“সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া বা কমিটমেন্টহীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সন্তান!” “ভালোবাসা থাকলে বিয়েতে আপত্তি কোথায়?” দায়বদ্ধতা ছাড়া সম্পর্ক কতটা সঠিক? লিভ ইন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুললেন মমতা শঙ্কর, বললেন বিজেপির কোন নিয়ম আমাদের জন্য ভালো? আপনারাও কি অভিনেত্রীর সঙ্গে একমত?

অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করার জন্য বরাবরই পরিচিত। এর আগেও নারীদের পোশাক, শাড়ির আঁচল পরার ধরন, আধুনিক জীবনযাপন এবং নারী স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে বিস্তর আলোচনা তৈরি হয়েছিল। এবারও একটি সাক্ষাৎকারে লিভ ইন সম্পর্ক, বিয়ে, সন্তান এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মন্তব্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকেই এর বিরোধিতা করেছেন।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর বলেন, যদি দু’জন মানুষের মধ্যে সত্যিকারের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি অটুট প্রতিশ্রুতি থাকে, তাহলে তাঁরা বিয়ে ছাড়াও একসঙ্গে থাকতে পারেন। তাঁর কথায়, “যদি দু’জন মানুষের মধ্যে সত্যিকারের বিশ্বাস, ভালোবাসা থাকে, একে অপরের প্রতি অটুট কমিটমেন্ট থাকে, তারা যদি সারাজীবন সেই ব্যাপারটাই রাখে যে, হ্যাঁ আমরা একসঙ্গে থাকব। বিয়ে হয়নি, কিছু হয়নি, কিন্তু তাও আমরা একসঙ্গে থাকব, তাহলে ঠিক আছে।” তবে তাঁর মতে, পরিস্থিতি বদলে যায় যখন সেই সম্পর্কে সন্তান আসে। তখন সন্তানের ভবিষ্যৎ, পরিচয় এবং সমাজে তার অবস্থান নিয়ে ভাবা জরুরি বলেই তিনি মনে করেন।

অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমি লিভ ইন করি, আমি খুব ভালো আছি, কিন্তু আমার সন্তানের কথাও তো ভাবতে হবে আমাকে। সেখানে কোথাও একটা দায়বদ্ধতা তো থেকেই যায় সমাজের প্রতি।” তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক নিয়মকানুন মানেন না। তাঁর ভাষায়, “আমি কিন্তু আচার আচরণ নিয়ম একেবারেই মানি না। কিন্তু একটা জিনিসকে ঠিক রাখতে গেলে কিছু তো দরকার। নাহলে এটার ভুল ব্যাখ্যা করবে সবাই। ছাড়খার হয়ে যাবে। বাচ্চাগুলোর কথা তো ভাবতে হবে।” তাঁর মতে, যদি সম্পর্কে ভালোবাসা এবং বিশ্বাস থেকেই থাকে, তাহলে বিয়ে করতে আপত্তি থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, “আমার যদি সেই বিশ্বাস থাকে, ভালোবাসা থাকে, তাহলে বিয়ে করতে বাধা কোথায়। কীসের অসুবিধে। বিয়ে করেও তো কদিন পরে ছেড়ে চলে যাচ্ছে।”

একই সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর স্পষ্ট করে বলেন, “আমার মনে হয় বিয়ে নামক ইনস্টিটিউশনকে মানা উচিত। এই যে বিজেপির কিছু কিছু নিয়ম যেগুলো আছে, এইগুলোকে ওঁরা ফিরিয়ে আনছেন, এগুলো আমাদের জন্য ভালো। নাহলে আমরা লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছিলাম। আমরা ভুল পথে চালিত হচ্ছিলাম।” তাঁর এই মন্তব্যই সমাজমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিজেপির কিছু নিয়মের প্রশংসা এবং তা সমাজের জন্য উপকারী বলে দাবি করায় অনেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে মতভেদও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, নেটিজেনদের একাংশ অভিনেত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন লিখেছেন, “সন্তান নিতেই হবে কেন? অনেক বিয়েই তো শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়। তখন সেই সন্তানের অবস্থান তথাকথিত সমাজে কী হয়, সেটা কি ব্যাখ্যা করতে পারবেন? অনুগ্রহ করে এ বিষয়ে প্রচলিত আইন ও আইনি বিধানগুলোও একবার দেখে তারপর মন্তব্য করুন।” আবার আরেকজন মন্তব্য করেন, “অন্যের জীবনধারা কেমন হবে, সেটা তাঁদের ওপরই ছেড়ে দিন। তাতে আপনার অসুবিধাটা কোথায়? লিভ ইন সম্পর্কে থাকা নিরানব্বই শতাংশ দম্পতিই সন্তান নেন না। কিছু না জেনেই এ ধরনের মন্তব্য করছেন কেন? অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার প্রয়োজন কী?”

আরও পড়ুনঃ “গল্প চু’রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমি সবটা অস্বীকার করছি! সত্যিটা সামনে আসা দরকার, একতরফা শুনেই সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন না!” গল্পের খসড়া নিয়ে পারিশ্রমিক দিতে অস্বীকার, লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের বি’স্ফোরক পোস্টের পর মুখ খুললেন প্রযোজক সুব্রত রায়! জি বাংলার ‘সতীপীঠ কালীঘাট’কে ঘিরে বিতর্কে নতুন মোড়?

আরও একাংশের মতে, সমাজের দায়িত্ব নেওয়ার ভার নতুন প্রজন্ম কাউকে দেয়নি। তাঁদের বক্তব্য, পুরোনো প্রজন্মের উচিত নতুন প্রজন্মের জীবনযাপন এবং ভাবনাকে সম্মান করা। তাহলেই দুই প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে। ফলে মমতা শঙ্করের এই মন্তব্য ঘিরে যেমন সমর্থনের সুর শোনা গেছে, তেমনই সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে। লিভ ইন, বিয়ে, সন্তান এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য এখন সমাজমাধ্যমে বিস্তর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

You cannot copy content of this page