মুখ্যমন্ত্রীর ছেলেকে বিয়ে, মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে মৃ’ত্যু হয় অভিনেত্রীর স্বামীর! সংসার শুরুর আগেই বিধবা, সমাজের দো’ষারোপ সহ্য করে কীভাবে আবার নিজের পরিচয় ফিরে পেলেন তিনি? এই অভিনেত্রীর জীবন যেন সিনেমাকেও হার মানায়!

সিনেমার ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে অনেক তারকার জীবনেই লুকিয়ে থাকে গভীর ব্যক্তিগত বেদনা। এমনই এক অভিনেত্রীর জীবনের গল্প আজও অনেককে আবেগপ্রবণ করে। অভিনয়ে সাফল্যের শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই তিনি এমন এক রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে বিয়ে করেছিলেন, যাঁদের পরিচিতি গোটা দেশজুড়ে। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় শুরু হয়েছিল তাঁর বিবাহিত জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই আকস্মিক এক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে এক মুহূর্তে বদলে যায় তাঁর জীবনের সব হিসাব।

স্বামীর মৃত্যুর ধাক্কা সামলানোর আগেই শুরু হয় আরেক কঠিন লড়াই। অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার জন্য সমাজের একাংশের কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। অনেকেই তাঁকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক বলে দোষারোপ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে আসেন নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে। তবে জীবনের এই কঠিন অধ্যায় তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি। সমস্ত শোক বুকে নিয়েই আবারও অভিনয় জগতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যদিও সেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম ছবিটি দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি।

এরপর জীবনে আবারও আসে ভালোবাসা। কর্মসূত্রে এক জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে তৈরি হয় নতুন সম্পর্ক। বয়সের পার্থক্য এবং পারিবারিক আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয়বার নতুন করে সংসার শুরু করলেও ভাগ্য যেন তাঁর প্রতি আবারও নির্মম হয়ে ওঠে। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় স্বামীকেও হারাতে হয় তাঁকে। পরপর দুই বড় ব্যক্তিগত বিপর্যয় তাঁর জীবনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিলেও তিনি কখনও নিজের লড়াই থামাননি।

অভিনয় জীবন শুরু থেকেই ছিল তাঁর স্বপ্নের জায়গা। ষাটের দশকের শেষ দিকে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। দেশের প্রথম সারির বহু তারকার সঙ্গে কাজ করে খুব অল্প সময়েই দর্শকদের প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন আঘাত বারবার তাঁকে থামিয়ে দিতে চাইলেও পেশার প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরিয়ে আনে।

তাই তাঁর জীবনকে অনেকেই সংগ্রাম, সাহস এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ বলে মনে করেন। এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, তিনি বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী লীনা চন্দাভারকর। ১৯৫০ সালে কর্ণাটকের ধারওয়াড়ে এক সেনা কর্মকর্তার পরিবারে তাঁর জন্ম। ১৯৬৮ সালে ‘মন কা মীত’ ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা হয়। যদিও এর আগে সুনীল দত্ত পরিচালিত একটি ছবিতে তাঁর অভিষেক হওয়ার কথা ছিল। পরে তিনি রাজেশ খান্না ও দিলীপ কুমারের মতো তারকাদের সঙ্গে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ টেলিপাড়ায় ফের দুর্ঘ’টনা! ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন গুরুতর আ’হত সোমা ব্যানার্জি! আঙুলের হাড় সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে! কীভাবে ঘটল এই বিপত্তি? এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?

কর্মজীবনের মধ্যগগনে থাকাকালীন তিনি গোয়ার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী দয়ানন্দ বন্দোদকরের ছেলে সিদ্ধার্থ বন্দোদকরকে বিয়ে করেন। কিন্তু বন্দুক পরিষ্কার করার সময় দুর্ঘটনাবশত গুলি চলায় বিয়ের মাত্র ১১ দিনের মাথায় সিদ্ধার্থের মৃত্যু হয়। পরে তিনি কিংবদন্তি গায়ক ও অভিনেতা কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন। কিশোর কুমারের এটি ছিল তৃতীয় বিবাহবিচ্ছেদের পরের বিয়ে। কিন্তু সেই সংসারও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের সাত বছরের মধ্যেই কিশোর কুমারের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সেও লীনা চন্দাভারকরের জীবনের এই ঘটনাগুলি আজও বলিউডের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

You cannot copy content of this page