বাংলা গানের জগতে কবীর সুমন একটি পরিচিত নাম। গান লেখা, সুর করা এবং গানের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের যোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন। বয়স বাড়লেও নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে এখনও যথেষ্ট সক্রিয় এই প্রবীণ শিল্পী। অন্যদিকে পাপিয়া অধিকারীও বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০২৬ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে বর্তমানে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সম্প্রতি এই দুই পরিচিত মুখকে ঘিরেই সামনে এসেছে একটি নাগরিক সমস্যার ঘটনা।
কবীর সুমনের সঙ্গে পাপিয়া অধিকারীর আগে থেকে খুব একটা ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু নিজের এলাকার একটি সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত অভিনেত্রী তথা বিধায়িকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রবীণ গায়ক। কলকাতা পুরসভার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবীর সুমন একটি ভিডিয়ো বার্তায় নিজের এলাকার পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। ৭৮ বছর বয়সী গায়ক তাঁর বাড়ির আশপাশের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্তরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও প্রয়োজনীয় সাহায্য পাচ্ছিলেন না বলে জানান তিনি। এরপর পরিচিত একজনের মাধ্যমে পাপিয়া অধিকারীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করেন সুমন। সেখানেই নিজের সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়ে বার্তা পাঠান তিনি। এরপরই ঘটে দ্রুত পদক্ষেপের ঘটনা।
কবীর সুমনের বাড়ির পাশেই একটি বড় গাছ ছিল, যার ডালপালা দীর্ঘদিন ধরে কাটা হয়নি। ঝড়বৃষ্টির পরে সেই গাছটি বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের তারের দিকে হেলে পড়েছিল। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে জানান গায়ক। স্থানীয় পুরনো জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি শেষ পর্যন্ত পাপিয়া অধিকারীর দ্বারস্থ হন। সুমনের বার্তা পাওয়ার পর পাপিয়া দ্রুত কর্পোরেশনের কর্মীদের পাঠান। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা গাছের ডালপালা কেটে ফেলার পাশাপাশি রাস্তার জমে থাকা অংশও পরিষ্কার করা হয়। এরপর আবার এলাকার রাস্তার আলো নিভে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। পাপিয়ার সহযোগী সায়ন্তন সান্যালও বিষয়টি দেখেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে একদিনের মধ্যে রাস্তার আলো মেরামতের ব্যবস্থা করেন।
পরপর এই সমস্যাগুলির সমাধান হওয়ায় কবীর সুমন নিজের ভিডিয়ো বার্তায় পাপিয়া অধিকারীর তৎপরতার প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে এলাকার নাগরিক পরিষেবা নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। সুমনের কথায়, “আমি যেটা দেখতে পাচ্ছি, নতুন সরকার এসে কাজ করছেন। পাড়ার দিকে নজর দিচ্ছেন। রাস্তায় নোংরা জমে থাকছে না। ময়লা সরানো হচ্ছে সময়মতো। জল আমরা পাচ্ছি। বিদ্যুৎ আমরা পাচ্ছি।” নিজের বয়সের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “মোটামুটিভাবে এর বাইরে আমি আমার এই বয়সে আর কিছু ভাবতে পারছি না।” অর্থাৎ নিজের এলাকার দৈনন্দিন পরিষেবা নিয়ে তিনি যে পরিস্থিতি দেখছেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাই ভিডিয়োয় তুলে ধরেছেন প্রবীণ শিল্পী। পাশাপাশি সমস্যার সময়ে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ায় পাপিয়ার ভূমিকার কথাও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “সিঁথিতে সিঁদুর না থাক, হাতে শাঁখা না উঠুক, তবুও উনিই আমার স্বামী!” উত্তম কুমার নন, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে কে সেই ‘অন্য পুরুষ’? বিয়ে না করেও যাঁকে মনেপ্রাণে স্বামী মেনেছিলেন, কেন সেই মানুষটির শেষ সময়েও জীবনসঙ্গীর মর্যাদা পাননি তিনি? উল্লেখ আছে আত্মজীবনীতে, আজও অসমাপ্ত ভালোবাসার ক*ষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচে আছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী?
এই ঘটনার পরেই কবীর সুমনের বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একজন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ হিসেবে পরিচিত শিল্পী বর্তমান বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর কাজের প্রশংসা করায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহল এবং নেটদুনিয়ায়ও নজর কেড়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সুমনের এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নিজের এলাকার নাগরিক সমস্যা এবং সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া। পাপিয়া অধিকারীও অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে একজন প্রবীণ শিল্পী কীভাবে নিজের এলাকার সমস্যা জানিয়ে সাহায্য চাইলেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হল, সেই ঘটনাই আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে।






