বড়পর্দা হোক বা ওটিটি, বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকদের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় পরিচালিত ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিতে আবারও নজর কেড়েছেন তিনি। বাইরে থেকে তাঁর জীবন যতটা স্বচ্ছল বলে মনে হয়, ছোটবেলাটা কিন্তু ততটা বিলাসিতার মধ্যে কাটেনি। এক সাক্ষাৎকারে নিজের বেড়ে ওঠা, পারিবারিক শিক্ষা এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলিভাবে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। সেই কথাতেই উঠে এসেছে তাঁর শৈশবের একেবারে অন্য ছবি।
অর্জুন জানান, তিনি এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে টানা চার পুরুষ চিকিৎসক ছিলেন। তবুও ছোটবেলা থেকে তাঁকে কোনও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বড় করা হয়নি। বরং পরিবারের নিয়ম ছিল অত্যন্ত কঠোর। অভিনেতার কথায়, “নিজের কাছে টাকা রাখার অধিকার ছিল না… পাড়ার মুদির দোকানে বলা ছিল, যা দরকার আমাদের দিয়ে দিতে। বাড়ির গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না, বাস আসবে স্কুলের জন্য।” অর্থাৎ আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলেও সন্তান যেন তার মূল্য বোঝে, সেই শিক্ষাই দিতে চেয়েছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
শুধু তাই নয়, পড়াশোনা এবং শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও কোনও ছাড় ছিল না। অর্জুন জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁকে বারবার একটি কথাই শুনতে হতো, “নিজের পরিচয়ে বড় হয়ে দেখাও।” পরিবারের পরিচয় বা পেশার আড়ালে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তিনি পাননি। স্কুলে কোনও ভুল করলে সেখানকার শাস্তিতেই শেষ হতো না, বাড়ি ফিরে আরও শাসনের মুখে পড়তে হতো। তাঁর মতে, সেই কঠোর নিয়মই তাঁকে ধীরে ধীরে আরও দায়িত্বশীল এবং আত্মনির্ভর হতে শিখিয়েছে।
কিছুটা বড় হওয়ার পর হস্টেলে থাকতে শুরু করেন অর্জুন। এরপর জীবনের আরও কঠিন অধ্যায় শুরু হয় মুম্বইয়ে। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে নতুন শহরে গিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। সেই সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও ছোটবেলার শিক্ষা তাঁকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। নিজের পরিশ্রম এবং ধৈর্যের উপর ভরসা রেখেই ধাপে ধাপে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। অভিনেতার মতে, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও পরিণত করেছে এবং মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ “কলকাতা একদিন কল্ললিনী তিলোত্তমা হবে…কিন্তু তিলোত্তমারা আজ ভালো নেই” বিয়ের রাতেই প্রাণ হারাবে সুস্মিতা, প্রতিশোধ নিতে ফিরবে কে? প্রকাশ্যে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘তিলোত্তমা’ প্রথম ঝলক! প্রেম ও অ্যা’কশনে ভরপুর গল্পে লুকিয়ে দারুণ চমক, শুরু হচ্ছে কবে থেকে?
পরিবার থেকে পাওয়া মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে অর্জুন বলেন, “কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা দম্ভ দেখানোর পরিবেশ ও শিক্ষা দুটোই পাইনি। ভাগ্যিস পাইনি। মা, বাবা, ও বাড়ির বড়দের জন্য গর্ব হয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের মতো ব্যবহার করার মধ্যে একধরনের নেশা কাজ করে। একমাত্র সেই বোঝে যে এই মৌতাতে বুঁদ হয়ে থাকে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তিনি আজও পারিবারিক শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধকেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে মনে করেন।






