বিগ বস বাংলার সাম্প্রতিক পর্বে দুর্নিবার সাহাকে তাঁর ভাষা নিয়ে কড়া কথা শুনিয়েছেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দীপেন্দু বিশ্বাসের এলিমিনেশনের পর ঘরের সদস্যদের উদ্দেশে ‘কুকুর’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন দুর্নিবার। তাঁর সেই মন্তব্য নিয়েই শনিবারের ‘দাদার দরবারে’ আপত্তি জানান সৌরভ। শুধু ‘কুকুর’ বলা নয়, রাজবীরের জন্মদিনে কেক কাটার সময় দুর্নিবারের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়াও ঝিলম গুপ্তর সঙ্গে দুর্নিবারের আচরণ নিয়েও তাঁকে সমালোচনা শুনতে হয়। সৌরভের কথাবার্তা এবং বিশেষ করে দুর্নিবারকে নিয়ে তাঁর কড়া অবস্থানেই এবার ক্ষুব্ধ একাংশ দর্শক। তাঁদের প্রশ্ন, একই ধরনের বা তার থেকেও কড়া শব্দ অন্য প্রতিযোগীরা ব্যবহার করলে কেন সবসময় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না?
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় দীপেন্দু বিশ্বাসের মাঝ সপ্তাহে এলিমিনেশনকে কেন্দ্র করে। ঘরের অধিকাংশ সদস্যের ভোটে দীপেন্দুকে বেরিয়ে যেতে হয় এবং সেই ঘটনায় অত্যন্ত ভেঙে পড়েন দুর্নিবার। তাঁর অভিযোগ ছিল, ঘরের সদস্যরা দীপেন্দুকে বের করে দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। দীপেন্দু যখন বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন এক কোণে দাঁড়িয়ে দুর্নিবারকে বলতে শোনা যায়, “বার করে দেওয়ার জন্য সবাই দাঁড়িয়ে আছে ‘কুকুর’!” এরপরই তাঁর সঙ্গে ঝিলমের সম্পর্কেও তিক্ততা তৈরি হয়। কারণ দীপেন্দুর সঙ্গে ঝিলমও নমিনেশনে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত দীপেন্দুই বেরিয়ে যাওয়ায় দুর্নিবার রেগে যান। পরবর্তীতে ঝিলম জানান, দুর্নিবারের সেই আচরণে তিনি কষ্ট পেয়েছেন এবং সেই কারণেই তাঁকে নমিনেটও করেন।
এই ঘটনার পর সৌরভের দরবারে দুর্নিবারকে একাধিক বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। দুর্নিবার জানান, রাগের মাথায় কী বলেছেন, সেটাও তাঁর মনে নেই। তখন সৌরভ অন্যদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করেন বলেও ওই পর্বের প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝিলম যখন জানান যে তিনি দুর্নিবারকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তখনও সৌরভ তাঁর সঙ্গে দুর্নিবারের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকি ‘প্রিয় বন্ধুরা পিছনে ছুরি মারছে’ ধরনের মন্তব্যও করেন তিনি। পাশাপাশি ঝিলমকে জিজ্ঞেস করেন, ক্ষমা করে দেওয়ার পরেও দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে তাঁর মনে কোনও ক্ষত রয়েছে কি না। ফলে দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, দুর্নিবারকে ঘিরে সৌরভের এই পর্বের আচরণ যথেষ্ট কড়া ছিল।
আরও পড়ুন: “ওই জিতুক আমি চাই”, মায়ের প্রতিদ্বন্দ্বীই মেয়ের পছন্দের প্রতিযোগী! মায়ের সঙ্গে যার নিত্যদিনের ঝগড়া, সেই রাজবীরকেই কেন পছন্দ তনুশ্রীর মেয়ের? মা না জিতলে বিগ বস বাংলার ট্রফি তাঁর হাতেই দেখতে চান, ফাঁস করলেন কোন কারণ?
তবে এখানেই উঠেছে দর্শকদের মূল প্রশ্ন। তাঁদের বক্তব্য, রাজবীর শুরু থেকেই ঘরের প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ প্রতিযোগীদের নিয়েও নানান শব্দ ব্যবহার করেছেন। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের সময় তিনি দীপেন্দু বিশ্বাসকে ‘ভেড়া’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং ঘরের সদস্যদের ‘ভেড়ার দল’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি রাজবীরের মুখে ঘরের সদস্যদের ‘পুকুরের মাছ’ বলার কথাও দর্শকদের আলোচনায় এসেছে। তখন তাঁর এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে এমন কড়া ভাষায় তাঁকে নিয়মিত শুনতে হয়নি বলেই দাবি করছেন একাংশ দর্শক। বরং তাঁদের অভিযোগ, রাজবীরের খেলা এবং আগ্রাসী আচরণ নিয়ে সৌরভকে একাধিকবার প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে। আগেও রাজবীরের আচরণ নিয়ে সঞ্চালকের অবস্থান ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল, এমনকি তাঁকে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে প্রশংসা করার বিষয়েও দর্শকদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এই জায়গা থেকেই দর্শকদের একাংশ এবার বিগ বসের ভাষা ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সহ প্রতিযোগীদের ‘গণ্ডার’ ‘ভেড়া’, ‘ছাগল’, ‘সাপ’ বলা হলে সেটিকে কিউট হিসেবে নেওয়া যায়, তখন চ্যানেল, ম্যানেজমেন্ট বা হোস্টকে একইভাবে সরব হতে দেখা যায় না। কিন্তু দুর্নিবার ‘কুকুর’ বললেই সবাই নড়ে বসছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। একসময় সোহিনী এবং অন্যদের মুখে রাজবীরকে ‘টেরো*রিস্ট’ বলা নিয়ে সৌরভ কড়া আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং বুঝিয়েছিলেন, শব্দটির অর্থ অত্যন্ত গুরুতর। সেই ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনে দর্শকের প্রশ্ন, এই সপ্তাহে একজন আরেকজনকে ‘দুষ্কৃতী’ বললেও কেন একইভাবে আপত্তি জানানো হচ্ছে না। এক দর্শকের কথায়, “যদি ক্ষমতা থাকে সবকটাকে ভুল বলুন। নাহলে প্রতিক্ষেত্রেই একদম চুপ করে থাকুন। এত দোগলাবাজি করে রাতে ঘুমোতে যান কীভাবে? ঘুম আসে?” তবে দর্শক দুর্নিবারের একটি কথার প্রশংসাও করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্নিবার যখন বলেন, “আমি দুঃখিত। আমি এদের জন্য কুকুর শব্দটা ব্যবহার করেছি। সরি ফর দ্যা ডগস!” এই বিষয়ে আপনাদের কী মতামত?






