তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর দলের একাধিক প্রাক্তন তারকা মুখ প্রকাশ্যে নানান মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়ও সম্প্রতি দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঔদ্ধত্য এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনই দলের পতনের অন্যতম কারণ। তাঁদের বক্তব্য, দলের নামের সঙ্গে ‘মা মাটি মানুষ’ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এরই মধ্যে একটি সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী ‘ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Mayna Banerjee)। এর আগেও তাঁকে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
তবে এবার তিনি সরাসরি এই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন। সম্প্রতি আর্টিস্ট ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২৬’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পরেও ময়নাকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। অনেকের দাবি ছিল, রাজনৈতিক সক্রিয়তার পর কাজ কমে যাওয়ায় তিনি আবার ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। সেই অভিযোগও খারিজ করেছিলেন অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সাল থেকেই তিনি বাংলা বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত এবং শিল্পী হিসেবে কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তাঁর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এরপরই এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কেও মুখ খোলেন তিনি।
ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা এই ধরনের কথা বলছেন এখন, যে তারা বলতেন অভিষেক দা নাকি কারোর সঙ্গে দেখা করে না! সেটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে ঔদ্ধত্য দেখলেন কীভাবে? অভিষেকদা এমন একজন মানুষ…যে কর্মীদের সঙ্গেই কথা বলুক না কেন, বাবা বাছা করে কথা বলেন। আমরা তো দেখছি, সাক্ষাৎ হচ্ছে, ফোনে কথাও হচ্ছে। দার কাছে যারাই আর্জি জানাতে আসছেন, এত ব্যস্ততার মধ্যেও কিন্তু উনি দাঁড়িয়ে শুনছেন। উনাকে এত এত রোজ কেস দেওয়া হচ্ছে, তিনটে-চারটে করে… তারপরে গিয়েও অভিষেক দা কিন্তু আমাদের কর্মীদের সময় দিচ্ছেন। মিটিং বা মিছিলে থাকতে পারছেন না, এক রকম আবদ্ধ করে রেখে দিয়েছেন ওনাকে।
আমরা তো রোজ প্রত্যক্ষ করছি ঘটনাগুলো। একজনই আছেন সফট টার্গেট, সেটা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! সাধারণ মানুষের কাছে উনি এখন চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন, কিন্তু ৪ তারিখের আগে তো ছিলেন না?” এরপর যাঁরা এখন প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করছেন, তাঁদের উদ্দেশেও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “যারা বড় বড় কথা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেই কিন্তু ভোটের টিকিটগুলো নিয়েছিলেন। তখন তো বেশ ভালো লেগেছিল! দুর্নীতি হোক বা যেটাই হোক, তখন কেন বলেননি? আজকে যদি ৪ তারিখের পর তৃণমূল ক্ষমতায় থাকতো, হলে কি এরা এই একই কথাটা বলতে পারতেন?”
আরও পড়ুনঃ “তুমি কটা বাচ্চার জন্ম দিয়েছ, কতজনকে ডাক্তার বানিয়েছ?” “নিজের মা হোক বা অন্য কারও মা, অপমান করে দিলেই তো মিলিয়নে ভিউ, সাফল্যের মাপকাঠি!” “ভিউসের নেশায় মানবিকতার সীমা ভুলেছ, তুমি জানো কী ডিজার্ভ করো?” অভয়ার মাকে ‘মা হওয়ার অযোগ্য’, ‘প্যানপ্যানে’ কটা’ক্ষে বিতর্ক আরজে প্রিয়াঙ্কা! সন্তানহারা মাকে অপমানে বি’স্ফোরক চাঁদনী গাঙ্গুলী! একহাত নিয়ে কী বললেন?
তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক মাধ্যমে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের পরাজয়ের কারণ নিয়ে দলের একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন নেতার পাশাপাশি পরিচিত মুখেরাও নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। সেই আবহেই ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাইরে থেকে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, বাস্তবে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অযথা লক্ষ্য করে সমালোচনা করা হচ্ছে। ফলে দলের পরাজয়, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।






