টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র (Rupanjana Mitra) অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই নিজের স্পষ্ট মতামতের জন্য আলোচনায় থাকেন। ২০১৯ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনে পা রাখেন। সেই সময় তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে টলিউড থেকে রাজনৈতিক মহল, সর্বত্রই জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই দলবদলও যথেষ্ট আলোচিত হয়। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক পথচলা, দল বদলের সিদ্ধান্ত এবং সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। একই সঙ্গে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
সাক্ষাৎকারে রূপাঞ্জনা প্রথমেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া নানান জল্পনার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন ওই মঞ্চে গেলেই একজন মানুষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে যান। কিন্তু তাঁর মতে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। অভিনেত্রীর কথায়, “একটা ভুল তথ্য বা বিশ্বাস চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে যে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে উঠলেই সে তৃণমূলের সদস্য!” তিনি আরও বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পতাকা হাতে নিয়েই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। তাই শুধুমাত্র কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করা ঠিক নয় বলেই তিনি মনে করেন।
এরপর নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রূপাঞ্জনা জানান, ২০১৯ সালের পর থেকে তাঁর জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, টলিউডে যারা শাসকদলের বিপরীত রাজনৈতিক মত পোষণ করেন, তাঁদের অনেক সময় কাজের ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, শিল্পীর রাজনৈতিক পরিচয়কে কখনওই তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে মিশিয়ে দেখা উচিত নয়। কারণ অভিনয় একটি স্বাধীন পেশা এবং সেখানে ব্যক্তিগত মতাদর্শের জন্য কাজের সুযোগ কমে যাওয়া কাম্য নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে গেলে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
টলিউডের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়েও অভিনেত্রী বেশ স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তাঁর দাবি, ২০১৪-১৫ সাল থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে তথাকথিত ‘ব্যান কালচার’ বা সিন্ডিকেট নিয়ে বহু শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। রূপাঞ্জনার মতে, শিল্পীদের জন্য একটি নিরাপদ এবং স্বচ্ছ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি আরও বলেন, যদি কোনও শিল্পী নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে ভয় পান বা তাঁর বাকস্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য শুভ সংকেত নয়।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, নির্বাচনের পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং নানা বিষয় সামনে আসছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাধারণ মানুষের করের অর্থ দিয়েই সরকারি ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তাই সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, পাপ না করলে, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
আরও পড়ুনঃ ‘হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেল, ওর জ্ঞান ফেরাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল…’ পর্দার ঝলমলে হাসির আড়ালে অসম্ভব শারী’রিক ক’ষ্ট! স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কোন ভয়ংকর ঘটনার কথা ভাগ করলেন পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়? জানেন, কোন ছবির শুটিং চলাকালীন ঘটেছিল?
উল্লেখ্য, অভিনেত্রীর এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর বক্তব্য ঘিরে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক জীবন, দল পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা, টলিউডে কাজের পরিবেশ এবং শিল্পীদের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর খোলামেলা মন্তব্য অনেকেরই নজর কেড়েছে। একদিকে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে শিল্পীদের পেশাগত স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের পক্ষেও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তাঁর এই সাক্ষাৎকার শুধু বিনোদন জগতেই নয়, রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।






