“একবার দেখলেই রাহুল আর ভুলত না, আমি কিন্তু তেমন নই” প্রয়াত স্বামীর স্মৃতি আঁকড়ে কঠিন সিদ্ধান্ত প্রিয়াঙ্কার! ছেলের হাত ধরেও নয়, অরুণোদয়ের শখের ‘সহজ কথা’র পাকাপাকিভাবে সমাপ্তি ঘোষণা অভিনেত্রীর! জানালেন, কেন ভবিষ্যতে এগোবেন না সকলের প্রিয় অনুষ্ঠান?

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন না, লেখক হিসেবেও তাঁর আলাদা পরিচয় ছিল। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের একাধিক ছবিতেও কাজ করেছিলেন তিনি। তবে অভিনয়ের বাইরেও দর্শকের কাছে রাহুলের আর একটি পরিচয় ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সেটি হল তাঁর অনুষ্ঠান ‘সহজ কথা’। নিজের একমাত্র ছেলে সহজের নামেই এই অনুষ্ঠানের নাম রেখেছিলেন রাহুল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতিথিদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা শুনতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেন দর্শকরা। রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, এবার কি থেমে যাবে ‘সহজ কথা’?

রাহুলের মৃত্যুর পর অনেকেরই ধারণা ছিল, হয়তো প্রিয়াঙ্কা সরকার স্বামীর শুরু করা এই অনুষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কারণ রাহুলের সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয়ও রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সেই সম্ভাবনা নিয়ে নিজেই স্পষ্ট কথা বলেছেন প্রিয়াঙ্কা। উপালি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথোপকথনে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষে ‘সহজ কথা’ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। রাহুলের মতো করে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করার মতো জ্ঞান ও পড়াশোনা তাঁর নেই বলেই মনে করেন তিনি। শুধু নিজের ক্ষেত্রেই নয়, তাঁর পরিবার বা আশপাশের মানুষের মধ্যেও রাহুলের মতো সেই জ্ঞানের পরিধি নেই বলে জানিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তাই রাহুলের অনুপস্থিতিতে তাঁর তৈরি অনুষ্ঠানটিকে একইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিচ্ছেন না।

নিজের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “রাহুলের জ্ঞান, পড়াশোনা এবং নানা বিষয়ে জানার পরিধি ছিল অনেক বেশি। একটি অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও দক্ষতা দরকার, সেটিও তাঁর মধ্যে ছিল। তার উপর বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে রাহুলের পরিচয়ের পরিধিও ছিল অনেক বিস্তৃত। আমার সেই জায়গাটা নেই, এমনকি আমার পরিবার বা কাছের মানুষদের মধ্যেও সেই পরিমাণ জ্ঞান নেই। তাই রাহুল যে জায়গা থেকে অনুষ্ঠানটি করত, সেখান থেকে সেটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই কাজের সঙ্গে রাহুলের যে জ্ঞান এবং ব্যক্তিত্ব জড়িয়ে ছিল, সেটাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে একইভাবে ধরে রাখা সহজ নয়। সেই কারণেই ‘সহজ কথা’ নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি।”

রাহুলের স্মৃতিশক্তির কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর দাবি, কোনও গল্প বা বিষয় একবার দেখলেই রাহুল সেটি খুব সহজে মনে রাখতে পারতেন। কোনও কিছু একবার চোখে পড়ার পর সেটি তাঁর মনে থেকে যেত এবং পরবর্তীতে সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হত না। নিজের সঙ্গে রাহুলের এই পার্থক্যটিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “রাহুলের মনে রাখার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। কোনও গল্প বা কোনও বিষয় একবার দেখলেই সেটি তাঁর আর ভুলে যাওয়ার মতো ছিল না। কিন্তু আমি একেবারেই সেরকম নই, আমার মধ্যে সেই ক্ষমতা নেই।” এই কারণটিকেও ‘সহজ কথা’ চালিয়ে না যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘প্রতিটি মুহূর্তে ঈর্ষায় পড়েছি…’ মাথার চুল থেকে পায়ের নখ নয়, বরং উত্তম কুমারের কোন বিশেষ গুণে আজও ঈর্ষান্বিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? জন্মশতবর্ষ পেরিয়ে ‘উত্তম জেঠু’কে নিয়ে অজানা কথা প্রকাশ্যে আনলেন বুম্বাদা, মহানায়ককে মৃ’ত্যুর পরেও কেন হিংসে করেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’?

সব মিলিয়ে রাহুলের মৃত্যুর পর ‘সহজ কথা’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যে তার উত্তর অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। রাহুলের নাম এবং তাঁর জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই অনুষ্ঠানটি নিজের হাতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটছেন না অভিনেত্রী। বরং তাঁর বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, রাহুল যেভাবে অনুষ্ঠানটি তৈরি করেছিলেন, সেই জায়গাটি তাঁর কাছে আলাদা এবং সহজে পূরণ করার মতো নয়। রাহুলের আকস্মিক চলে যাওয়া যেমন প্রিয়াঙ্কাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে, তেমনই বাংলা বিনোদন জগতও হারিয়েছে একজন অভিনেতা ও লেখককে। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি এবং নানা বিষয়ে তাঁর জ্ঞানই তাঁকে অন্য পরিচিতি দিয়েছিল। সেই কারণেই ‘সহজ কথা’ও শুধু একটি অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, রাহুলের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত একটি কাজ হিসেবেই দর্শকের কাছে পরিচিত ছিল। প্রিয়াঙ্কার স্পষ্ট বক্তব্যে আপাতত সেই পথেই ‘সহজ কথা’ থেমে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

You cannot copy content of this page