রচনা, সায়নী, দেব, জুন, শতাব্দীদের ৭ দিনের নোটিস! সুপ্রিম কোর্টের পর এবার স্পিকারের চিঠি, যথাযথ কারণ না জানাতে পারলে দলত্যাগবিরোধী আইন মোতাবেক খারিজ করা হবে সদস্য পদ! বিপাকে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ‘ভালো তৃণমূল’ তারকা সাংসদরা!

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে এবার আরও চাপ বাড়ল। সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পর এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতর থেকেও তাঁদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা দলত্যাগবিরোধী আইনের আবেদনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। এই ২০ জনের মধ্যে রয়েছেন একাধিক পরিচিত তারকা সাংসদও। অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ, অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারী, অভিনেত্রী জুন মালিয়া, প্রাক্তন অভিনেত্রী ও সাংসদ শতাব্দী রায় এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের নাম রয়েছে এই তালিকায়।

এছাড়াও রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, মিতালি বাগ, মালা রায়, কালিপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ায় ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই দাবিতেই ২০ জনের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল লোকসভার স্পিকারের কাছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্পিকার দফতরের পদক্ষেপের অপেক্ষায় ছিল তৃণমূল।

অন্যদিকে, এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া সাংসদদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁরা দলীয় বিধি ও সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং তাঁদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। একই দিনে স্পিকার দফতর থেকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে আদালতে জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এরপর বুধবার তৃণমূলের তরফে স্পিকার দফতরের পাঠানো চিঠির কপি প্রকাশ্যে আনা হয়। সেই চিঠিতে ২০ জন সাংসদকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের সদস্যপদ কেন খারিজ করা হবে না, সেই বিষয়ে প্রত্যেককে আলাদা করে জবাব দিতে হবে। অর্থাৎ, তৃণমূলের করা দলত্যাগবিরোধী আইনের আবেদনের বিরুদ্ধে তাঁদের বক্তব্য কী, তা স্পিকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে হবে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময়ও এই মামলায় স্পিকার দফতরের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্পিকারের কাছে জমা থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হচ্ছিল। এবার আদালতের নোটিসের পাশাপাশি স্পিকার দফতরের সাত দিনের সময়সীমা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া এই ২০ সাংসদ ইতিমধ্যেই লোকসভায় আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় এনসিপিআইর নেতা এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে চিফ হুইপ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। শতাব্দী রায়কে ডেপুটি লিডারের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও সামনে এসেছিল। জুলাই মাসে এই গোষ্ঠী প্রথমবার এনডিএ-র সংসদীয় বৈঠকেও অংশ নেয়। সেই বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছিলেন, এনসিপিআই ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত এবং স্পিকারের কাছে স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হয়েছে।

ফলে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক বিচ্ছেদ নিয়ে টানাপোড়েনের পাশাপাশি লোকসভায় তাঁদের অবস্থান নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন স্পিকারের নোটিসের জবাবে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, দেব, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, ইউসুফ পাঠানদের মতো তারকা সাংসদরা কী অবস্থান নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। এদিকে, মঙ্গলবারের শুনানির দিনই স্পিকার দফতর থেকে নোটিস জারি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এর আগে সংবাদ মাধ্যমের তরফে এনসিপিআই এবং তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও স্পিকার দফতরের নোটিস সম্পর্কে তাঁদের কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল না বলে জানা গিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘রোজ আমি যেন এক অন্য অনুপমকে দেখছি’! সদ্যোজাত পুত্রকে সামলাতে মায়ের থেকেও বেশি ব্যস্ত গায়ক বাবা, মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে কী বললেন প্রস্মিতা?

পরে তৃণমূলের তরফে চিঠির কপি প্রকাশ করা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই মুহূর্তে ২০ জন সাংসদের কাছেই সাত দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। তাঁদের জবাবের পর স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলাতেও তাঁদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে রচনা, সায়নী, দেব, জুন, শতাব্দী, ইউসুফদের মতো পরিচিত মুখ-সহ এনসিপিআই-এর ২০ সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কার্যত স্পিকার ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে।

You cannot copy content of this page