“টলিপাড়ায় যোগ্য আর অযোগ্যদের মেলা চলছিল, অযোগ্যরা টাকা দিয়ে প্রবেশ করত, যোগ্যরা কাজ পেতনা” বিস্ফো’রক মন্তব্য পাপিয়া অধিকারীর! যোগ্যদের কাজের সুযোগ, স্বচ্ছ নির্বাচন থেকে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি ফেরানোর লড়াই নিয়ে কী বার্তা দিলেন অভিনেত্রী-বিধায়ক?

বাংলার বিনোদন জগতকে ঘিরে গত কয়েক বছরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। টলিউডের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব, কাজ বণ্টনে পক্ষপাতিত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং বিরোধী মতের শিল্পীদের কোণঠাসা করার অভিযোগ বারবার উঠেছে। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলী প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে কাজ পাওয়া বা না পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিভার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত পরিচয় ও গোষ্ঠীগত সমর্থন। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই ‘গুন্ডা কালচার’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি উঠছিল।

এই বিষয়টি নিয়ে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী-কে। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর তিনি টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন অসঙ্গতি ও অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় না এবং সেখানে নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা চলে। পাপিয়া অধিকারীর দাবি, যোগ্য মানুষদের সুযোগ না দিয়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা গোষ্ঠীগত প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত প্রতিভারা বঞ্চিত হয়েছেন।

সম্প্রতি পূর্বাঞ্চলীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজক সংস্থা বা (EIMPA)-র নির্বাচন প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন তিনি। পাপিয়া অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংস্থার সভাপতি নির্বাচন সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট পদের কোনো সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলে সেই পদকে সামনে রেখে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে নিয়ম মেনে নির্বাচন হওয়া জরুরি এবং সেখানে সকল যোগ্য সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি বিশেষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে তা শিল্পের পক্ষে ক্ষতিকর।

শুধু নির্বাচন নয়, টেকনিশিয়ান, স্টুডিও মালিক এবং প্রযোজকদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। তিনি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়েছেন এমন একটি কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার উপর, যেখানে কাজের মূল্যায়ন হবে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। তাঁর বক্তব্য, শিল্পী থেকে টেকনিশিয়ান প্রত্যেকেরই সম্মানজনকভাবে কাজ করার অধিকার রয়েছে এবং সেই পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুনঃ “গত ২৪ ঘণ্টায় আমি…আমার খারাপ লাগাটাও আপনাদের মতোই” “অনেক কিছু সহ্য করেছি, কম্প্রোমাইজ তখনই সম্ভব, যখন…” প্রিয় ‘রাহুল’কে হারিয়ে ক্ষি’প্ত দর্শক, বউ প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে কটা’ক্ষ হতেই ফের পোস্ট করতে বাধ্য হলেন শুভ্রজিৎ! মুখ খুলতেই নতুন বি’তর্ক, কী বললেন তিনি?

এছাড়াও সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতের পরিচালক ও কলাকুশলীদের সঙ্গে বৈঠকের পর পাপিয়া অধিকারী জানান, রাজ্যের বাইরে থেকে আসা প্রোডাকশন হাউসগুলোকেও বাংলায় কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধার মুখে পড়তে হবে না। তিনি মনে করেন, বাইরের সংস্থাগুলির আগমন কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং ইন্ডাস্ট্রিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে পাপিয়া অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর লক্ষ্য টলিউডকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া যেখানে ‘যোগ্যদের মেলা’ বসবে, আর কাজ পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হবে প্রতিভা ও দক্ষতা।

You cannot copy content of this page