বিনোদন জগতের তারকাদের জীবনকে বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক অজানা গল্প, সংগ্রাম, সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি। পর্দায় যাঁদের প্রতিদিন দেখা যায়, তাঁদের জীবন নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলেরও শেষ নেই। বিশেষ করে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সম্পর্ক বা মাতৃত্বের মতো বিষয় নিয়ে কোনও তারকা খোলাখুলি কথা বললে তা সহজেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন, অভিনয়জগতে আসার গল্প, দাম্পত্য, সন্তান এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী অনন্যা
বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অনন্যা সেনগুপ্ত দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত।
বর্তমানে ‘কুসুম’ ধারাবাহিকে মীনাক্ষী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। তবে অভিনয় তাঁর প্রথম পছন্দ বা পরিকল্পনা ছিল না। ছোটবেলা থেকে নাচ শিখলেও পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করতেন তিনি। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বিজ্ঞাপনের অডিশন দিতে গিয়ে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। বিজ্ঞাপন, মডেলিং এবং ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই পথচলা ধীরে ধীরে তাঁকে টেলিভিশনের পরিচিত মুখ করে তোলে। সাক্ষাৎকারে অনন্যা জানান, অভিনয়ে আসার শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমদিকে অভিনয় ঠিকমতো করতে না পারার জন্য সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, নিজের ভুল বুঝে তা শুধরে নিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।
তাঁর কথায়, কোনও শিল্পেই শেখার শেষ নেই। নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রশিক্ষণই তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তাঁর বাবা ছোটবেলা থেকেই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন। সেই কারণেই পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরিও করেছেন তিনি। অভিনয়ে আসার পরেও কাজ না পাওয়ার ভয় তাঁকে কখনও তাড়িয়ে বেড়ায়নি। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, কাজ জানলে এবং নিজের সেরাটা দিতে পারলে কাজের অভাব হয় না। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন অনন্যা। তিনি জানান, অভিনয় জগতে আসার আগেই তাঁর বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। পারিবারিক সূত্রে স্বামীর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং বিনোদন জগতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন।
তবে সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে এবং তিনি কয়েকটি বইও প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সম্পর্কে অনন্যার মতে, সম্পর্কের আসল ভিত্তি প্রেম নয়, বরং বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্ব। অভিনয়ের অনিয়মিত সময়সূচি, রাতভর শুটিং কিংবা ব্যস্ত জীবন, সব ক্ষেত্রেই স্বামীর পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন অভিনেত্রী। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাতৃত্ব নিয়ে অনন্যার বক্তব্য। তিনি জানান, নিজের জৈবিক সন্তান না থাকলেও সেই অভাব তিনি কখনও অনুভব করেননি। কারণ, তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর দত্তক নেওয়া মেয়ে সরণ্যা ছোটবেলা থেকেই তাঁদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরণ্যার বেড়ে ওঠার সঙ্গে তিনি এতটাই জড়িয়ে ছিলেন যে ধীরে ধীরে মাতৃত্বের অনুভূতি তাঁর মধ্যে পূর্ণতা পায়।
আরও পড়ুনঃ “শেষ ৩৯ দিনের সময় আসছে…” “আমার মেয়েটার মৃ’ত্যুর জন্য কীভাবে আপনার ছেলে ও ভাই দায়ী, এবার বাধ্য হয়েই বলছি…” স্ক্রিনশট দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না সায়নীর মা, বাধ্য হয়েই মুখ খুললেন মলি চক্রবর্তী! ক্ষো’ভে ফেটে পড়ে ফাঁস করলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য! বি*স্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় নেটপাড়া!
অনন্যার কথায়, নিজের সন্তান এবং অন্যের সন্তান মানুষ করার মধ্যে তিনি কোনও বিভেদ অনুভব করেন না। এই কারণেই তিনি কখনও আলাদা করে নিজের সন্তান নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে বহু প্রশ্ন, সমালোচনা এবং পারিবারিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়াও এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। তবু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছেন। বর্তমানে চারটি উদ্ধার করা পথকুকুরও তাঁর পরিবারের অংশ। ভবিষ্যতে পথশিশু এবং অসহায় প্রাণীদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্নও রয়েছে তাঁর। অনন্যার বিশ্বাস, মাতৃত্ব শুধু রক্তের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং যত্নের মধ্য দিয়েও একজন মানুষ পরিপূর্ণ মাতৃত্ব অনুভব করতে পারেন।






