“এখন যে কেউ ইউটিউবে চ্যানেল খুলে দেব, প্রসেনজিৎ, সচিনদের কাজ নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে, বিচারসভা বসাচ্ছে!” “যাঁরা নিজের যোগ্যতায় ইতিহাস গড়েছেন, তাঁদেরই আজ আপনাদের থেকে শিখতে হবে?” ক্যামেরার সামনে সমালোচনা করাটা যোগ্যতা নয়, ক্ষো’ভ উগরে দিলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী! প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কি সত্যিই সবার থেকে, আপনাদের কি মত?

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া যেন এক ধরনের তাৎক্ষণিক আদালতে পরিণত হয়েছে। কোনও ঘটনা ঘটার আগেই বা কোনও শিল্পী, খেলোয়াড় কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় বিচার-বিশ্লেষণ। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় মতামতের ঝড়। অনেক ক্ষেত্রেই সেই আলোচনা গঠনমূলক হলেও, কখনও কখনও তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসম্মানজনক সমালোচনার রূপ নেয়। ফলে জনজীবনের পরিচিত মুখদের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার নজরদারির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

এই পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতা নিয়েই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত চক্রবর্তী। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ চিরঞ্জিত বর্তমান সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির বিকাশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসারের ফলে মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে অনিয়ন্ত্রিত সমালোচনার প্রবণতাও। আর সেই প্রভাব পড়ছে সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রেই।

চিরঞ্জিতের কথায়, এখন অল্পবয়সী অনেক ছেলে-মেয়েই ইউটিউব চ্যানেল খুলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করছে। সিনেমা, খেলা কিংবা রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই তারা বিশ্লেষণ করছে এবং অনেক সময় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের কাজের ভুল-ত্রুটি নিয়েও মন্তব্য করছে। অভিনেতার মতে, আজকের দিনে কোনও তারকা বা জনপরিচিত ব্যক্তির কাজ আর শুধুমাত্র দর্শক বা অনুরাগীদের বিচারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ সেই কাজের মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। ফলে চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় তারকারাও এখন নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ছেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের একটি তুলনাও টেনেছেন। তাঁর বক্তব্য, এক সময়ে মহানায়ক উত্তম কুমার বা কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন-দের মতো তারকারা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। কারণ তখন সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না এবং সাধারণ মানুষের মতামত এত দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও ছিল না। চিরঞ্জিতের মতে, বর্তমান সময়ে শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই নন, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে খেলোয়াড় প্রায় কেউই আগের মতো সম্মানের নিরঙ্কুশ জায়গায় নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সবাইকে প্রতিনিয়ত জনমতের বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ‘মাত্র ৮ বছর বয়সেই আমাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়’ হঠাৎ কেন এত ছোট বয়সেই মায়ের স্নেহ, যৌথ পরিবারের আদর আর ঘরের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হয়েছিল টোটা রায়চৌধুরীকে? জীবনের কোন অজানা অধ্যায়ের আবেগঘন স্মৃতি উন্মোচন করলেন অভিনেতা?

তবে এই আলোচনার মধ্যেই তিনি একটি ব্যতিক্রমী নামের উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এমন একজন ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাঁকে নিয়ে তুলনামূলকভাবে খুব কম সমালোচনা বা বিতর্ক দেখা যায়। তিনি হলেন সচিন তেন্ডুলকার। চিরঞ্জিতের বক্তব্য, ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত সচিন এমন এক মর্যাদার জায়গা তৈরি করেছেন, যা তাঁকে সাধারণ বিতর্কের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। অভিনেতার এই মন্তব্য আবারও সামনে নিয়ে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সম্মান, জনপ্রিয়তা এবং জনমতের পরিবর্তিত সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা।

You cannot copy content of this page