“আমরা সারারাত ঘর থেকে বেরোতেই পারিনি, না খেয়ে কাটিয়েছি…পরের দিন সকালে শুনি বহু মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে!” এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ আসলে কতটা ক্ষুদ্র? কী এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে বাদশা মৈত্র, যা এক রাতেই জীবন সম্পর্কে বদলে দিয়েছিল ভাবনাকে? অভিনেতা শোনালেন সেই গল্প!

অনেক সময় তারকাদের জীবনকে বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা শুনলে সাধারণ মানুষও শিউরে ওঠেন। কখনও প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে অসহায় হয়ে পড়তে হয়, কখনও জীবন সম্পর্কে বদলে যায় দৃষ্টিভঙ্গি। সম্প্রতি এমনই এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা বাদশা মৈত্র। পাহাড়ে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা আজও তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে রেখেছে।

বাংলা চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক জগতের পরিচিত মুখ বাদশা মৈত্র শুধু অভিনয়ের জন্যই নন, নিজের স্পষ্ট মতামত ও জীবনদর্শনের জন্যও দর্শকদের কাছে সমাদৃত। প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং মানুষের স্বাধীন চিন্তাভাবনার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। কাজের ফাঁকে শহরের বাইরে সময় কাটাতেই বেশি ভালোবাসেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অভিজ্ঞতা এবং জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন অভিনেতা।

সাক্ষাৎকারে বাদশা মৈত্র জানান, গত বছরের দুর্গাপুজোর সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাহাড়ে নিজের হোমস্টেতে গিয়েছিলেন। সেই সময় পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, তাঁর বেডরুম থেকে ডাইনিং রুমের দূরত্ব মাত্র এক মিনিটের হাঁটার পথ হলেও সেদিন রাতে তাঁরা কেউই ঘর থেকে বের হতে পারেননি। সঙ্গে ছিল তাঁর দুই সন্তান, একজন বয়স্ক মানুষ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে, ডাইনিংয়ে গিয়ে খাবার খাওয়ারও সুযোগ হয়নি। শেষ পর্যন্ত সারারাত বিস্কুট খেয়েই কাটাতে হয় তাঁদের।

অভিনেতার কথায়, সেই মুহূর্তে প্রকৃতির সামনে মানুষ যে কতটা অসহায়, তা তিনি নিজের চোখে উপলব্ধি করেছেন। পরের দিন সকালে জানতে পারেন পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস হয়েছে এবং বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেক বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে মানুষের অর্থ, প্রযুক্তি কিংবা সামাজিক পরিচয় কোনও কিছুই কাজে আসে না। প্রকৃতি যদি দয়া করে, তবেই মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও বেশি করে বুঝিয়েছে যে, বিশাল এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ আসলে কত ক্ষুদ্র।

আরও পড়ুনঃ “বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তো থাকতেই পারে, সেটা দেখে কাউকে বিচার করা কি ঠিক?” দীর্ঘ ৩৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রেম, বিয়ে আর বিশ্বাসের আসল সংজ্ঞা নিয়ে কী জানালেন কৌশিক ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়? জীবনের প্রতিটি ধাপে শতভাগ সৎ ছিলেন না, তারপরে কী ঘটেছিল? কোন অজানা কাহিনী ফাঁস করলেন জনপ্রিয় তারকা দম্পতি?

এছাড়াও সাক্ষাৎকারে বাদশা মৈত্র জানান, তাঁর কাছে আধ্যাত্মিকতার অর্থ কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করা। তিনি মনে করেন, প্রকৃতির কাছে গেলে মানুষের অহংবোধ অনেকটাই কমে যায় এবং জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করা যায়। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার, শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতা এবং সন্তানদের বড় করে তোলার ক্ষেত্রে নম্বরের চেয়ে শেখার গুরুত্ব নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন। পাহাড়ে সেই এক রাতের অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে শিখিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হল, মানুষ যতই শক্তিশালী ভাবুক নিজেকে, প্রকৃতির সামনে সে সবসময়ই ক্ষুদ্র এবং বিনম্র।

You cannot copy content of this page