বিনোদন জগতের সম্পর্কের গল্প বরাবরই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। পর্দায় যাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ থাকে যথেষ্ট। তবে কখনও কখনও সেই সম্পর্কের আড়ালে থাকা অভিমান, দূরত্ব কিংবা তিক্ততার কথা প্রকাশ্যে এলে তৈরি হয় নতুন আলোচনা। এবার তেমনই এক ব্যক্তিগত সম্পর্কের অজানা অধ্যায় সামনে এনে চর্চায় অভিনেত্রী অনামিকা সাহা। নিজের অভিনয়জীবনের পাশাপাশি এবার নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়েও একাধিক বিস্ফোরক কথা বলেছেন তিনি।
বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অনামিকা সাহা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কখনও ভ্যাম্প, কখনও খলনায়িকা, আবার কখনও মায়ের চরিত্রে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। কেরিয়ারের শুরুর দিকে নেচে-গেয়ে পুরুষের মন ভোলানো ধরনের চরিত্রেই তাঁকে বেশি দেখা যেত। পরবর্তীতে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’-র মতো জনপ্রিয় ছবির হাত ধরে অভিনয়ে ফের নতুন করে জায়গা তৈরি করেন তিনি। পর্দায় দাপুটে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হলেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা যে তাঁকে ভিতর থেকে আঘাত করেছে, সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই কথাই উঠে এসেছে।
অনামিকা সাহার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে অভিনেতা বোধিসত্ত্ব মজুমদারের প্রেমের শুরু হয়েছিল নাটকের মঞ্চ থেকেই। সাতের দশকের শেষদিকে রামমোহন লাইব্রেরিতে একটি নাটকের মঞ্চস্থ হওয়ার সময় তাঁদের প্রথম দেখা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে, পরে বিয়েতে। কিন্তু প্রেমের সময়ে গায়ের রং নিয়ে কোনও আপত্তি না থাকলেও বিয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলেই দাবি করেছেন অনামিকা। তাঁর কথায়, শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে গায়ের রং নিয়ে নানা বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি বোধিসত্ত্বর পরিবার তাঁর অভিনয়কেও সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ বিরাট সাফল্য পাওয়ার পরও স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুশি হননি এমনই দাবি তাঁর।
শুধু শ্বশুরবাড়ির আচরণ নয়, স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেও দীর্ঘদিন ধরে ইগোর লড়াই ছিল বলে জানিয়েছেন অনামিকা। তাঁর দাবি, বোধিসত্ত্ব নিজেকে তাঁর তুলনায় উচ্চতর মনে করতেন এবং নিজের রূপ নিয়েও তাঁর মধ্যে এক ধরনের অহংকার ছিল। অনামিকা জানিয়েছেন, বোধিসত্ত্ব ছিলেন যথেষ্ট সুদর্শন, আর তাঁর শ্যামলা গায়ের রং নিয়ে আত্মীয়দের মন্তব্যও শুনতে হয়েছে তাঁদের। এমনকি বিয়ের আগে একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। ‘শয়তান’ নাটকে বোধিসত্ত্ব অভিনয় করার পর দর্শকরা যেমন তাঁর চেহারার প্রশংসা করেছিলেন, তেমনই অনামিকার অভিনয়েরও প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশংসা নিয়েও নাকি বোধিসত্ত্ব বিরক্ত হয়েছিলেন। নাট্যকার শোভনলাল মুখোপাধ্যায় নাকি অনামিকাকে বোধিসত্ত্বকে বিয়ে না করার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ছিঃছিঃ, কী নোং’রামি! চলন্ত ট্রেনে পোশাক খুলে তা’ণ্ডব, আরপিএফ আধিকারিককে ব্লে’ড দিয়ে হাম’লার অভিযোগ, জানালার কাচ ভা’ঙচুর করে গ্রেফতার বাঙালি অভিনেত্রী! সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় নেটপাড়ায়!
আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন অভিনেত্রী তাঁর শাশুড়িকে নিয়েও। অনামিকার কথায়, তাঁকে দেখতে গিয়ে তাঁর গায়ের রং দেখে শাশুড়ি বাড়ি ফিরে কেঁদেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। এমনকি বর্ণবৈষম্যের কারণেই নাকি বোধিসত্ত্ব ও অনামিকাকে একসঙ্গে কোনও রিয়্যালিটি শোতেও দেখা যেত না। দীর্ঘদিন দর্শকদের একটা বড় অংশ জানতেনই না যে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। কারণ পর্দায় অনামিকাকে অধিকাংশ সময় নেতিবাচক চরিত্রে এবং বোধিসত্ত্বকে ইতিবাচক চরিত্রে দেখা গিয়েছে। বর্তমানে তাঁদের এক মেয়ে রয়েছেন, যিনি উচ্চশিক্ষিত এবং বাইরে চাকরি করেন। অনামিকা জানিয়েছেন, সুযোগ পেলেই তিনি মেয়ের কাছে যান। স্বামী-স্ত্রী এখনও একই সংসারে থাকলেও তাঁদের মধ্যে সেই পুরনো দূরত্বের দেওয়াল আজও পুরোপুরি ভাঙেনি বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী।






