“নিরঞ্জন শুরুর দিনেই একটা ভুল কথা বলেছিল…”, “দেবতারাও তো নরম স্বভাবের হন!” বিগ বস বাংলার ঘরে ‘নরম পুরুষ’ বলেই কি বারবার অপ’মান? নিরঞ্জনকে নিয়ে সরব মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘রামচন্দ্র থেকে যুধিষ্ঠির সকলেই তো…’ পুরুষত্ব, স্বভাব ও যৌ*ণ পরিচয় নিয়ে বড় প্রশ্নে, পাশে দাঁড়িয়ে বললেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রথম ট্রা’ন্সজেন্ডার কলেজ অধ্যক্ষ?

বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগীদের কথাবার্তা, আচরণ এবং ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা। এবার সেই চর্চার কেন্দ্রে নিরঞ্জন মণ্ডল। তাঁকে নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম ট্রান্সজেন্ডার কলেজ অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত মানবী বরাবরই নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। এবার বিগ বসে নিরঞ্জনের প্রথম দিনের কথাবার্তা থেকে শুরু করে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা, সবকিছু নিয়েই মুখ খুলেছেন তিনি। মানবীর মতে, প্রথম দিন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে নিরঞ্জন যে কথা বলেছিলেন, সেটি একেবারেই সঠিক ছিল না। নিরঞ্জন বলেছিলেন, কেউ আসল নিরঞ্জনকে চেনেন না। সেই প্রসঙ্গ ধরেই তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং স্বভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

নিরঞ্জনের স্বভাবকে ‘নরম পুরুষ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে মানবী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুরুষ মানেই কঠিন বা রুক্ষ হতে হবে, এমন ধারণা সমাজের তৈরি। তাঁর মতে, রামচন্দ্র থেকে যুধিষ্ঠির, সকলেই নরম পুরুষ ছিলেন। এমনকী দেবতারাও চিরকাল নরম স্বভাবেরই হন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু সমাজে এখনও নারীকে নরম এবং পুরুষকে কঠিন হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। সেই কারণেই কোনও পুরুষের স্বভাব একটু কোমল হলেই তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মানবীর মতে, ব্যক্তিত্বের এই পার্থক্যকে নিয়ে কাউকে ছোট করা বা অপমান করা কোনওভাবেই ঠিক নয়।

এরপরই বিগ বসের এক মহিলা প্রতিযোগীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মানবী। নিরঞ্জনের স্বভাব নিয়ে তাঁকে অপমান করা হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। সেই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও নানা ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কেউ জানতে চান, নিরঞ্জন কি ‘মেয়েলি পুরুষ’, নাকি তিনি সমকামী? মানবী মনে করেন, এই ধরনের প্রশ্ন আসলে মানুষের চিন্তাভাবনার সীমাবদ্ধতাকেই প্রকাশ করে। তাঁর বক্তব্যে যৌন পরিচয় এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমাজের অযাচিত কৌতূহলের বিষয়টিও উঠে এসেছে। কোনও মানুষের আচরণ বা স্বভাব দেখেই তাঁর যৌন পরিচয় নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নই যেন তুলেছেন মানবী।

শুধু বিগ বসের ঘরে হওয়া মন্তব্য নয়, নিরঞ্জনের অতীত নিয়েও মানবী নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, খুব অল্প বয়সেই নিরঞ্জন এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন, যার জেরে তাঁকে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। মানবীর মতে, সেই ঘটনা না ঘটলে হয়তো তাঁর জীবন অন্য পথে এগোতে পারত। এতটা পথ পেরিয়ে আজ তিনি যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তার পিছনে অনেক কষ্ট রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন মানবী। তাঁর কথায়, সেই কষ্ট বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। ঈশ্বরের আশীর্বাদে নিরঞ্জন সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। একইসঙ্গে মানবী মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের মানসিক যন্ত্রণা অনেক মানুষকে চরম সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ভিন্নধর্মে প্রেমকে স্বীকৃতি দেওয়াই হয়েছিল কাল? হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেই সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছিলেন মীর! সেই সংসারে ছিল সমাজের র*ক্তলাল চোখের হাতছানি! কেরিয়ারের গ্রাফের ক্রমাগত ওঠা-নামা, সমাজের সঙ্গে লড়াই করে কীভাবে নিজের জায়গা ফিরে পেলেন? অভিনেতা-সঞ্চালক ভাগ করলেন সেই কঠিন সময়ের কথা? মীরের সফল ডাক্তার স্ত্রীকে চেনেন?

তাই নিরঞ্জনের পাশে দাঁড়িয়েই মানবীর বক্তব্য, কারও অসহায় অবস্থায় পাশে দাঁড়ানো সম্ভব না হলেও তাঁকে আরও কষ্ট দেওয়ার কোনও অর্থ নেই। বিগ বসের মতো একটি রিয়্যালিটি শোতে প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই আলোচনার জায়গা থেকে ব্যক্তিগত পরিচয়, স্বভাব বা অতীত নিয়ে কটাক্ষ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নই সামনে এনেছেন তিনি। নিরঞ্জনের ‘নরম’ স্বভাবকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে সেটিকে একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখার বার্তাই দিয়েছেন মানবী। তাঁর এই বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিগ বসের ঘরে ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে মন্তব্যের সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত, তা নিয়েও।

You cannot copy content of this page