“নিজেকে পলিটিশিয়ান হিসেবে আয়নায় দেখতে…তবে সুযোগ এলে অভিনেতা জিৎ নেতা হতে…” বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি থেকে অরাজনৈতিক অভিনেতার রাজনীতিতে যোগদান ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে! এবার মুখ খুললেন টলিউড সুপারস্টার, নিজের দীর্ঘদিনের পরিষ্কার ইমেজ ভেঙে পরির্বতনের বাংলায় কি হাত মেলাবেন গেরুয়া দলে? কী জানালেন তিনি?

বিনোদন জগতের তারকাদের অভিনয় জীবন আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকের আগ্রহের শেষ নেই। তবে তারকারা যখন সরাসরি রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন, তখন সেই আগ্রহ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিতেও যুক্ত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নীরব থেকেছেন। ফলে কোনও জনপ্রিয় তারকার রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিতি দেখলেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা শুরু হওয়া এখন আর নতুন ঘটনা নয়।

এই একই প্রশ্ন এবার উঠছে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। একাধিক সফল ছবির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। তবে অভিনয়ের বাইরে তাঁকে এখনও পর্যন্ত সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিৎকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রী সফল হলেই তাঁদের সঙ্গে রাজনীতির যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভবিষ্যতে তিনি নিজেও কি রাজনীতিতে আসতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তরেই নিজের অবস্থান বেশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেতা।

জিৎকে ৯ মে ২০২৬ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের সেই অনুষ্ঠানে জিৎ ছাড়াও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মমতা শঙ্কর, যিশু সেনগুপ্ত এবং অজয় চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট শিল্পীরাও উপস্থিত ছিলেন। সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন জিৎ। পরে নতুন সরকারের মাধ্যমে বাংলায় উন্নয়নের নতুন সূচনা হবে বলে আশাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ থাকা জিতের এই উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা তৈরি করেছিল।

তবে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির পরও রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর জিৎ দিয়েছেন অন্যভাবে। পুরনো একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অভিনেতা জানান, রাজনীতিতে আসার বিষয়টি তিনি নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখেন না। তাঁর কথায়, অভিনয়ের ক্ষেত্রে যদি ভালো গল্প এবং ভালো চরিত্র পান, তাহলে সেই সুযোগ তিনি অবশ্যই গ্রহণ করবেন। অর্থাৎ পর্দায় কোনও রাজনৈতিক চরিত্রে অভিনয় করতে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু বাস্তব জীবনে নিজেকে একজন রাজনীতিক হিসেবে দেখার কোনও ইচ্ছা বর্তমানে তাঁর নেই।

আরও পড়ুনঃ “একবার টানা দু’দিন খাবার জোটেনি, উনুনের ছাই দিয়ে পরের বাড়ির ওয়াশরুমের মগ মেজে আমার জন্য ভাত এনেছিলেন মা!” “ইনহিউম্যান ট্রেনিং ছিল, ওই পভার্টি দেখে মনে খিদে এসেছিল টু বি ভেরি রিচ” ক্ষুদার্থ শিশু থেকে ব্যাকআপ ডান্সার, আজকের ছোটপর্দার প্রিয় নায়ক ঋদ্ধিশ চৌধুরীর সাফল্যের নেপথ্যে লুকিয়ে অমানুষিক ক’ষ্ট ও অদম্য জেদের গল্পটা জানেন?

জিৎ আরও স্পষ্ট করে জানান, এই মুহূর্তে তাঁর রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যতই জল্পনা তৈরি হোক, অভিনেতার নিজের বক্তব্য অন্তত এখনকার অবস্থানকে পরিষ্কার করে দেয়। তবে রাজনীতি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সময়ের সঙ্গে মানুষের সিদ্ধান্তও বদলাতে পারে। তাই ভবিষ্যতে জিৎ সত্যিই নিজের এই অবস্থানে অটল থাকেন, নাকি কোনও একসময় রাজনীতির ময়দানে তাঁকেও দেখা যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

You cannot copy content of this page