বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবন, ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতা, মানুষের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতে অভিনয়ে ফেরা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, রাজনীতিতে আসার পর তাঁর চারপাশের অনেক সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গেলেও সেই পরিবর্তনকে তিনি কখনও তিক্তভাবে দেখেননি। বরং তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতাদর্শ থাকতে পারে এবং সেই মতের অমিলের জন্য ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, এক সময় ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
যদিও দু-একজন নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন। এখন আবার তাঁদের অনেকেই যোগাযোগ করছেন। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনও ক্ষোভ বা অভিমান নেই বলেই স্পষ্ট জানান রূপা। রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা সম্পর্কেও খোলাখুলি মন্তব্য করেন তিনি। রূপার কথায়, বাইরে থেকে অনেকেই মনে করেন রাজনীতিতে এলেই প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায়। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি জানান, অভিনয়ের সময় বছরে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা আয়কর দিতেন, অথচ বর্তমানে বিধায়ক হিসেবে যে বেতন পান, তা তার তুলনায় খুবই সামান্য। তাই তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজনীতি কোনওভাবেই অর্থ উপার্জনের জায়গা নয়, বরং মানুষের জন্য কাজ করার দায়িত্ব।
তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়ার অর্থ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সমস্যা, অভিযোগ এবং প্রত্যাশার মুখোমুখি হওয়া। সেই দায়িত্ব পালন করাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ। তাই রাজনীতিকে বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা মোটেও তেমন নয় বলেই তাঁর মত। নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষদের প্রতিও বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সোনারপুরের বাসিন্দাদের কাছে তাঁর একটাই অনুরোধ, তাঁকে একটু সময় দিতে হবে। কারণ বহু বছরের সমস্যা রাতারাতি মিটিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। একই বিষয় নিয়ে যদি বারবার ফোন বা যোগাযোগ করা হয়, তাহলে কাজের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ যে বঞ্চনা ও সমস্যার মধ্যে ছিলেন, সেই কারণেই তাঁদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটাও তিনি বুঝতে পারেন। তবে সবাই যদি তাঁর উপর আস্থা রাখেন, তাহলে ধীরে ধীরে কাজের মাধ্যমে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পারবেন। ভোটে জয়ের পর থেকে তাঁর ব্যস্ততা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে দিনের ২৪ ঘণ্টাও যেন যথেষ্ট নয়। বাড়িতে বসে দুপুরের খাবার খাওয়ার সুযোগও আর হয় না। ছোট টিফিন বক্সে খাবার নিয়ে বেরিয়ে গাড়িতেই কোনওভাবে খেয়ে নিতে হয় বলেও জানান তিনি। নতুন প্রজন্মের যারা রাজনীতিতে আসতে চান, তাঁদের জন্যও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন রূপা। তাঁর মতে, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে নিজের আর্থিক ভিত্তি শক্ত করা খুবই জরুরি। পরিবারের এমন কেউ থাকা দরকার, যিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অথবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
কারণ রাজনীতিতে এসে অর্থ উপার্জনের সুযোগ নেই, এখানে মানুষের জন্য কাজ করাই মূল লক্ষ্য। তাই এই পথে আসার আগে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত বলেই তিনি মনে করেন। রাজনীতি নিয়ে মানুষের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই কারণেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নতুনদের সতর্ক থাকতে এবং বাস্তব বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারের শেষদিকে আবার অভিনয় ও গানের জগতে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় হাসিমুখেই উত্তর দেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সত্যিই কঠিন।
আরও পড়ুনঃ “আমি কোনদিনও রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়ায়নি, তব আমার সঙ্গে ওনার…” ‘দ্য ক্যালকাটা ফাইলস’-এ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বাগতা মুখোপাধ্যায়? সমালোচনা, কটা’ক্ষ ধেয়ে আসার সম্ভাবনা নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?
কারণ বর্তমান দায়িত্বের মধ্যে অভিনয়ের জন্য সময় বের করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি জানান, অভিনেতা অনুপম খের তাঁর আগামী একটি কাজে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। উত্তরে রূপা বলেছেন, বিষয়টি তিনি ভেবে দেখবেন। যদিও এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তবে গানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা বলে জানান তিনি। অনেক দিন নিয়মিত রেওয়াজ না হলেও সকলের ভালোবাসা ও অনুরোধের কথা মাথায় রেখে বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাববেন বলেও আশ্বাস দেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, শিল্পী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এখনও দর্শকদের হৃদয়ে রয়েছেন, তবে এই মুহূর্তে মানুষের আস্থা অর্জন করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই তাঁর সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।






