“অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা এখনও পাননি?” “এমপি অফিসে নাম ঠিকানা জমা দিন, আমি ব্যবস্থা করে দেব!” কোথাও অবরোধ, কোথাও বিক্ষোভ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে ক্ষো’ভ বাড়ছে বাংলায়! তিন মাসেও অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি টাকা, বিক্ষোভের মাঝেই বঞ্চিত মহিলাদের বড় আশ্বাস ‘ভালো তৃণমূল’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! আর কী বললেন সাংসদ?

বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক মহিলার দাবি, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা ঢোকেনি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। এমনকি শুক্রবার বিরাটিতে রেল অবরোধেও সামিল হন একদল মহিলা। কোথাও কোথাও রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতেই এবার বঞ্চিতদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ। একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “সবাই পাবে, আমি বলছি পাবে।”

যাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এখনও টাকা পাননি, তাঁদের উদ্দেশেও নির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন রচনা। তিনি জানান, অনেকের কাছে ইতিমধ্যেই কাগজপত্র পৌঁছে গিয়েছে এবং তাঁরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তাই তাঁদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে বলেই জানান তিনি। রচনার কথায়, “আমি এই বার্তাটা সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। যারা পাচ্ছ না, অথচ তাঁদের কাছে পেপার এসে গেছে তারা এনলিস্টেড, একটু সবুর করুন। পাবেনই। কারণ দেওয়া শুরু হয়েছে।” এরপরও কারও অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢুকলে সরাসরি তাঁর এমপি অফিসে এসে নাম ও ঠিকানা জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর আশ্বাস, “আপনারা যাতে পেয়ে যান সেই ব্যবস্থা আমি করব।” কদিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে প্রাতঃরাশে দেখা গিয়েছিল রচনাকে।

এদিকে দলবদলকে কেন্দ্র করেও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক ও কটাক্ষ অব্যাহত। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়। রচনাকে বলতে শোনা যায়, “বার তৃণমূল জিতলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম। কিন্তু তৃণমূল হেরে গিয়েছে বলে দল বদল করেছি।” যদিও তাঁর দাবি, মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি দল পরিবর্তন করেছেন। এনডিএ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি। তবে তাঁর এই যুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলছে নানা ধরনের মন্তব্য ও ট্রোল। এর মধ্যেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা বাড়ছে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে গত তিন মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। কারও দাবি, জুন, জুলাই এবং অগস্ট, তিন মাসই তাঁরা কোনও টাকা পাননি। আবার কারও অ্যাকাউন্টে প্রথম এক বা দুই মাস টাকা এলেও অগস্টে আর টাকা ঢোকেনি। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের ধৈর্য ধরার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের জন্য ক্লেম করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। ক্লেম করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য যাচাই করা হবে। ফলে টাকা না পাওয়া মহিলাদের সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের দাবি জানানোর কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রকল্পের টাকা নিয়ে অসন্তোষের জেরে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “অট্টালিকা নেই বলেই ফুটপাতেই সন্তানের জন্য দুধ গরম করছে বলে অপরাধ?” “মন্ত্রী হওয়ার আগে মানুষ হতে শিখুন, আপনিও তো মা, খিদের জ্বালা বুঝুন!” “ওঁকে অভিশাপ দিচ্ছি যাতে একদিন এই যন্ত্রণা হয়…আমাদের শহরটা সুন্দর ততদিন, যতদিন সবার!” একটা শিশুর মুখে খাবার তুলে দেওয়াই কি মহা পাপ? অসহায় মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার অগ্নিমিত্রা পালের, তীব্র সমালোচনায় ঋদ্ধি সেন, শ্রীলেখা মিত্ররা!

এই পরিস্থিতিতে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “কথা দিয়ে গেলাম যাঁরা সামান্য ভাতার উপর নির্ভর করেন, বা প্রকৃতি পাওয়ার হকদার, আরও ২০-৩০ লক্ষ লাগে আমি সেটা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।” অর্থাৎ আরও ২০ থেকে ৩০ লক্ষ উপভোক্তার জন্য টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে একইসঙ্গে বিক্ষোভ ও বনধের পথে সরকারকে চাপ দেওয়ার বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও ধরনের বিক্ষোভ বা বনধের কাছে তাঁর সরকার মাথা নোয়াবে না। একদিকে টাকা না পাওয়া নিয়ে মহিলাদের ক্ষোভ, অন্যদিকে সরকারের তরফে ক্লেম ও ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা এবং নতুন করে উপভোক্তা বাড়ানোর আশ্বাস, সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি।

You cannot copy content of this page