বিগ বস বাংলার ঘরে শুরু থেকেই খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি অভিনেতা অনিন্দ্য সেনগুপ্তকে। বাড়ির বিভিন্ন কাজে অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁকে খুব বেশি হাত মেলাতেও দেখা যায়নি। বরং একাধিকবার অনিন্দ্যকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলতে শোনা গিয়েছে। সায়কের সঙ্গে কথোপকথনের সময় নিজের আর্থিক সমস্যার কথাও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই সময় তিনি বুঝিয়েছিলেন, আর্থিক টানাপোড়েনের কারণেই মূলত বিগ বস বাংলায় খেলতে এসেছেন। এদিকে তাঁর এমন আচরণ নজর এড়ায়নি দর্শকদেরও। বিশেষ করে মাঝরাতে টাস্ক চলার সময় তাঁকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
অনিন্দ্যর এই আচরণ নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিগ বসের ঘরে থাকার জন্য যে ধরনের সক্রিয়তা ও আগ্রহ দেখানো প্রয়োজন, তাঁর মধ্যে তা দেখা যাচ্ছিল না বলেই অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই চলে আসে সপ্তাহের শেষের শনিবার ও রবিবারের হিসাব নিকেশের পর্ব। বিগ বস বাংলায় প্রথম সপ্তাহেই সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কড়া রূপ দেখতে পান দর্শক। শুরুতেই অনিন্দ্য এবং দীপেন্দুকে উদ্দেশ্য করে তিনি জানতে চান, তাঁরা কেন বাড়িতে এতটা চুপচাপ রয়েছেন। অনিন্দ্যর কাছ থেকে সৌরভ প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এরপরই অনিন্দ্যকে ঘিরে বড় সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যায় প্রথম সপ্তাহের এই বিশেষ পর্ব।
সৌরভ স্পষ্ট করে জানান, দর্শকদের মনে হয়েছে অনিন্দ্য এই বিগ বসের ঘরে থাকার যোগ্য নন। শুধু দর্শকদের মত নয়, এই বিষয়ে সঞ্চালক নিজেও তাঁদের সঙ্গে একমত বলে জানিয়ে দেন। এরপর অনিন্দ্যকে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঞ্চালকের এমন সিদ্ধান্তে অনিন্দ্যও কোনও তর্কে না গিয়ে চুপচাপ বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। প্রথম সপ্তাহেই এমনভাবে কোনও প্রতিযোগীর বিদায় নিঃসন্দেহে শোয়ের দর্শকদের জন্য বড় চমক হয়ে ওঠে। অনিন্দ্য বেরিয়ে যাওয়ায় বাড়ির একাধিক প্রতিযোগীর মন খারাপ হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হতে দেখা যায় ভরত কলকে, অনিন্দ্যর বিদায়ে তাঁর চোখে জলও দেখা যায়।
ভরত কল তখন বাড়ির ক্যাপ্টেন হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে অনিন্দ্যকে আরও একটি সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। তিনি চেয়েছিলেন, একেবারে প্রথম সপ্তাহেই যেন অনিন্দ্যকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া না হয়। তবে সৌরভের সিদ্ধান্তে সেই মুহূর্তে আর কোনও পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে দর্শকদের মধ্যেও অনিন্দ্যকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। শুধু টাকার প্রয়োজনেই তিনি এই রিয়্যালিটি শোয়ে এসেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও ঘুরতে থাকে। কারণ নিজের আর্থিক সমস্যার কথা অনিন্দ্য নিজেই সায়কের সঙ্গে কথোপকথনে জানিয়েছিলেন। তাঁর নিষ্ক্রিয়তা, বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা এবং টাস্ক চলাকালীন ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা সব মিলিয়ে দর্শকদের বিরক্তি আরও বাড়ে।
আরও পড়ুন: ‘জীবনে যাই আসুক, সবসময় তোমার পাশে থাকব’, রুবেলের জন্মদিনে শ্বেতার বিশেষ আয়োজন! ‘চিরকাল তোমার এইভাবেই…’ স্বামীকে ঠিক কী প্রতিশ্রুতি দিলেন অভিনেত্রী? টেলিপাড়ার পাওয়ার কাপলের সম্পর্কের মিষ্টতা ফের ছুয়ে গেল নেটপাড়ার মন!
শেষ পর্যন্ত অনিন্দ্যর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত দর্শকদের বিচারেই ছেড়ে দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঞ্চালকের বক্তব্য এবং দর্শকদের মনোভাব, দুই দিক মিলিয়েই প্রথম সপ্তাহে অনিন্দ্যকে বিগ বসের ঘরের বাইরে চলে আসতে হয়। তাঁর জন্য সহানুভূতি দেখালেও বাড়ির অন্য প্রতিযোগীদের সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ ছিল না। ভরত কলের আবেগঘন অনুরোধও অনিন্দ্যকে আর শোয়ে ধরে রাখতে পারেনি। ফলে বিগ বস বাংলার প্রথম সপ্তাহের হিসাব নিকেশ পর্বেই ঘটে গেল বড়সড় চমক। যে প্রতিযোগী নিজেই বারবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলছিলেন, শেষ পর্যন্ত সঞ্চালকের নির্দেশেই তাঁকে ঘর ছাড়তে হল। অনিন্দ্যর এই অপ্রত্যাশিত বিদায় তাই প্রথম সপ্তাহের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে রইল।






‘অন্যায় দেখলে রুখে দাঁড়ায়, দরকারে গলা তোলে!’ ‘সকলে গিরগিটির মতো রং বদলে ফেলল…তোমরা কি ওঁকে ভয় পাচ্ছো?’ সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার সমালোচনা ও কটাক্ষের মাঝেই, স্বামী ভরতের ‘বিগ বস’-এর ক্যাপ্টেন্সির প্রশংসা করেই কাদের বিঁধলেন গর্বিত স্ত্রী জয়শ্রী?