টালিগঞ্জ থেকে অ্যাপ ক্যাবে ফেরার পথেই ভয়াবহ দুর্ঘ’টনার কবলে অভিনেত্রী নিবেদিতা মুখোপাধ্যায়! ওই অবস্থাতেই করেন শুটিং, শুরু হয় বমি, কোমর ও হাঁটুতে গুরুতর আ’ঘাতে হাঁটাচলার ক্ষমতাও হারান! হাসপাতালে ভর্তি, কেমন আছেন সুজন নীলের স্ত্রী?

বাংলা বিনোদন জগতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে অভিনেত্রী নিবেদিতা মুখোপাধ্যায়ের দুর্ঘটনার খবর ঘিরে। পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। স্ত্রীর অসুস্থতার খবর নিজেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন অভিনেতা সুজন নীল মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, গত ৮ অক্টোবর দুর্ঘটনার শিকার হন নিবেদিতা। তবে প্রথমদিকে চোটের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি অভিনেত্রী। সেই অবস্থাতেই নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে শুটিংয়ের জায়গায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বমি শুরু হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আর দেরি করেননি সুজন নীল। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর থেকেই অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর অনুরাগী ও পরিচিতরা।

সমাজমাধ্যমে স্ত্রীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থার একটি ছবিও ভাগ করে নিয়েছেন সুজন নীল। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে তিনি লেখেন, “নিবেদিতা…একটি সড়ক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় গত ৮ অক্টোবর…গতকাল রাতে চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। কোমরে আর হাঁটুতে চোট..( চলতে ফিরতে অসুবিধে) এবার ডাক্তারের কথা মেনে চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ফিরে আসা..আপনারা যারা ওকে ভালোবাসেন,ওর অভিনয় দেখার জন্য মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকেন বা টেলিভিশনে চোখ রাখেন,তাদের আশীর্বাদ কাম্য..চিন্তা করবেন না,বন্ধুরা রুক্মিণী দে (মামলা জারি থাকবে) সুরমা ঘটক ( মেঘে ঢাকা ঘটক) কস্তুরবা গান্ধী ( মহাত্মা বনাম গান্ধী) এতো সহজে হার মানবে না….।” নিজের পোস্টে স্ত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য অনুরাগীদের আশীর্বাদ চেয়েছেন অভিনেতা। একই সঙ্গে তাঁর পরিচিত চরিত্রগুলির নাম উল্লেখ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সহজে হার মানতে রাজি নন নিবেদিতা।

অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে সুজন নীল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সংবাদমাধ্যম ‘আজকাল ডট ইন’। সেখানে দুর্ঘটনার বিস্তারিত ঘটনা জানিয়েছেন তিনি। সুজনের কথায়, “টালিগঞ্জ থেকে অ্যাপ ক্যাবে ফিরছিল। অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনাটা ঘটে। বেশ খানিকটা চোট লেগেছে কিন্তু প্রথমে ও বুঝতে পারেনি তাই সেই নিয়েই কাজ করেছে। পরে ফ্লোরে অসুস্থ হয়ে পড়ে, বমি হয়। আমি তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করি তাই।” অর্থাৎ দুর্ঘটনার পর চোট পেলেও প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুতর বলে মনে হয়নি নিবেদিতার। তাই অসুস্থ হয়ে পড়ার আগপর্যন্ত কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুটিংয়ের জায়গায় হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুজন। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুন: “এত দোগলাবাজি করে রাতে ঘুমোতে যান কীভাবে? যদি ক্ষমতা থাকে সবটাকে ভুল বলুন, নাহলে প্রতিক্ষেত্রেই চুপ থাকুন!” “সাব্বাশ দুর্নিবার! কুকুরদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করাটাই সেরা জবাব!” রাজবীর ভেড়া, ছাগল, পুকুরের মাছ বললে কিউট, দুর্নিবার কুকুর বলতেই ১৫ মিনিট বক্তৃতা? বিগ বসের ঘরে রাজবীরের পুরনো কীর্তি টেনে সৌরভের দ্বিচারিতাকে তীব্র কটাক্ষ নেটপাড়ার!

নিবেদিতার আঘাত কতটা গুরুতর, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে অনুরাগীদের মনে। এই বিষয়ে সুজন জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা আপাতত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই বলেই জানিয়েছেন। তবে কোমর ও হাঁটুতে চোট লাগায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অসুবিধা হচ্ছে অভিনেত্রীর। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সুজনের কথায়, “ডাক্তার বলেছেন অপারেশনের দরকার নেই তবে এই চোট সারতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। বিশ্রামে থাকতে হবে এখন।” ফলে এই মুহূর্তে নিবেদিতার কাছে সবচেয়ে জরুরি হল পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে চলা। দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফেরার জন্য তাঁকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। আপাতত হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছে অভিনেত্রীর।

নিবেদিতা ও সুজন নীল, দুজনেরই সামনে বেশ কিছু কাজ রয়েছে। কিন্তু এই দুর্ঘটনার কারণে তাঁদের কাজের পরিকল্পনা কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে এখনও চিন্তায় রয়েছেন অভিনেতা। স্ত্রীর সুস্থতাকেই আপাতত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সুজন জানিয়েছেন, “সামনে ওর আমার দু’জনেরই কাজ আছে, সেগুলো কীভাবে করব, চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিন্তা করতে হবে।” অর্থাৎ নিবেদিতার শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শের উপর নির্ভর করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিনেত্রীর দুর্ঘটনার খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁর অনুরাগীরা দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। মঞ্চ ও টেলিভিশনে নিবেদিতার অভিনয় যাঁরা নিয়মিত দেখেন, তাঁরাও এখন অপেক্ষায় রয়েছেন অভিনেত্রীর সুস্থ হয়ে ফিরে আসার। আপাতত বিশ্রাম ও চিকিৎসার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার পথে এগোচ্ছেন তিনি।

You cannot copy content of this page