“আমি মানুষদেরকে ছেড়ে দিতে পারি না, আমার সবচেয়ে বড় ‘ব্যাড হ্যাবিট’ হচ্ছে…” কেন চাইলেও কোনও মানুষকে জীবন থেকে মুছে ফেলতে পারেন না সোহিনী সেনগুপ্ত? কোন সেই দুর্বলতার কাছে বারবার হার মানেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, আঁকড়ে থাকার সেই অভ্যাসই আজ কীভাবে হয়ে উঠেছে তাঁর অসহায়তার কারণ?

প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন কিছু দুর্বলতা থাকে, যেগুলি নিজের অজান্তেই বারবার সামনে চলে আসে। কেউ সহজে রাগ সামলাতে পারেন না, কেউ আবার পুরনো স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। সময় এগিয়ে গেলেও সেই অভ্যাস বা অনুভূতিই কখনও কখনও মানুষকে পিছনে টেনে ধরে। ঠিক তেমনই নিজের একটি দুর্বলতার কথা অকপটে জানিয়েছেন অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, মানুষকে ছেড়ে দিতে না পারা এবং অতীত আঁকড়ে থাকা তাঁর জীবনের অন্যতম দুর্বলতা।

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সোহিনী সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চ, টেলিভিশন এবং সিনেমায় নিজের অভিনয়ের স্বতন্ত্র ছাপ তৈরি করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা ও জীবনবোধ নিয়েও খোলামেলা কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এবারও তেমনই এক আলাপচারিতায় নিজের এমন একটি অভ্যাসের কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী, যেটিকে তিনি নিজেই ‘ব্যাড হ্যাবিট’ বলে মনে করেন।

সাক্ষাৎকারে সোহিনীকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর এমন কোনও দুর্বলতা আছে কি না, যেটা তিনি নিজে জানেন এবং যার ক্ষেত্রে তিনি অনেকটা অসহায়। উত্তরে অভিনেত্রী জানান, তিনি মানুষকে সহজে ছেড়ে দিতে পারেন না। তাঁর কথায়, “আমি মানুষদেরকে ছেড়ে দিতে পারি না। সেটা আমার খুব ব্যাড হ্যাবিট।” অর্থাৎ কেউ তাঁকে যতই কষ্ট দিন না কেন, সেই সম্পর্ক বা মানুষটির থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ হয় না।

কষ্ট পেলেও তিনি সেই জায়গাটা ছেড়ে দিতে পারেন না বলেই জানান। এরপর আরও স্পষ্টভাবে নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানান সোহিনী। তিনি বলেন, “আই লিভ ইন পাস্ট সামটাইমস” অর্থাৎ অনেক সময় তিনি অতীতের মধ্যেই বেঁচে থাকেন। পুরনো জায়গায় ফিরে গিয়ে অতীতকে খোঁজা, পুরনো মানুষ বা স্মৃতিAকে ধরে রাখা এই প্রবণতা তাঁর মধ্যে রয়েছে বলে স্বীকার করেন অভিনেত্রী। একইসঙ্গে তাঁর মনে হয়, হয়তো তাঁকে কিছু জিনিস ছেড়ে দিতে শেখা দরকার।

আরও পড়ুনঃ কিংবদন্তি অভিনেতা রবি ঘোষের ভ্রাতৃবধূ সুমিতা দেবীর করুণ পরিণতি! নিজের ছেলে ও স্বামীও ছিলেন অভিনেতা, তবুও দায়িত্ব নেয়নি কেউ! অসু’স্থ অবস্থায় তাঁর ঠিকানা আজ বৃদ্ধাশ্রম! সোনারপুরের নিবেদিতা ভবনে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করে পাশে দাঁড়ালেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! একসময়ের তারকা পরিবারের সদস্যকে শেষ বয়সে পথে পথে ঘুরে বেড়াতে দেখে উদ্ধার করলেন কে?

তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তিতে তাই উঠে এসেছে এমন এক মানবিক দুর্বলতা, যার সঙ্গে জীবনের কোনও না কোনও সময়ে অনেকেই নিজেদের মিল খুঁজে পেতে পারেন। কোনও মানুষ বা সম্পর্ক থেকে সরে আসা সবসময় যে সহজ হয় না, সোহিনীর কথাতেও যেন সেই বাস্তবতাই ধরা পড়েছে। অতীতের স্মৃতি এবং পুরনো মানুষকে আঁকড়ে রাখার অভ্যাস কখনও কখনও তাঁর কাছেও অসহায়তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও নিজের এই দুর্বলতাকে লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। আপনাদেরও কি অভিনেত্রীর মত এমন অভ্যাস রয়েছে তাহলে আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

You cannot copy content of this page