বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্র জগতে চন্দন সেন একটি পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ নাম। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মঞ্চ ও পর্দা দুই ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় প্রতিভার ছাপ রেখেছেন তিনি। শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পী ও দর্শকের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ। তাই মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতি বৈঠককে ঘিরে তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া ঘটনাটি নতুন করে চর্চায় এসেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক এবং সমসাময়িক নানা বিষয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে চন্দন সেনকে। বিভিন্ন সময়ে সমাজ, সংস্কৃতি, শিল্পীদের অধিকার এবং মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন তিনি। কোনও বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকলে তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলতেও পিছপা হননি। ফলে তাঁর বক্তব্য বরাবরই সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সেই চন্দন সেনকেই এবার উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি বৈঠকে প্রবেশের সময় বাধার মুখে পড়তে হল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার কলকাতার নন্দন চত্বরে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সেখানে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রধান শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, অরিন্দম শীল, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং শঙ্কর চক্রবর্তীর মতো তারকারাও সেখানে ছিলেন।
এই বৈঠকেই ঢোকার সময় চন্দন সেনকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, তাঁকে প্রথমে চিনতে না পেরে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং কার্ড দেখাতে বলা হয়। পরে কার্ড দেখানোর পর তাঁকে বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চন্দন সেন বলেন, ‘এরা আমায় চেনে না, জানে না, তাই ঢুকতে বাধা দিয়েছে।’ তাঁর আরও বক্তব্য, সবার পরিচয় প্রত্যেকের পক্ষে জানা সম্ভব নয় ঠিকই, কিন্তু গোটা বিষয়টিতে তিনি ‘গায়ের জোর’ দেখানোর অভিযোগও তোলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
আরও পড়ুনঃ “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক আমাদের, নিয়মিত যাতায়াতও রয়েছে, তবু জনপ্রিয়তা বা কাজ পাওয়ার লোভে রাজনীতিতে নামিনি!” আত্মমর্যাদা ও নিজের যোগ্যতাকেই সবার আগে রেখেছেন নবমিতা, ভাই গৌরবও নেননি সেই সুবিধা! দলবদলু তারকাদের একহাত নিয়ে, পারিবারিক আদর্শের কথা তুলে কী বললেন মহানায়কের নাতনি?
অন্যদিকে বৈঠক শেষে উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রকৃত অর্থেই ‘নায়কের নায়ক’, তাই তাঁকে মহানায়ক বলা হয়। তাঁর জন্মশতবর্ষ পালনের সুযোগ পাওয়া ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের প্রস্তুতি বৈঠকেই একজন বর্ষীয়ান অভিনেতাকে প্রবেশের সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে শিল্পীদের প্রতি সাংস্কৃতিক পরিসরে সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে। উত্তম কুমারের মতো কিংবদন্তি শিল্পীর শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতিতে এমন ঘটনা কি সত্যিই কাম্য? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে সাংস্কৃতিক মহলের আলোচনায়।






