“কাল আমাদের ফেরার কথা ছিল, কিন্তু সব রাস্তাই বন্ধ…আজ জঙ্গলের মধ্যে বসেছিলাম” শুটিংয়ে গিয়ে পোখরায় আটকে খরাজ মুখোপাধ্যায়! ভয়াবহ হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল, প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে জীবনের ঝুঁ*কি! ছেলের সঙ্গে শেষ কথার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন! এখন কেমন আছেন অভিনেতা?

নেপালে ছবির শুটিং করতে গিয়ে আচমকাই বিপাকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। ভয়াবহ হড়পা বানের কারণে পোখরায় আটকে পড়েছেন তিনি। বুধবারই নেপালে তাঁদের শুটিংয়ের শেষ দিন ছিল। পরের দিনই কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল অভিনেতার। কিন্তু প্রবল বৃষ্টি এবং বন্যার জেরে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে গিয়েছে। নেপাল থেকেই সংবাদ মাধ্যমকে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন খরাজ। তিনি জানান, একটি বাংলাদেশি ছবির শুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেদিনই ছিল ছবির শুটিংয়ের শেষ দিন। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে সারাদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিকেলের দিকে কোনওরকমে কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং করে সিনেমার কাজ শেষ করেছেন তাঁরা।

পোখরার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খরাজ মুখার্জি জানান, সারাদিন ধরে সেখানে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। অভিনেতার কথায়, “নেপালের পোখরায় আছি। কাল আমাদের ফেরার টিকিট কাটা ছিল। কাঠমান্ডু থেকে সকাল ৭টায় ফ্লাইট ছিল। কিন্তু রাস্তা তো বন্ধ হয়ে গিয়েছে এখন। সারাদিন ধরে বৃষ্টি হয়েছে। আজ জঙ্গলের মধ্যে বসেছিলাম। বৃষ্টির ঠেলায় সারাদিন শুটিং করতে পারিনি। বিকেলের দিকে একটু শুটিং করলাম।” তিনি আরও জানান, কোনওমতে শুটিং শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা। পরিকল্পনা ছিল পোখরা থেকে ফ্লাইটে ফেরার। সন্ধ্যা ৭টা এবং ৬টা ৪০ মিনিটের দু’টি ফ্লাইটের খোঁজ করেও টিকিট পাননি। দু’টি বিমানই পুরো ভর্তি ছিল। ফলে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় ফেরার যে টিকিট আগে কাটা হয়েছিল, সেটিও আর কাজে লাগছে না। অভিনেতার দাবি, সেই টিকিট নন রিফান্ডেবল হওয়ায় মোট ৪২ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

কলকাতায় ফেরার জন্য এবার বিকল্প পথ খুঁজছেন খরাজ। অভিনেতা জানান, তাঁকে কেউ গোরখপুর যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেখান থেকে কলকাতার বিমান ধরার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ২৭ তারিখ গোরখপুর থেকে কলকাতার কোনও ফ্লাইট নেই। অন্যদিকে, ২৮ তারিখ তাঁর একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। তাই ওই দিনই কোনওভাবে কলকাতায় ফিরতে হবে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে খরাজ বলেন, “২৮ তারিখ আমার আবার একটা অনুষ্ঠান আছে। উপায় নেই, সেদিনই ফিরতে হবে। কলকাতা ফিরেই কোনও মতে বাড়িতে ব্যাগ রেখে অনুষ্ঠানে যাব আর কী!” অর্থাৎ শুটিং শেষ হলেও আপাতত বাড়ি ফেরার পথই তাঁর কাছে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অভিনেতা জানিয়েছেন, তাঁরা সকলে নিরাপদেই রয়েছেন এবং পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই ফেরার পথ খুঁজছেন।

সেই সময় নেপালের পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন খরাজ। তাঁর কথায়, “উদ্দাম বৃষ্টি হচ্ছে, তার মধ্যেই ভিজে কাজ করলাম। আপনি যখন আগে ফোন করেছিলেন তখন আমি শেষ দৃশ্যের শট দিচ্ছিলাম, ওটা সিনেমারও শেষ শট। সিনেমার র‍্যাপ আপ হয়ে গেল।” এরপর তিনি জানান, পরের দিন গোরখপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন অভিনেতা রজতাভ দত্ত-সহ আরও অনেকে। সেখান থেকে বিমান ধরে কলকাতায় ফেরার চেষ্টা করবেন তাঁরা। অর্থাৎ আপাতত গোরখপুর হয়ে কলকাতায় ফেরাই তাঁদের কাছে সম্ভাব্য পথ। তবে প্রবল বৃষ্টি ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যাত্রাপথ কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২৬ আগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানের কবলে পড়ে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের তীব্র স্রোতে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। প্রাণহানির সংখ্যাও প্রায় শতাধিক বলে জানা গিয়েছে। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিয়োতে প্রতিবেশী দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতির ছবি ফুটে উঠেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও যে ভারী বৃষ্টির কারণেই এই বিপর্যয়, পরে নেপালের ভোতেকোশী নদীতে হড়পা বানের নেপথ্যে তুষারধসের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি তুষারধস লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে দিতে পারে। ফলে সেখানে জল জমতে থাকে এবং পরে সেই জমে থাকা জল আচমকা বেরিয়ে এসে ভোতেকোশী নদীতে প্রবল স্রোত তৈরি করে থাকতে পারে। তবে এখনও ঘটনার প্রকৃত কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদ! সুরের জগতেও আজ মন ভালো নেই ইমনের! জীবনের অন্যতম কাছের মানুষকে হারিয়ে শোকে কাতর, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কী জানালেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা?

এই বিপর্যয়ের সঙ্গে ভূমিকম্পের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, হড়পা বানের আগে তিব্বত এলাকায় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত এলাকায় ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল গোসাইকুণ্ডের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। ফলে সেই ভূমিকম্পের সঙ্গে পরবর্তী তুষারধসের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে লেন্দে নদীর গতিপথে থাকা কোনও হিমবাহ হ্রদ আচমকা ভেঙে গিয়ে জল নেমে এসেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেই শুটিং শেষ করে পোখরায় আটকে রয়েছেন খরাজ মুখার্জি ও তাঁর সহকর্মীরা। এখন দেখার, পরিকল্পনা অনুযায়ী গোরখপুর হয়ে কবে কলকাতায় ফিরতে পারেন তাঁরা।

You cannot copy content of this page