গত কয়েকদিন ধরেই ইউটিউবার গৌরব তপাদারকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক চলছে। প্রাক্তন অন্তরার প্রকাশ করা কিছু চ্যাট সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা। কেউ গৌরবের বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে অন্তরার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরই মধ্যে গতকাল এক সাক্ষাৎকারে গৌরব এবং তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো ঘটনা টেনে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। সেই সাক্ষাৎকারেই গৌরব ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক দাবি করেন। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি ভিডিও প্রকাশ করে প্রায় প্রতিটি বক্তব্যের জবাব দেন অন্তরা।
ভিডিওর শুরুতেই অন্তরা বলেন, তাঁর বাবাকে নিয়ে যে তথ্য প্রকাশ্যে বলা হয়েছে, তার অনেকটাই বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। গৌরব দাবি করেছিলেন, অন্তরার বাবার স্ট্রোক হয়েছিল এবং সেই সময় তিনি ও তাঁর বাবা গিয়ে সব ব্যবস্থা করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, অন্তরাদের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাঁরা নাকি ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারেননি। এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অন্তরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর বাবার কোনওদিন স্ট্রোকই হয়নি। একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল ঠিকই, প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তিনি এবং তাঁর মা বাবাকে মুকুন্দপুরের আমরি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
তাঁর দাবি, সেই সময় গৌরবদের সিকিম বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং হাসপাতালে বাবাকে একবার দেখে সেদিনই তাঁরা ঘুরতে চলে যান। অথচ এখন বলা হচ্ছে, তাঁর বাবাকে নাকি সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়েছিলেন গৌরবরা। অন্তরা জানান, এই বিষয়ে তাঁর কাছে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি সেগুলিও প্রকাশ করবেন। শুধু তাই নয়, আর্থিক সাহায্যের দাবিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন অন্তরা। তাঁর কথায়, তাঁদের পরিবারের কোনও আর্থিক সমস্যা ছিল না। বরং প্রতি বছরই তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেতেন এবং সেই সমস্ত ভ্রমণের খরচও নিজেরাই বহন করতেন। তাই গৌরবের পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেই দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে ফোনটি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, সেটি কোনও উপহার ছিল না। তাঁর দাবি, গৌরবের পডকাস্টে অতিথিদের মেকআপ করার জন্য তিনি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে কাজ করতেন। কিন্তু সেই টাকা না দিয়ে গৌরব তাঁকে ওই ফোনটি দেন এবং বলেন, পারিশ্রমিকের অর্থ ফোনের ইএমআই হিসেবেই কেটে নেওয়া হবে। অন্তরার মতে, তিনি যে পরিমাণ কাজ করেছিলেন, তার মূল্য ওই ফোনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ভিডিওতে গৌরবের পরিবারের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও একাধিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অন্তরা। তিনি জানান, একসময় গৌরবের বাবার চোখের অপারেশনের দিন গৌরব কনটেন্ট তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকায় হাসপাতালে যেতে পারেননি।
সেই সময় তিনিই গৌরবের বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এমনকি অপারেশনের পর কয়েকদিন নিয়মিত ড্রেসিং করানোর দায়িত্বও তিনি পালন করেন। অন্তরার দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা গৌরবকে রোগীর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেও রাজি হননি, কারণ তিনি বাবার চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পাশাপাশি তিনি আরও একটি ঘটনার কথা বলেন। দুই পরিবার একসঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে গৌরবের বাবা অসুস্থ হয়ে হোমস্টের বাথরুমে বমি করলে কর্মীরা পরিষ্কার করতে অস্বীকার করেন। সেই পরিস্থিতিতে নিজের বাবার মতো ভেবেই তিনি নিজে হাতে সব পরিষ্কার করেছিলেন বলে জানান অন্তরা।
অন্তরা আরও দাবি করেন, গৌরবের ইউটিউব যাত্রার শুরুতে তিনি এবং তাঁর পরিবার সবসময় পাশে ছিলেন। তিনি নাকি বিভিন্ন মানুষের কাছে গিয়ে গৌরবের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ করতেন। এমনকি গৌরবের প্রথম ফ্যান ক্লাবও তিনিই খুলেছিলেন বলে দাবি করেন অন্তরা। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনওদিন গৌরবের কাছে টাকা চাননি। বরং এমনও সময় ছিল, যখন গৌরব নিজেই তাঁর কাছে হাত পেতে টাকা নিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নিজের পিঠ বাঁচাতে অন্যকে ছোট করতে গেলে প্রমাণের প্রয়োজন হয়, যেটা গৌরবের কাছে নেই। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি কয়েকটি চ্যাটের স্ক্রিনশটও দেখান। পাশাপাশি জানান, এই মুহূর্তে তিনি বাড়ির বাইরে রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মেয়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়ে লড়েছিলেন মা! সেই অদম্য জেদ আর ত্যাগের জোরেই আজ সারেগামাপা-র গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে সায়ন্তনী ঘোষ! এই মা ও মেয়ের গল্পটা জানলে চোখ ভিজতে বাধ্য! আপনাদের কী মনে হয়, শেষ লড়াইয়েও জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে গায়িকা?
বাড়ি ফিরেই হাসপাতালের বিল-সহ সমস্ত নথি প্রকাশ করবেন বলেও দাবি করেন তিনি। এই ভিডিও প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে গোটা বিতর্ক। গৌরবের বক্তব্যের বিপরীতে অন্তরার একের পর এক পাল্টা দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এদিকে এই বিতর্কের মাঝেই সামনে এসেছে গৌরব ও অন্তরার এক পুরনো পরিচিতের দাবি, পরিচিতি পাওয়ার আগে পাটুলির চায়ের আড্ডায় চা-সিগারেটের খরচ থেকে শুরু করে গিটারের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মেট্রোর ভাড়াও নাকি অনেক ক্ষেত্রে অন্তরাই দিতেন। এমনকি গৌরব নিজেই হাত পেতে সেই টাকা নিতেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।






