‘মাত্র ৮ বছর বয়সেই আমাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়’ হঠাৎ কেন এত ছোট বয়সেই মায়ের স্নেহ, যৌথ পরিবারের আদর আর ঘরের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হয়েছিল টোটা রায়চৌধুরীকে? জীবনের কোন অজানা অধ্যায়ের আবেগঘন স্মৃতি উন্মোচন করলেন অভিনেতা?

বিনোদন জগতের তারকাদের সাফল্যের ঝলক যতটা চোখে পড়ে, তার পিছনে লুকিয়ে থাকা সংগ্রামের গল্পগুলো ততটা সামনে আসে না। অনেক শিল্পীর শৈশব কেটেছে কঠোর নিয়মের মধ্যে, কেউ আবার খুব অল্প বয়সেই পরিবার থেকে দূরে থেকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাগুলোই পরবর্তীকালে তাঁদের ব্যক্তিত্ব, কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলেছে। দর্শকরা সাধারণত পর্দায় একজন সফল অভিনেতাকে দেখেন, কিন্তু সেই সাফল্যের ভিত যে কত ছোটবেলায় তৈরি হতে শুরু করে, তা জানা যায় তাঁদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নেওয়া স্মৃতিচারণ থেকে।

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীও এর ব্যতিক্রম নন। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ফিটনেস, সময়ানুবর্তিতা এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। পর্দায় তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশাসন এবং আত্মনির্ভরতার শিক্ষা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার এমনই এক অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন অভিনেতা, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। মাত্র আট বছর বয়সেই তাঁকে বাড়ি ছেড়ে বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে টোটা রায়চৌধুরী জানান, তাঁর মা বুঝতে পেরেছিলেন যে পরিবারের অতিরিক্ত আদরে তিনি খুব বেশি প্রশ্রয় পাচ্ছেন। সেই কারণেই মাত্র আট বছর বয়সে তাঁকে দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াংয়ের গয়েথালস মেমোরিয়াল স্কুলের বোর্ডিংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিনেতার কথায়, শুরুতে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে একেবারেই সহজ ছিল না। তিনি বলেন, প্রথমদিকে ভীষণ অভিমান, দুঃখ এবং অসহায়তা কাজ করত। কারণ তিনি ছিলেন একটি বড় যৌথ পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের প্রথম সন্তান। বাড়ির সকলের আদরের মানুষ হিসেবে বড় হওয়ার পর হঠাৎ করে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল।

টোটা আরও বলেন, বাড়িতে যেখানে তিনি ছিলেন সকলের নয়নের মণি, সেখানে বোর্ডিং স্কুলে গিয়ে তিনি হয়ে গেলেন অনেক ছাত্রের মধ্যে একজন মাত্র। সেই পরিবর্তন তাঁকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে তিনি সেই পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। বোর্ডিংয়ের কঠোর নিয়ম, সময় মেনে চলা, নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস এবং নিয়মানুবর্তী জীবন তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছিল। সেই সময় গরমের ছুটি ছাড়া বাড়ি ফেরার সুযোগও খুব কম মিলত। ফলে ছোটবেলাতেই তিনি আত্মনির্ভর হতে শেখেন এবং কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার মানসিক শক্তি অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ “সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া বা কমিটমেন্টহীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সন্তান!” “ভালোবাসা থাকলে বিয়েতে আপত্তি কোথায়?” দায়বদ্ধতা ছাড়া সম্পর্ক কতটা সঠিক? লিভ ইন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুললেন মমতা শঙ্কর, বললেন বিজেপির কোন নিয়ম আমাদের জন্য ভালো? আপনারাও কি অভিনেত্রীর সঙ্গে একমত?

আজকের টোটা রায়চৌধুরীর সুসংগঠিত জীবন, অসাধারণ ফিটনেস এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠার পিছনে সেই বোর্ডিং জীবনের বড় অবদান রয়েছে বলেই মনে করেন অভিনেতা। ছোটবেলায় যে সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে কষ্টের ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটিই জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা হয়ে ওঠে। কঠোর শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনভাবে বাঁচার যে ভিত্তি তখন তৈরি হয়েছিল, সেটাই আজও তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়। সম্প্রতি দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের সেই আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে টোটা রায়চৌধুরী যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, সাফল্যের পিছনে অনেক সময় ছোটবেলার কঠিন অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় শিক্ষক হয়ে ওঠে।

You cannot copy content of this page