‘হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেল, ওর জ্ঞান ফেরাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল…’ পর্দার ঝলমলে হাসির আড়ালে অসম্ভব শারী’রিক ক’ষ্ট! স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কোন ভয়ংকর ঘটনার কথা ভাগ করলেন পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়? জানেন, কোন ছবির শুটিং চলাকালীন ঘটেছিল?

চলচ্চিত্র বা ধারাবাহিকের পর্দায় দর্শকরা যে রঙিন জগত দেখেন, তার পিছনে থাকে অসংখ্য মানুষের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং সংগ্রাম। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে শুধু অভিনয় করলেই হয় না, চরিত্রের প্রয়োজনে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ করতে হয়। কখনও তীব্র গরম, কখনও প্রবল ঠান্ডা, আবার কখনও দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলে শুটিং করতে হয়। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী এমন পোশাক বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যা তাঁদের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। দর্শকদের সামনে নিখুঁতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার দায়িত্বও তাঁদের কাঁধে থাকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়েই মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের সঙ্গে যুক্ত এই পরিচালক তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নানা অজানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের পেশাগত জীবনে কতটা চাপ এবং দায়িত্ব থাকে, সেই বিষয়টি নিয়েই তিনি বিস্তারিত কথা বলেন। তাঁর মতে, ক্যামেরার সামনে সবসময় নিজেকে নিখুঁত ও উপস্থাপনযোগ্য রাখা অভিনেত্রীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি দায়িত্ব।

সাক্ষাৎকারে বীরেশ চট্টোপাধ্যায় একটি পুরনো শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানান, তাঁর একটি ছবির গানের দৃশ্যের শুটিং চলছিল বরফে ঢাকা একটি এলাকায়। সেই দৃশ্যে অভিনেতা জিৎকে দেখা যাচ্ছিল একটি চামড়ার জ্যাকেট পরে গিটার হাতে গান গাইতে। কিন্তু একই দৃশ্যে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে অনেক হালকা পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়েছিল। চারপাশে ছিল তীব্র ঠান্ডা এবং বরফে ঢাকা পরিবেশ। সেই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ শুটিং করতে গিয়ে স্বস্তিকা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিচালকের কথায়, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে স্বস্তিকা শেষ পর্যন্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একজন অভিনেত্রীকে অনেক সময় কী ধরনের শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়, তা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারেন না। তাঁর ভাষায়, একই পরিবেশে একজন অভিনেতা যেখানে মোটা জ্যাকেট পরে রয়েছেন, সেখানে অভিনেত্রীকে চরিত্রের প্রয়োজনেই অনেক কম শীতবস্ত্র পরে অভিনয় করতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে অভিনেত্রীদের প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছে। তিনি বলেন, দর্শকরা পর্দায় যে সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতা দেখেন, তার পিছনে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে প্রবল শারীরিক যন্ত্রণা।

আরও পড়ুনঃ “সরকার বদলের পরে আর নিরাপদ নই…অবাঙালিকুল ভাবছে বিজেপির এসেছে মানে বাংলার মেয়েরা এবার সহজলভ্য” দু’দিনে পরপর দু’বার ইভ’টিজিং ও শারী’রিক হেন’স্থার শি’কার রূপালি রাই ভট্টাচার্য! প্রকাশ্য রাস্তায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে বি’স্ফোরক অভিযোগে সবর অভিনেত্রী! ঠিক কী ঘটেছে?

বীরেশ চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, স্বস্তিকা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর দ্রুত তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা শুরু হয়। ঠান্ডার কারণে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নানা উপায় অবলম্বন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে পরিচালক বলেন, অভিনেত্রীদের দায়িত্ব অনেক বেশি, কারণ তাঁদের শুধু অভিনয় করলেই হয় না, পাশাপাশি চরিত্রের সৌন্দর্য, উপস্থিতি এবং পর্দার আবেদনও ধরে রাখতে হয়। তাঁর এই মন্তব্য আবারও মনে করিয়ে দেয় যে বিনোদন জগতের চাকচিক্যের আড়ালে শিল্পীদের জীবনে কতটা পরিশ্রম, ত্যাগ এবং সংগ্রাম লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে সেই সংগ্রাম অনেক সময় দর্শকদের চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

You cannot copy content of this page