কামু মুখোপাধ্যায়ের এমন করুণ পরিণতির কারণ কী?

তবে বাস্তবতা হল, একজন রাজনীতিকের পোশাক পরিবর্তন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে তা প্রায়শই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জন্ম দেয়। আর সায়নী ঘোষের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে। যে নেত্রী একসময় প্রকাশ্যে বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপন তাঁকে প্রভাবিত করে, সেই নেত্রীর বর্তমান লুক বদল এখন রাজনৈতিক মহল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সব জায়গাতেই আলোচনার বিষয়। ফলে এই মেকওভার শুধুই ফ্যাশনের পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে ট্রোল, বিতর্ক এবং জল্পনার খোরাক হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page