আরজি কর আন্দোলনের সময় রাজ্যের তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়া শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিনেত্রী ‘সোহিনী সরকার’ (Sohini Sarkar)। সেই সময় আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছিলেন তিনি। অনেকের মতো তাঁর বিরুদ্ধেও অঘোষিতভাবে কাজের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করা হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলেছে। সম্প্রতি ‘রঘু ডাকাত’ ছবির জন্য একটি সিনে অ্যাওয়ার্ড জেতার পর আবারও সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। তবুও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। পুরনো সেই অধ্যায় নিয়েই এবার খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোহিনী বলেন, “সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে, এরকম কিছু একটা হবে। এটাই প্রত্যাশিত। এটা জেনেই আমি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম।” তিনি আরও জানান, এমনটা আশা করেননি যে সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়ার পর তাঁকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হবে। অভিনেত্রীর কথায়, “এমনটা তো নয়, আমি সরকারের বিরুদ্ধে যাব আর তারা আমাকে মাথায় তুলে রাখবে। বলবে, ‘এটাই তো হওয়া উচিৎ’ বা ‘এটাই তো গণতান্ত্রিক অধিকার’।” তাঁর মতে, বিরোধিতাকে শাসকপক্ষ সবসময়ই শত্রুতা হিসেবেই দেখেছে। শুধু তিনি নন, সেই সময় যারা মুখ খুলেছিলেন, তাঁদের অনেককেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অভিনেত্রীর দাবি, কোনও শিল্পীর কাজ বন্ধ করে দেওয়াই তাকে সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলার উপায়। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “বিরোধীতা করাকে সবসময়ই তারা শত্রু বলে মনে করেছে, আমাকে কেন, আমাদের মতো যারা মুখ খুলেছিলেন প্রত্যেকে। ফলে কীভাবে একজন আর্টিস্টকে সায়েস্তা করা যায়, তার কাজ বন্ধ করলে তাঁকে ভাতে মারা যাবে। একজন ডাক্তারের প্র্যাক্টিস বন্ধ করে দিলে তেমনই হবে।” সোহিনী জানান, এই সম্ভাবনার কথা তিনি আগেই ভেবেছিলেন। ফলে মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েই আন্দোলনের পথে নেমেছিলেন। তিনি জানতেন, এর প্রভাব তাঁর পেশাগত জীবনে পড়তে পারে। তবুও নিজের অবস্থান বদলানোর কথা ভাবেননি।
সোহিনী বলেন, আন্দোলনের পর বিভিন্ন সময়ে তিনি শুনেছেন যে তাঁকে নাকি ‘ব্যান’ করা হয়েছে। যদিও এই নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করেননি অভিনেত্রী। তাঁর বিশ্বাস ছিল, প্রয়োজনে তিনি অন্য কোনও পথ খুঁজে নিতে পারবেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার নিজের উপর এতটা কনফিডেন্স আছে যে, আমি কিছু একটা করেই নেব। এমন একটা কিছু করে নেব যাতে আমার থাকা-খাওয়ার খরচ উঠে যায়।” অভিনেত্রীর মতে, জীবনে বিলাসিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজের পরিশ্রমে যতটুকু উপার্জন করেন, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট। আর প্রয়োজনে নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে বলেও জানান।
বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে এবং ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। সেই প্রেক্ষিতে নতুন প্রশাসনের কাছে তাঁর প্রত্যাশা কী, সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল সোহিনীকে। উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, “একটা শিশু জন্ম নিয়েছে, সে বড় হোক। সে বুঝুক, কাজ করুক। কাজ করলে ভালোই লাগবে। কাজ হলে কোনো সাধারণ মানুষের তো খারাপ লাগার কথা নয়!” নতুন সরকারকে সময় দেওয়ার পক্ষেই মত প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি আলোচনায় রয়েছেন সোহিনী সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংগীতশিল্পী শোভন গাঙ্গুলীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর থেকেই এই তারকা দম্পতিকে নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি টলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে তাঁদের পরিবারে নাকি নতুন সদস্য আসতে চলেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সোহিনী বা শোভন। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই নিশ্চিত হয়নি।
আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদ টেলিপাড়ায়! ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রীর রহস্যমৃ’ত্যু! মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিলেন হাসিখুশি, পোস্টও করেছিলেন সামাজিক মাধ্যমে! হঠাৎ কী করে হলো এমন পরিণতি? স্তম্ভিত বিনোদন জগৎ, ঘনাচ্ছে রহস্য!
উল্লেখ্য, আরজি কর আন্দোলনের সময় সোহিনীর কিছু মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময় দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগও প্রকাশ্যে এসেছিল। আর এখন মাতৃত্বের গুঞ্জনের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে পেশাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা, সবকিছু নিয়েই এবার খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। ফলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত দুই কারণেই তিনি আবারও খবরের শিরোনামে।






