বারুইপুর নাবালিকা কাণ্ডে ম’র্মাহত সায়নী ঘোষ! দো’ষীদের শা’স্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে ছুটলেন, যাদবপুরের তারকা সাংসদ! এরপরই দিলেন কী সেই বড় বার্তা?

বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জনরোষের ঘটনাও সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ প্রকাশ্যে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং নাবালিকার পরিবারের পাশে রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্যে সায়নী ঘোষ লেখেন, “বারুইপুরে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনাটির প্রেক্ষিতে আমি স্তম্ভিত এবং মর্মাহত। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। এই মুহূর্তে সামাজিক, মানসিক ও প্রশাসনিকভাবে নাবালিকার পরিবারের পাশে আছি।” তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে রাজ্য সরকার এই ঘটনার তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যাপারেও সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সায়নী ঘোষ আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমার আলোচনা হয়েছে এবং উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাজ্য সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অতি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চরম শাস্তি দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। দোষীদের গ্রেফতারি এবং বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য একটি এসআইটি গঠন করা হয়েছে।” পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। স্থানীয় সাংসদ হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তদন্তের অগ্রগতি নজরে রাখছেন বলেও জানান তিনি।

নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গণপিটুনির ঘটনাও সামনে আসে, যেখানে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাতেও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন সায়নী ঘোষ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জনরোষের জেরে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তারও তীব্র নিন্দা জানাই। এইরকম ঘটনায় উত্তেজনা স্বাভাবিক হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারুর নেই।” একইসঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আবেদন করেন, যাতে সবাই প্রশাসনের উপর আস্থা রেখে তদন্তে সহযোগিতা করেন এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করেন।

আরও পড়ুনঃ “আগে বছরে ১২ লক্ষ টাকা আয়কর দিতাম, খুবই সামান্য বেতন বলে টাকা লুটে নেওয়ার…” বিধায়ক হওয়ার পর জীবনে কতটা বদল এসেছে? বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, রাজনীতিতে আসতে চাওয়া নতুন প্রজন্মকে কী বার্তা দিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়?

এদিকে রাতেই নাবালিকার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দেহ কাঁটাপুকুর মর্গ থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি এসআইটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি পুলিশ ক্যাম্প ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের মারধর, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং রাস্তা অবরোধের ঘটনাগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সমস্ত ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পৃথক মামলাও দায়ের করবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতেও প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ শুরু করেছে।

You cannot copy content of this page