হাওড়ার সালকিয়ার মেয়ে সায়ন্তনী ঘোষ এখন ‘সারেগামাপা’-র মঞ্চে পরিচিত এক নাম। নিজের অসাধারণ কণ্ঠের জোরে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন গ্র্যান্ড ফিনালে পর্যন্ত। তবে এই সাফল্যের পথ একদিনে তৈরি হয়নি। ছোটবেলা থেকে শান্ত, লাজুক এবং অন্তর্মুখী স্বভাবের সায়ন্তনী কখনও নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। আজ সেই মেয়েই হাজার হাজার দর্শকের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গান গেয়ে প্রশংসা কুড়োচ্ছেন। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার নেপথ্যে পরিবারের সমর্থন থাকলেও সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন তাঁর মা নেলি ঘোষ।
সালকিয়া কে. বি. আর. গার্লস স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর সায়ন্তনী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি গান নিয়েও নিয়মিত চর্চা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর বাবা পোশাক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হওয়ায় স্বপ্নপূরণের পথে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু পরিবারের উৎসাহ, বিশেষ করে মায়ের অবিচল বিশ্বাস তাঁকে বারবার এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে। আজ তাঁর সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, গোটা সালকিয়ার মানুষও গর্ব অনুভব করছেন।
সায়ন্তনীর মা নেলি ঘোষ প্রথম থেকেই বুঝেছিলেন, মেয়ের মধ্যে গানকে ঘিরে বিশেষ প্রতিভা রয়েছে। তাই ছোটবেলা থেকেই তিনি সায়ন্তনীকে ভয় কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। যে মেয়ে ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চাইত, সেই মেয়েকেই তিনি ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন। রিয়্যালিটি শো-এর মতো বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সাহসও এসেছে সেই নিরন্তর অনুপ্রেরণা থেকেই। মা-মেয়ের এই লড়াই আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা ভাগ করে নেন সায়ন্তনী। সেখানে তিনি লেখেন, “মা প্রথম সাহস জুগিয়েছিল। বাকি জীবনটা আমি সঙ্গীতের জন্যই উৎসর্গ করলাম।” এই কয়েকটি কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর জীবনে মায়ের গুরুত্ব কতটা। নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি একার নয়, বরং মায়ের ত্যাগ, পরিশ্রম এবং বিশ্বাসকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। সেই পোস্টও অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে পৌঁছনো সহজ কাজ নয়। দীর্ঘ অনুশীলন, ধৈর্য এবং পরিবারের সমর্থনের ফলেই আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন সায়ন্তনী। তাঁর যাত্রাপথে কোনও শর্টকাট ছিল না, ছিল শুধু নিরলস পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নকে সত্যি করার ইচ্ছা। তাই তাঁর এই সাফল্যকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন অনেকেই।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রাক্তন হলেও মমতার সঙ্গে আমার মনের টান চিরকাল থাকবেই…২৬-এর বিধানসভার পর বুঝেছি, মানুষের জন্য কাজ করতে কোনও দলের ট্যাগের প্রয়োজন হয় না!’ ‘যার মনে পাপ নেই, তার ভয় পাওয়ারও কোনও কারণ নেই!’ কাকে উদ্দেশ্য করে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা রূপাঞ্জনা মিত্রের?
এখন সকলের নজর ‘সারেগামাপা’-র গ্র্যান্ড ফিনালের দিকে। দর্শকদের বড় অংশের আশা, সায়ন্তনী নিজের সুরের জাদু দিয়ে শেষ লড়াইটাও জিতে নেবেন। তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, তাঁর এই পথচলা ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। এক লাজুক মেয়ের আত্মবিশ্বাসী শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প এবং এক মায়ের অটুট বিশ্বাসের কাহিনি আজ অনেকের কাছেই নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।






