“যখন সবাই দূরে সরে গিয়েছিল, ও তখনও আমার পাশে ছিল…আমাকে কখনও একা হতে দেয়নি, ভেঙে পড়লে আগলে রেখেছে” “আমরা এত বছর একসঙ্গে থেকেও কেউই কারও মতো হয়ে যাইনি” ভাঙছে একের পর এক সংসার, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ! এমন সময় সফল দাম্পত্যের আসল মন্ত্র নিয়ে শেখালেন কৌশিক ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়?

আজকের সময়ে বিনোদন জগতে সম্পর্কের সমীকরণ যেন আগের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনার বিষয়। একদিকে বিচ্ছেদ, নতুন সম্পর্ক, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার প্রকাশ কিংবা সম্পর্ক ভাঙার ঘোষণাও এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহলও তুঙ্গে। এমন সময়েই দীর্ঘদিনের দাম্পত্যে থাকা পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে এমন কিছু কথা বললেন, যা শুধুমাত্র তাঁদের নিজেদের জীবন নয়, আধুনিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাবতে শেখায়। ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ছবির প্রচারে এসে তাঁরা খোলাখুলিভাবে তুলে ধরলেন সফল দাম্পত্যের মূলমন্ত্র।

পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, “অর্ধাঙ্গিনী” শব্দটি তিনি প্রচলিত অর্থে মানেন না। তাঁর কথায়, চূর্ণী তাঁর “অর্ধাঙ্গিনী” নন, বরং “পূর্ণাঙ্গিনী”। একজন মানুষ কখনও অন্য কারও অর্ধেক হতে পারেন না। প্রত্যেকের নিজস্ব পরিচয়, মতামত এবং ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, এই দর্শন থেকেই ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবি তৈরি করেছিলেন। শুধুমাত্র একটি পারিবারিক গল্প নয়, সমাজে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা এবং একে অপরকে স্বাধীনভাবে গ্রহণ করার বার্তা দেওয়াই ছিল সেই ছবির উদ্দেশ্য। কৌশিকের মতে, কোনও সম্পর্ক তখনই সফল হয়, যখন দু’জন মানুষ পরস্পরের স্বাধীন অস্তিত্বকে সম্মান করেন।

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন কৌশিক ও চূর্ণী। অভিনয় ও পরিচালনার জগতে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করলেও ব্যক্তিগত জীবনে একে অপরের সবচেয়ে বড় বন্ধু হিসেবেই নিজেদের দেখেন তাঁরা। চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে একজন মানুষ অন্য কারও “অর্ধেক” হয়ে বাঁচতে পারেন। তাঁর মতে, দু’জন মানুষ সংসার করলেও তাঁদের নিজস্ব পরিচয় কখনও হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। যদি নিজের পরিচয় মুছে অন্যের সঙ্গে মিশে যেতে হয়, তাহলে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী বা সুখের হতে পারে না। তিনি বলেন, “আমরা এত বছর একসঙ্গে থেকেও কেউ কারও মতো হয়ে যাইনি। ও ওর মতো, আমি আমার মতো। এই স্বাধীনতাটাই আমাদের সম্পর্ককে টিকিয়ে রেখেছে।” চূর্ণীর মতে, নিজের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হলে সম্পর্কের মধ্যেও ব্যক্তিত্ব অটুট রাখা জরুরি।

দু’জনেই মনে করেন, কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব। কৌশিক বলেন, যেসব সম্পর্কে বন্ধুত্ব থাকে না, সেসব সম্পর্কের ভিত দুর্বল হয়ে যায়। তাঁর মতে, সত্যিকারের আত্মবিশ্বাসী সম্পর্ককে বারবার সকলের সামনে প্রমাণ করার প্রয়োজন পড়ে না। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ককে প্রকাশ্যে তুলে ধরার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দু’জনেই। কৌশিকের কথায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে সবার সামনে বারবার তুলে ধরা অনেক সময় অনিরাপত্তারই প্রকাশ। চূর্ণীও বলেন, আজকাল সম্পর্কের স্বীকৃতি যেমন দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে, তেমনই বিচ্ছেদের ঘোষণাও প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন, অনেক সময় দীর্ঘদিন চুপ করে থাকার পর নিজের কথা জানানোর প্রয়োজন থেকেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেন। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কৌশিক। তাঁর মতে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে কতটা প্রবেশ করা উচিত, সেই সীমারেখা নিয়েও ভাবার সময় এসেছে।

আরও পড়ুনঃ “আমিও সমর্থন করি না, কিন্তু একটা দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির দরকার ছিল!” “এতদিন অ্যাকশনের নমুনা তো দেখলাম…১৪-১৫ বছর কেস চলছে, অপরা’ধীরা দিব্যি মুক্ত!” শুধু এনকাউ’ন্টার নিয়ে চিৎকার নয়, ওই ১১ বছরের শিশুটির শেষ মুহূর্তের যন্ত্র’ণার কথা ভাবুন! বারুইপুর কাণ্ডে বি*স্ফোরক মমতা শঙ্কর!

প্রেমের বদলে যাওয়া সময় নিয়েও কথা বলেন এই তারকা দম্পতি। চূর্ণীর মতে, তাঁদের সময়ে দেখা করার সুযোগ কম ছিল, অপেক্ষা ছিল বেশি, আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই ছিল ভালোবাসার আলাদা রোমাঞ্চ। এখন প্রযুক্তির কারণে সবকিছু সহজ হয়ে গেলেও সেই রহস্য ও আবেগ অনেকটাই কমে গিয়েছে। কৌশিকও মজার ছলে বলেন, ল্যান্ডলাইন ফোনের যুগের প্রেমের আলাদা মাধুর্য ছিল, যা আজ আর নেই। তবে তাঁদের নিজের সম্পর্কের সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত এখনও একসঙ্গে কাজ করা, গল্প নিয়ে আলোচনা করা কিংবা কোনও কথা না বলেও পাশাপাশি বসে থাকা। কৌশিকের ভাষায়, “দু’জন মানুষ যখন চুপচাপ বসে থেকেও স্বস্তি অনুভব করেন, সেটাই সবচেয়ে রোম্যান্টিক মুহূর্ত।” আর চূর্ণীর মতে, প্রতিদিন একসঙ্গে চা খাওয়া, গল্প করা এবং জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়াই তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি। বহু বছরের দাম্পত্যের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের এই কথাগুলো যেন আজকের প্রজন্মের কাছেও সম্পর্কের এক সহজ, বাস্তব এবং পরিণত সংজ্ঞা তুলে ধরে।

You cannot copy content of this page