একসময় বাংলা ধারাবাহিকে নিয়মিত দেখা যেত অভিনেত্রী আয়েশা ভট্টাচার্যকে। ছোটপর্দায় একাধিক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বর্তমানে অবশ্য তাঁকে আর নিয়মিত ধারাবাহিকে দেখা যায় না। তবে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও সমাজমাধ্যমে যথেষ্ট সক্রিয় আয়েশা। নিজের নানা ভাবনা এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। সম্প্রতি তেমনই একটি আবেগঘন পোস্টকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাবা-মাকে ঘিরে নিজের এক বিশেষ ভয় এবং দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন আয়েশা। তাঁর সেই কথাতেই বোঝা গিয়েছে, বাবা-মাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সন্তানের মনেই বাবা-মাকে হারানোর ভয় তৈরি হয়। বিশেষ করে তাঁদের বয়স যত বাড়তে থাকে, ততই তাঁদের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে চিন্তা বাড়ে। আয়েশার ক্ষেত্রেও বিষয়টি যেন একই রকম। সম্প্রতি বাবার জন্মদিন উপলক্ষে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন তিনি। সেখানেই নিজের প্রতিদিনের একটি অভ্যাসের কথা জানান অভিনেত্রী। আয়েশা লেখেন, ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমেই তিনি মা-বাবার বুক এবং পেটের দিকে তাকিয়ে দেখেন। তাঁদের বুক ও পেট স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে কি না, সেটি দেখে তবেই তিনি নিশ্চিন্ত হন। এই বিষয়টি তাঁর কাছে অদ্ভুত মনে হলেও, প্রতিদিনই এমন করেন তিনি।
নিজের পোস্টে আয়েশা জানান, মা-বাবাকে ঘিরেই তাঁর গোটা পৃথিবী। তাঁদের ছাড়া তিনি এক মুহূর্তও নিজেকে স্বাভাবিক মনে করেন না। তাঁর কথায়, “রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে, আমি একটা অদ্ভুত জিনিস করি! জানি না আমার মতো আর কেউ এরকম অদ্ভুত কাজ করে কি না! আমি ঘুম থেকে উঠেই মা বাবার বুক আর পেটের দিকে তাকিয়ে দেখি বুক আর পেট ওঠা নামা করছে কি না! যেই সব নরমাল দেখি! আমি তারপর নিশ্চিন্ত হয়ে আমার দিন শুরু করি।” এরপরই তিনি জানান, তাঁর দুনিয়াটা খুব ছোট এবং সেই দুনিয়ার সবটাই মা-বাবাকে ঘিরে। সেই কারণেই বাবার জন্মদিন তাঁর কাছে বিশেষ একটি দিন হয়ে উঠেছে। বাবার সুস্থতা এবং দীর্ঘজীবনের জন্যও অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানাতে বলেছেন অভিনেত্রী।
বাবাকে নিয়ে বলতে গিয়ে আয়েশা নিজের ছোটবেলার একটি মজার অভ্যাসের কথাও তুলে ধরেন। অভিনেত্রী জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই বাবাকে মজা করে “বড়লোক কিপ্টে” বলে ডাকেন। কারণ পরিবারের জন্য বাবা মন খুলে খরচ করলেও নিজের জন্য কোনও কিছু কিনতে চাইতেন না। পুরনো মোজা কিংবা ছেঁড়া জুতো নিয়েই তিনি দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতেন। এমনকি জুতো ফেটে গেলেও নতুন জুতো না কিনে সেটিই সারিয়ে আবার ব্যবহার করতেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়েশা বুঝেছেন, বাবার এই স্বভাবের মধ্যেই কতটা বড় মনের পরিচয় লুকিয়ে রয়েছে। নিজের প্রয়োজনকে পিছনে রেখে সন্তানদের ইচ্ছা পূরণ করাই যেন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসেই ভাঙল সংসার, চুপ শ্যামৌপ্তি! ‘আত্মসম্মান অলঙ্ঘনীয়’ লিখে ফের কী বার্তা রণজয়ের? নতুন পোস্ট ঘিরে চর্চা তুঙ্গে, অবশেষে বিচ্ছেদের জল্পনায় কি তবে পড়ল সিলমোহর?
বাবার স্বভাবের আরও একটি দিকের কথাও তুলে ধরেছেন আয়েশা। তাঁর দাবি, বাবা খুব চাপা স্বভাবের মানুষ এবং নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করেন না। তাই বাবাকে তিনি আদর করে “বুড়ো বাচ্চা” বলেও উল্লেখ করেছেন। বাবার জন্মদিনে তাঁর জন্য ভালোবাসা এবং সুস্থতার শুভেচ্ছা চেয়েছেন অভিনেত্রী। পুরো পোস্ট জুড়েই স্পষ্ট হয়েছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে আয়েশার সম্পর্ক কতটা গভীর। একইসঙ্গে তাঁদের নিয়ে তাঁর মনে যে ভয় কাজ করে, সেটিও সামনে এসেছে। সমাজমাধ্যমে অভিনেত্রীর এই ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর অনুরাগীদের মধ্যেও আবেগ তৈরি হয়েছে।






