‘বিগ বস বাংলা’র প্রথম দুই সিজনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠস্বর। ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে অনুষ্ঠানের সেই রহস্যময় কণ্ঠের পিছনে ছিলেন অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি তিনি। তবে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই সেই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেতা। জানিয়েছেন, প্রথম দুই সিজনেই তিনিই ছিলেন ‘বিগ বস’এর কণ্ঠ। বিষয়টি নিয়ে এত বছর ধরে দর্শকদের মধ্যে যে কৌতূহল ছিল, তাঁর এই স্বীকারোক্তির পর তার অবসান হয়েছে। যদিও সোহনের পরিচিত মহল এবং শিল্পী মহলে বিষয়টি নিয়ে আগেই নানা কানাঘুষো ছিল। প্রথম দুই সিজনের প্রতিযোগীরাও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর তাঁকে দেখে ফেলেছিলেন বলে সেই খবর ছড়িয়ে পড়া খুব অস্বাভাবিক ছিল না।
তবে এতদিন কেন তিনি নিজের এই পরিচয় প্রকাশ করেননি, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সোহন। অভিনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, এই কাজের জন্য তাঁর সঙ্গে কোনও লিখিত আইনি চুক্তি ছিল না। তা সত্ত্বেও ঘনিষ্ঠ মহলের বাইরে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি। ফলে বহু বছর ধরে দর্শকদের মধ্যে নানা অনুমান থাকলেও নিশ্চিতভাবে কেউ জানতেন না সেই কণ্ঠের পিছনে আসলে কে ছিলেন। এবার নিজেই সেই রহস্যের সমাধান করলেন অভিনেতা। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টে ‘বিগ বস বাংলা’র সঙ্গে কাটানো কিছু স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। লোনাভালায় অনুষ্ঠানের কাজের ফাঁকে তৈরি হওয়া কিছু স্মৃতির কথাও তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে। এই স্বীকারোক্তির পর পুরনো দুই সিজনের দর্শকদের মধ্যেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কিন্তু এবারের নতুন সিজনে কেন আর শোনা গেল না সোহনের সেই পরিচিত কণ্ঠ? অভিনেতা জানিয়েছেন, প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং তাঁকে ফেরানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দশ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর পরিচিতি, কাজের সংখ্যা, পারিশ্রমিকের দাবি এবং পারিবারিক পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ফলে আগের মতো করে সবকিছু মেলানো সম্ভব হয়নি। সোহনের কথায়, “আমার পরিচিতি, কাজের সংখ্যা, আর্থিক দাবী, পারিবারিক পরিবেশ, ইত্যাদি অনেকটাই পালটে গেছে। দুপক্ষেরই আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও সবকিছু খাপ খাওয়ানো সম্ভব হলনা। তাই নিজের খুব প্রিয় একটি কাজকে এবারে ‘না’ বলতে বাধ্য হলাম।” অর্থাৎ অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কারণেই এবার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিতে হয়েছে তাঁকে।
সোহন সরে দাঁড়ানোর পর এবারের ‘বিগ বস বাংলা’র কণ্ঠের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী বলে শিল্পী মহলে খবর। ক্যামেরার সামনে এসে নিজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার আলোচনা করার বদলে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন সোহন। একই সঙ্গে নতুন কণ্ঠ এবং পুরো অনুষ্ঠানটির দলকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ‘বিগ বস বাংলা’র সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। এরপর ২০১৬ সালে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছিলেন জিৎ। প্রথম দুই সিজনের সঙ্গে সোহনের কণ্ঠস্বরের এই গোপন যোগসূত্র এতদিন পর প্রকাশ্যে আসায় পুরনো দর্শকদের মধ্যেও তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ টেলি অভিনেত্রীর সঙ্গে ভয়ংকর প্রতা’রণা! বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, দিনের পর দিন শা’রীরিক নি*র্যাতন! পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকার থেকে ঘনি’ষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ছড়ানোর অভিযোগ! বেলঘরিয়া থেকে গ্রেপ্তার টলিউডের অভিনেতা!
অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বিগ বস বাংলা’র প্রথম দুই সিজনের কণ্ঠ হয়ে ওঠার পাশাপাশি তাঁর অভিনয় জীবনেও রয়েছে একাধিক পরিচিত কাজ। ‘কম্পাস’ ছবির সঙ্গে তাঁর নামও দর্শকদের কাছে পরিচিত। তবে ‘বিগ বস বাংলা’র ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল একেবারেই আলাদা, কারণ পর্দায় উপস্থিত না থেকেও শুধু কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ দশ বছর পর সেই কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণও এবার নিজেই জানিয়ে দিলেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দুপক্ষেরই ফের একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে সেই সমীকরণ আর মেলেনি। তাই প্রিয় কাজকে বিদায় জানালেও নতুন সিজনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোহন।






