স্বামীর মৃ’ত্যুর পর প্রতিমাসে ৭ হাজার কিস্তি, বিক্রি করতে হয়েছিল গৃহপালিত পশু! কৃষক স্ত্রী, রীতার অসহায়তার কথা শুনে দেবের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুদীপ্তা! মেগাস্টারের তৎপরতায় ডেথ সার্টিফিকেট মিলতেই মকুব পুরো ঋণ! এবার ঘটালেন সাংসদের কাছে আরও বড় আবেদন জানালেন অভিনেত্রী?

কয়েকদিন আগেই ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এর মঞ্চ থেকে ঘাটালের অসহায় রীতা আড়ির জন্য সাহায্যের আবেদন করেছিলেন সঞ্চালিকা সুদীপ্তা চক্রবর্তী। স্বামী রাখাল আড়ির মৃত্যুর তিন মাস পরেও হাতে আসেনি তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট। ফলে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি না থাকায় চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছিলেন রীতা। স্বামীর নেওয়া ঋণের মাসিক কিস্তি মেটাতে গিয়ে একের পর এক গৃহপালিত পশু বিক্রি করতে হচ্ছিল তাঁকে। দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা ঋণের কিস্তি জোগাড় করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি জানতে পেরে অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রীতার পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান সুদীপ্তা। সেই আবেদনের পরেই এবার মিলল স্বস্তির খবর।

রীতার সমস্যার কথা জানতে পেরে অভিনেতা তথা সাংসদ দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। সুদীপ্তা জানিয়েছেন, গত রবিবার সন্ধ্যায় চন্দ্রকোণার রীতার সমস্যার কথা জানিয়ে দেবকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলেন তিনি। ওই রবিবার রাতেই ফেসবুকে দেব জানান, তিনি বিষয়টি দেখছেন। এরপর সোমবার সকালেই দেবের টিম থেকে সুদীপ্তার কাছে ফোন আসে। তার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দেব হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে রীতার স্বামীর মৃত্যুর প্রমাণপত্র পাঠিয়ে দেন। সেই নথি পাওয়ার পরেই রীতার পরিবারের সামনে আসে আরও বড় সুখবর। প্রয়োজনীয় মৃত্যুর প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পর রীতার স্বামীর নেওয়া ঋণ মকুব হয়ে যায়।

ফলে এতদিন ধরে যে ঋণের বোঝা একা কাঁধে নিয়ে চলতে হচ্ছিল রীতাকে, আপাতত তা থেকে মুক্তি পেল তাঁর পরিবার। প্রতি মাসে আর সাত হাজার টাকা করে কিস্তি দিতে হবে না তাঁকে। উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার রাঙামাটি গ্রামের বাসিন্দা রীতা আড়ির স্বামী রাখাল আড়ি গত ১১ মার্চ মারা যান। চাষের কাজে আর্থিক সমস্যার মধ্যে থাকা রাখাল কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর ছয় দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবারের হাতে ডেথ সার্টিফিকেট না আসায় নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় রীতাদের।

এই পরিস্থিতিতেই ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এর মঞ্চে নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরেছিলেন রীতা। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তাঁর উপর এসে পড়েছিল ঋণের কিস্তি মেটানোর চাপ। মাসে সাত হাজার টাকা কিস্তি জোগাড় করতে গিয়ে ছাগল-সহ গৃহপালিত পশু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। রীতার সেই কষ্টের কথা শুনেই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। সেই আবেদন পৌঁছে যায় দেবের কাছেও। এরপর দ্রুত বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করেন সাংসদ অভিনেতা। তাঁর পাঠানো মৃত্যুর প্রমাণপত্রের পরেই ঋণ মকুব হওয়ায় রীতার পরিবারে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

আরও পড়ুনঃ “কাল আমাদের ফেরার কথা ছিল, কিন্তু সব রাস্তাই বন্ধ…আজ জঙ্গলের মধ্যে বসেছিলাম” শুটিংয়ে গিয়ে পোখরায় আটকে খরাজ মুখোপাধ্যায়! ভয়াবহ হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল, প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে জীবনের ঝুঁ*কি! ছেলের সঙ্গে শেষ কথার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন! এখন কেমন আছেন অভিনেতা?

তবে রীতার সমস্যার সমাধানেই নিজের ভূমিকা শেষ করতে চান না সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তাঁর আরও একটি আবেদন রয়েছে, যাতে রীতার মতো সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় নথি পেতে গিয়ে এমন অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে না পড়েন। যাঁদের কোনও পরিচিতি নেই বা প্রভাবশালী কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই, তাঁরাও যেন সরকারি পরিষেবা সহজে পান, সেই বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিনেত্রী। জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের কাছেও তাঁর অনুরোধ, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সরকারি নথি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা হোক। কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে না থাকায় কোনও পরিবারের যেন ঋণের বোঝা আরও বাড়তে না থাকে। দেবের দ্রুত পদক্ষেপে যেমন রীতার পরিবার স্বস্তি পেয়েছে, তেমনই এই ঘটনা সাধারণ মানুষের সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সহজ ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনল।

You cannot copy content of this page