প্রয়াত পরিচালক রাজা সেন। রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই পরিচালক। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রাজা সেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছিল, তাঁর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে গিয়েছিল এবং লাং ফেলিয়রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শনিবারও তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর জানতে স্ত্রী অভিনেত্রী পাপিয়া সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তখনও স্বামীর অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
রবিবার সকালেই রাজা সেনের মৃত্যু হয় বলে জানান তাঁর স্ত্রী পাপিয়া সেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে তিনি জানান, তাঁদের দুই মেয়েই বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ছোট মেয়েই বাবার শেষকৃত্য ও অন্যান্য যাবতীয় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে রাজা সেনের অসুস্থতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। চলতি বছরেও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল এবং তখন তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। বছরের শুরু থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। একসময় শরীরের নীচের অংশ হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হয় তাঁকে। সেই সময়ই গুরুতর স্নায়ুর সমস্যার কথা জানতে পারেন তিনি।

আসলে রাজা সেনের শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় দশ বছর আগে। ‘মায়া মৃদঙ্গ’ ছবির শুটিং চলাকালীন আচমকাই সেট থেকে পড়ে যান তিনি। সেই দুর্ঘটনায় কোমরে গুরুতর চোট পেলেও প্রথম দিকে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি পরিচালক। পরে সেই চোটই ধীরে ধীরে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে হাঁটাচলায় সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। সময়ের সঙ্গে সেই সমস্যা আরও বাড়তে থাকে। চলতি বছরের গোড়ায় শরীরের নীচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরীক্ষা করানোর পর ধরা পড়ে তাঁর স্নায়ুর জটিল সমস্যা রয়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে ততদিনে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত কোমর এবং শিরদাঁড়ার মধ্যভাগে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর সেই অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পরও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। বরং বছরের শুরু থেকেই একের পর এক শারীরিক জটিলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। পরবর্তীতে আবারও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। নিউমোনিয়ার পাশাপাশি ফুসফুসে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়। শেষ কয়েকদিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর রবিবার সকালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদ! প্রয়াত ‘সুবর্ণলতা’র ও ‘দামু’র পরিচালক রাজা সেন! হারিয়ে ফেলেছিলেন হাঁটাচলার শক্তি, শেষ পর্যায়ে বিকল হয়েছিল ফুসফুস! অবশেষে পরপারে পাড়ি দিলেন, রবিবাসরীয় সকালেই টলিপাড়ায় শোকের ছায়া!
দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর রাজা সেনের প্রয়াণে বাংলা বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর স্ত্রী পাপিয়া সেনের কাছ থেকেই শেষ সময়ের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গিয়েছে। একসময় শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা থেকেই যে শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত, শেষ পর্যন্ত সেই দীর্ঘ লড়াই আর থামল না। বছরের শুরুতে অস্ত্রোপচার, তারপর নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের জটিলতা, ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা, সবকিছুর পরেও শেষরক্ষা হল না। রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্ষীয়ান পরিচালকের প্রয়াণে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি শেষ জীবনের এই কঠিন লড়াইও এখন উঠে আসছে আলোচনায়।






