“১০ বছর হয়ে গেল তোমায় ছাড়া, আজও প্রতিমুহূর্তে তোমার কথা মনে পড়ে”, “আজও এমন আর একটা বন্ধু পেলাম না মা!” ছোটবেলায় বিয়ে, শাশুড়ি অজান্তেই হয়ে উঠেছিলেন বান্ধবী! মেয়ের থেকে বেশি বৌমাকে বিশ্বাস করতেন সব্যসাচীর মা! শাশুড়ি মায়ের মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতির পাতা উল্টে আবেগে ভাসলেন মিঠু চক্রবর্তী!

বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু চক্রবর্তীর জীবনে তাঁর শাশুড়ির জায়গাটা ছিল একেবারেই আলাদা। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি মাকে শুধু পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে পাননি, বরং বন্ধুর মতোই পাশে পেয়েছিলেন তিনি। অনেক ছোট বয়সেই বিয়ে হয়েছিল মিঠুর। ফলে নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়ার সময় শাশুড়ির কাছ থেকেই পেয়েছিলেন বিশেষ ভরসা। দুজনের মধ্যে কখনও মনোমালিন্য হলেও বিষয়টি নিয়ে স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর কাছে অভিযোগ করতেন না মিঠু। বরং শাশুড়ি-বউমা নিজেরাই নিজেদের সমস্যা মিটিয়ে নিতেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। একসময় এমনও হয়েছিল যে, সব্যসাচী চক্রবর্তীর মা নিজের মেয়ে পাপিয়ার থেকেও বউমা মিঠুর উপর বেশি ভরসা করতেন।

শাশুড়ির সঙ্গে মিঠুর এই বিশেষ সম্পর্কের কথা বহুবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও উঠে এসেছে। সংসারের নানা কথা, এমনকী নিজের মনের অনেক না বলা কথাও শাশুড়ির সঙ্গে ভাগ করে নিতেন তিনি। কারণ সব্যসাচী চক্রবর্তী অত্যন্ত ভালো মানুষ হলেও খুব একটা রোম্যান্টিক স্বভাবের ছিলেন না বলেই জানানো হয়েছে। ফলে মিঠুর নিজের অনুভূতি এবং নানা কথা শোনার অন্যতম মানুষ হয়ে উঠেছিলেন তাঁর শাশুড়ি। শুধু মনের কথা শোনাই নয়, দুই ছেলের দায়িত্ব সামলাতেও অনেকটাই সাহায্য করতেন তিনি। শ্বশুরবাড়িতে মিঠুকে সবসময় আগলে রাখতেন শাশুড়ি মা। সেই কারণেই সম্পর্কটি শুধু শাশুড়ি-বউমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা বন্ধুত্বের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল।

শাশুড়ির মৃত্যুর দশ বছর পরেও সেই সম্পর্কের স্মৃতি মিঠুর মনে একইভাবে রয়ে গিয়েছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে অভিনেত্রী আবারও ফিরে দেখেছেন পুরনো দিনের সেই মুহূর্তগুলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু পুরনো ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেই ছবিগুলির কোনওটিতে দেখা যাচ্ছে, শাশুড়ি নাতবউয়ের সঙ্গে রয়েছেন, আবার কোনও ছবিতে নাতিদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। অন্য একটি ছবিতে দুই ছেলে-মেয়েকে পাশে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। এমন একটি ছবিও রয়েছে যেখানে শাশুড়ি মিঠুকে জড়িয়ে রয়েছেন। পুরনো ছবিগুলি যেন একসঙ্গে মিঠুর সামনে ফিরিয়ে দিয়েছে বহু বছর আগের সেই সংসার এবং প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলি।

মিঠুর কাছে তাঁর শাশুড়ি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর কাছে নিজের কথা নির্দ্বিধায় বলা যেত। সংসারের ব্যস্ততার মধ্যেও সেই সম্পর্কের উষ্ণতা আজও ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী। দশ বছর আগে মানুষটিকে হারালেও তাঁর দেওয়া স্নেহ এবং আশীর্বাদ এখনও মিঠুর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। শাশুড়ির মৃত্যুবার্ষিকীতে সেই অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর লেখায়। তিনি লিখেছেন, “ভালো আছি, ভালো রেখো, তোমার আশীর্বাদ যেন এই ঠিকানায় সবসময় পাই মা।” এই কয়েকটি কথার মধ্যেই যেন প্রিয় মানুষটির প্রতি মিঠুর দীর্ঘদিনের টান এবং তাঁর আশীর্বাদ পাওয়ার ইচ্ছেটা ফুটে উঠেছে।

এদিকে মিঠুর এই স্মৃতিচারণের সময়েই উঠে এসেছে পরিবারের সাম্প্রতিক এক কঠিন সময়ের কথাও। কিছুদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন সব্যসাচী চক্রবর্তীর দিদি পাপিয়া সেনের স্বামী তথা পরিচালক রাজা সেন। তাঁর মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে গোটা পরিবারকে। রাজা সেনের প্রয়াণের পর পরিবারের সদস্যদের জন্য সময়টা সহজ ছিল না। সেই শোকের আবহ ধীরে ধীরে কাটিয়ে পরিবার আবার স্বাভাবিক জীবনের দিকে ফিরছে। এরই মধ্যে মিঠু নিজের শাশুড়ির মৃত্যুবার্ষিকীতে পুরনো স্মৃতির পাতা উল্টে দেখলেন। ফলে একদিকে পরিবারের সাম্প্রতিক শোক, অন্যদিকে বহু বছর আগের প্রিয় মানুষকে হারানোর স্মৃতি, দুটো আবেগই যেন একই সময়ে সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ “জলটাও খেতে দিচ্ছে না, দয়া করে আমাকে একটু সাহায্য করুন”, “উনি সত্যিই একজন মানসিক ভারসাম্যহীন…এভাবে আর কতদিন চলবে?” দিনের পর দিন একই অ’ত্যাচারের শিকার প্রিয়া পাল, ভিডিওতে জানালেন কাতর আর্জি! হঠাৎ কী হল ‘জগদ্ধাত্রী’ খ্যাত অভিনেত্রীর?

শাশুড়ি মাকে ঘিরে মিঠুর এই স্মৃতিচারণ তাই শুধুমাত্র মৃত্যুবার্ষিকীর একটি পোস্টে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর জীবনে ওই মানুষটির ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, পুরনো ছবিগুলি এবং মিঠুর লেখা থেকেই তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। ছোট বয়সে বিয়ের পর নতুন সংসারে এসে যে মানুষটিকে বন্ধুর মতো পেয়েছিলেন, দশ বছর পরেও তাঁর অভাব অনুভব করেন অভিনেত্রী। নিজের দুই ছেলের দায়িত্বে শাশুড়ির সাহায্য থেকে শুরু করে মনের কথা ভাগ করে নেওয়া, জীবনের নানা পর্যায়ে পাশে পেয়েছেন তাঁকে। সেই কারণেই এখনও তাঁর আশীর্বাদকে নিজের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে দেখতে চান মিঠু। মৃত্যুবার্ষিকীতে পুরনো ছবিগুলি ভাগ করে নিয়ে আরও একবার সেই প্রিয় সম্পর্ককেই স্মরণ করলেন তিনি।

You cannot copy content of this page