রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঞ্চালনার পর ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর নতুন মুখ এখন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। বড় পর্দা, ওটিটি এবং টেলিভিশনে নিজের অভিনয়ের দক্ষতার জন্য বরাবরই প্রশংসিত স্বস্তিকা এবার সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায়। বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোর সঞ্চালনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শুরু করেছেন জীবনের নতুন ইনিংস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই নতুন সফর নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি জানান, প্রথম ফোন পাওয়া থেকে শুরু করে শুরুর ভয়, আত্মবিশ্বাস, রচনার প্রতি শ্রদ্ধা এবং নতুন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর একাধিক বদল সবকিছু নিয়েই তাঁর অনুভূতি।
স্বস্তিকা জানান, ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সঞ্চালনার প্রস্তাব যখন প্রথম তাঁর কাছে আসে, তখন তিনি যেন বিশ্বাসই করতে পারেননি। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি যেন আকাশ থেকে পড়েছিলাম। পাঁচ-ছয় সেকেন্ড কোনও কথাই বলতে পারিনি।” তবে সেই বিস্ময়ের পরই তাঁর মনে আসে দায়িত্বের কথা। কারণ, এত বছর ধরে যে অনুষ্ঠান বাংলার দর্শকের কাছে জনপ্রিয়, সেটি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ নয়। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এত বড় একটা শো, এত বছর ধরে রচনা দি কাঁধে নিয়ে চলেছেন। তখন মনে হয়েছিল, আমি পারব তো?” যদিও সেই ভয়ের মধ্যেই নিজেকে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, জীবনের প্রতিটি নতুন চ্যালেঞ্জই নতুন সুযোগ নিয়ে আসে।
স্বস্তিকা জানান, জীবনে এর আগেও একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সে যখন অনেকেই মনে করেন একজন নায়িকার কেরিয়ার শেষের দিকে, তখনই তিনি মুম্বইয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করেই এবারও নিজেকে মোটিভেট করেছেন। অভিনেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, “যাই হোক না কেন, আমি ক্যামেরার সামনে ফেল করব না।” তিনি আরও বলেন, “সারা জীবন নিজেকে মোটিভেট করে এসেছি। তাই মনে হয়েছে, পারবই। ঠিক পেরে যাব।” তবে প্রথম দিনের শুটিংয়ে তিনি ভীষণ নার্ভাস ছিলেন বলেও স্বীকার করেন। তাঁর কথায়, “প্রথম দিন নিজেকেই রোবট রোবট মনে হচ্ছিল। ঘাড়ও ঠিকমতো ঘোরাতে পারছিলাম না।” কিন্তু ধীরে ধীরে ইউনিটের সকলেই তাঁকে স্বচ্ছন্দ করে তোলেন। এখন প্রতিদিন বাড়িতে বসে নিজের অনুষ্ঠান দেখেন, কোথায় ভুল হচ্ছে তা খুঁজে বের করেন এবং পরের দিন আরও ভালো করার চেষ্টা করেন।
সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। স্বস্তিকা স্পষ্ট করে বলেন, রচনার সঙ্গে তাঁর কোনও প্রতিযোগিতা নেই। বরং একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি বলেন, “অনেকে এসেছেন, কিন্তু রচনা দি থেকে গিয়েছেন। ওঁর প্রতি আমার ভীষণ সম্মান আছে।” একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, কোনও কাজ শুরু করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন, “পারব তো?” কিন্তু পরে ভেবেছেন, “না পারলে না পারব। সেই অপশন তো জীবনেই খোলা থাকে। কিন্তু চেষ্টা না করে পিছিয়ে যাওয়ার কোনও মানে নেই।” এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে নতুন দায়িত্ব নিতে সাহস দিয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ “যখন সবাই দূরে সরে গিয়েছিল, ও তখনও আমার পাশে ছিল…আমাকে কখনও একা হতে দেয়নি, ভেঙে পড়লে আগলে রেখেছে” “আমরা এত বছর একসঙ্গে থেকেও কেউই কারও মতো হয়ে যাইনি” ভাঙছে একের পর এক সংসার, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ! এমন সময় সফল দাম্পত্যের আসল মন্ত্র নিয়ে শেখালেন কৌশিক ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়?
নতুন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এ দর্শকরা একাধিক পরিবর্তনও দেখতে পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বস্তিকা। তাঁর কথায়, অনুষ্ঠানের সেট এখন অনেক বেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর। নতুন এলইডি স্ক্রিন, নতুন গেম, একসঙ্গে ১০ জন প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ সব মিলিয়ে শোয়ের পরিধি অনেকটাই বেড়েছে। শুধু তাই নয়, আগের তুলনায় পুরস্কারের অর্থও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিযোগী এক থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জিতেছেন বলে জানান তিনি। প্রতিদিন নতুন নতুন খেলা থাকায় তিনি নিজেও নাকি প্রতিযোগীদের মতোই উত্তেজিত থাকেন। মজার ছলে স্বস্তিকা বলেন, “আমার মেয়ে ফোন করে বলে, মা তুমি পার্টিসিপেন্টদের থেকেও বেশি এক্সাইটেড থাকো!” শেষ পর্যন্ত দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, এই নতুন দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চান এবং আশা করেন, দর্শকও তাঁকে আগের মতোই ভালোবাসা দেবেন। তাঁর কথায়, মানুষের মন জয় করাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।






