গত দু’দিন ধরে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে সমাজ মাধ্যম। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মৌমিতা পণ্ডিতের সঙ্গে বাইকে রয়েছেন প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু একসঙ্গে বাইকে থাকাই নয়, একে অপরকে আবির মাখাতেও দেখা যাচ্ছে তাঁদের। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই রাহুলের সঙ্গে মৌমিতার সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশও এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের মতামত জানাতে শুরু করেন। সুদীপ্তা চক্রবর্তী থেকে মানসী সিনহা, রাহুলের ঘনিষ্ঠদের কয়েকজন মৌমিতাকে কটাক্ষ করেন। এরপরই গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মৌমিতা পণ্ডিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভাইরাল ভিডিও, রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।
মৌমিতার দাবি, তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিংবা সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই ভিডিও পোস্ট করেননি। ভিডিওটি তিনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করেছিলেন এবং সেখান থেকেই সেটি বাইরে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজেকে জনপ্রিয় করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না এবং এই ভিডিওর মাধ্যমে প্রচারে আসার কথাও তিনি ভাবেননি। মৌমিতার কথায়, “একটি বিষয় যার অর্ধেক জেনে কথা বলা হচ্ছে, বাকি অর্ধেক কেউ শুনছে না।” অনেকে আবার এমনও দাবি করছেন যে, তিনি নাকি নিজেই ভিডিওটি এডিট করে তৈরি করেছেন। এই অভিযোগের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, সত্যিই যদি তিনি এমন কিছু করে থাকতেন, তাহলে তাঁকে নিজের পার্সোনাল চ্যাট খুলে দেখাতে হত।তবে নিজের ব্যক্তিগত চ্যাট কাউকে দেখাতে তিনি রাজি নন বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন। মৌমিতার কথায়, তাঁর নিজের যথেষ্ট কাজ রয়েছে, কাউকে ছোট করার জন্য অন্যের মুখ এডিট করে ভিডিও বানানোর প্রয়োজন তাঁর নেই।
ইন্ডাস্ট্রির একাংশের সমালোচনা নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন মৌমিতা। তাঁর কথায়, একজন মানুষ মারা গেলে অনেকেই বলেন, কেন সে নিজের মনের কথা কাউকে জানাল না। কিন্তু একজন মানুষ বেঁচে থাকতে তার মনের কথা কেউ শুনতে চায় না বলেই আক্ষেপ করেছেন তিনি। মৌমিতার দাবি, মাত্র একদিনের মধ্যেই অনেকের কাছে তিনি খারাপ মানুষ হয়ে গিয়েছেন। তবে নিজেকে কারও কাছে প্রমাণ করার কোনও প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না। রাহুলের মৃত্যুর পর কেন তিনি প্রকাশ্যে আসেননি বা অন্যদের মতো পথে নেমে প্রতিবাদ করেননি, সেই প্রশ্নও তাঁকে করা হয়েছে। এর উত্তরে মৌমিতা বলেন, “সকলে জানে আমি তখন কোথায় ছিলাম।” একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, যারা সেই সময় পথে নেমেছিলেন, তাঁরা কি পরে রাহুলের মায়ের কষ্ট বা তাঁর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির খবর নিয়েছিলেন?
মৌমিতা আরও জানান, সেই সময় চাইলে তিনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপে এই ভিডিওটি পোস্ট করতে পারতেন, কিন্তু তখন তা করেননি। এখন তাঁর মনে হচ্ছে, এতটা দেরি করে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার কারণেই হয়তো এত প্রশ্ন এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “এখন আমার মনে হচ্ছে এতটা দেরি করে কেন করলাম। আগে করলে হয়তো এত কথা হতো না।” অর্থাৎ ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার সময় নিয়েও নিজের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মৌমিতার বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি না জেনে তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে এবং তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ দিকটি শোনা হচ্ছে না। তাঁর মতে, একটি ঘটনার অর্ধেক দেখে বা শুনে কাউকে বিচার করা ঠিক নয়। এই কারণেই নিজের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে এনে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার কোনও প্রয়োজন তিনি দেখছেন না।
আরও পড়ুনঃ “কখনও মনে হয়নি যে ওর সঙ্গে জুড়ে যাই… সংসার হবে, আমার বর হবে” কেন বিবাহ বন্ধনে জড়ালেন না হৈমন্তী শুক্লা? দাম্পত্য নিয়ে এমন কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল কিংবদন্তি গায়িকার, যার জন্য সারাজীবনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন গানকেই?
সবশেষে তাঁকে ঘিরে চলা আরও কিছু কটাক্ষের কথাও জানিয়েছেন মৌমিতা পণ্ডিত। তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে কেউ কেউ তাঁকে অপয়া বলছেন, আবার কেউ তাঁকে থার্ড জেন্ডার বলেও কটাক্ষ করছেন। তবে এই ধরনের মন্তব্যকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষের কথায় তিনি নিজের সিদ্ধান্ত বা কাজের জায়গা বদলাবেন না। রাহুলকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যে প্রচারের অভিযোগ উঠছে, সেটিও তিনি মানতে নারাজ। বরং তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, শুধুমাত্র ভাইরাল হয়ে কাজ পাওয়ার উদ্দেশ্য থাকলে তিনি এতদিনে এমন কাজ অনেক আগেই করতেন। মৌমিতার কথায়, “ভাইরাল হয়ে যদি কাজ পাওয়ার থাকত তাহলে আমি অনেক আগেই এই কাজ করতাম।” তাঁর এই বক্তব্যের পর রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিতর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।






