‘কোনও আ’ঘাতকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব তখনই…’ ছোটবেলার একের পর এক মা’নসিক ধা’ক্কা সামলিয়ে, অভিনয়ে আসা, বারবার অডিশন দিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে! হাল ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তে কোন উপলব্ধি থেকে নিজেকে বদলে ফেললেন স্নেহা গুড়িয়া? জানেন, নাচের মঞ্চ থেকে ‘বাবলি সুন্দরী’র নায়িকা হয়ে ওঠার নেপথ্যে আসলে কতটা লড়াই লুকিয়ে আছে?

বিনোদন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ নয়। বিশেষ করে অভিনয় জগতে সুযোগ পাওয়ার আগে একের পর এক অডিশন, প্রত্যাখ্যান এবং মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় বহু শিল্পীকে। সেই কঠিন পথ পেরিয়েই আজ দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী স্নেহা গুড়িয়া। নাচ দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর দীর্ঘ যাত্রা তাঁকে ধীরে ধীরে নিয়ে এসেছে অভিনয়ের দুনিয়ায়। বর্তমানে ‘বাবলি সুন্দরী’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বহু বছরের লড়াই, ব্যর্থতা এবং বারবার নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর গল্প।

ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে যুক্ত স্নেহা। মাত্র আড়াই বছর বয়সে নাচ শেখা শুরু করেন তিনি এবং তিন বছর বয়সেই প্রথম মঞ্চে পারফর্ম করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচকেই ধীরে ধীরে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নেন। মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন রিয়্যালিটি শোয়ের অডিশন দিতে শুরু করেছিলেন। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’, ‘বিন্দাস ডান্স’, ‘ডান্স ডান্স জুনিয়র’-সহ একাধিক রিয়্যালিটি শোয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাচ নিয়ে পড়াশোনাও চালিয়ে যান। পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে একটি ডান্স স্টুডিও তৈরি করেন, যেখানে বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন শিশু নাচ শেখে।

তবে স্নেহার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ছোটবেলায় একাধিক রিয়্যালিটি শো থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। এমনকী একটি রিয়্যালিটি শোয়ের অভিজ্ঞতার পর কয়েক বছর তিনি অডিশন দেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে আবার চেষ্টা করলেও বারবার এসেছে প্রত্যাখ্যান। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর জন্যও পাঁচ-ছয়বার অডিশন দিয়েছিলেন, কিন্তু সফল হননি। শেষ পর্যন্ত সিজন ১২-তে নিজের তৈরি আলাদা নাচের স্টাইল নিয়ে অডিশন দিয়ে সুযোগ পান। সেখান থেকেই নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। এরপর অভিনয়ের অডিশন শুরু করেন। ‘তুই আমার হিরো’-তে নায়িকার বোনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখেন। পরে ‘বাবলি সুন্দরী’-তে প্রধান চরিত্রের সুযোগ আসে।

প্রথমে বড় চরিত্রের দায়িত্ব নিতে যথেষ্ট নার্ভাস থাকলেও সহ-অভিনেতা ও গোটা টিমের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। নিজের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে স্নেহা জানিয়েছেন, নাচ এবং অভিনয় দুই ক্ষেত্রেই প্রচুর প্রত্যাখ্যান পেয়েছেন তিনি। একটা সময় মনে হয়েছিল আর কোনও অডিশন দেবেন না। কিন্তু বাবা-মায়ের অবিচল সমর্থন তাঁকে বারবার চেষ্টা করতে উৎসাহ দিয়েছে। তাঁর কথায়, “যে যা বলছে বলুক, আমাকে আল্টিমেটলি আমার কাজটা দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করতে হবে।” সেই জেদই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতাগুলিকে ভুলে যাওয়ার বদলে সেগুলির উপর কাজ করেই নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি।

Actress Life

আরও পড়ুনঃ ৫০ টাকার বিজ্ঞাপন থেকে মাত্র ২০০ টাকার গার্ডের চাকরি! অভিনয় বরাবরই ছিল উপেক্ষার তালিকায়, আজ কীভাবে সেটাই হয়ে উঠল পরিচয়? স্কুলে ‘ডানপিটে’ ছেলে থেকে টলিউডের দাপুটে অভিনেতা, জন্মদিনে জানুন রজতাভ দত্তের সেই লড়াই! কীভাবে বন্ধুর একটা অনুরোধে বদলে দিল জীবন? অভিনেতার গল্পটা সিনেমার চেয়ে কম নয়, অনুপ্রেরণা দেবে আপনাকেও!

স্নেহার মতে, কোনও ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে যে বিষয়টি কষ্ট দিয়েছে, সেটার উপরই কাজ করতে হয়। কাঙ্ক্ষিত ফল পেলে সেই আঘাতও ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তাই হতাশার সময় কোনও আসক্তির পথে না গিয়ে নিজেকে কাজ এবং নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে রেখেছেন অভিনেত্রী। আজ ‘বাবলি সুন্দরী’ তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। কলকাতায় থেকে শুটিং সামলানোর পাশাপাশি নিজের ডান্স স্টুডিও এবং পড়াশোনার দায়িত্বও ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। অভিনেত্রীর পরিবারও বরাবর তাঁকে পড়াশোনা, নাচ এবং অভিনয় সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে উৎসাহ দিয়েছে। নিজের যাত্রা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্নেহার বার্তা, যে কাজকে ভালোবাসো, তার জন্য কখনও হাল ছেড়ো না। তাঁর বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম আর চেষ্টা থাকলে জীবনে এমন জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব, যা হয়তো একসময় কল্পনাতেও ছিল না।

You cannot copy content of this page