“সারা বছর আমিষ খেলেও পুজোর চার-পাঁচ দিন আমি ছুঁয়েও দেখব না, নিরামিষ খাব!” “বাকিরা তো মাছ ও মাং’স খাবেই, আমি এই পাপ করতে পারব না!” এইবার দুর্গাপুজোয় নিজের প্রিয় জিনিসটা থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন দিতিপ্রিয়া রায়? অভিনেত্রীর কথায় নেটপাড়ার তুঙ্গে চর্চা!

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ দিতিপ্রিয়া রায়কে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ, জীবনযাপন এবং উৎসব উদযাপনের ধরন নিয়েও কৌতূহল রয়েছে অনুরাগীদের। দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে মানেই নতুন জামাকাপড়, ঠাকুর দেখা, জমিয়ে খাওয়াদাওয়া আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে উৎসবের আনন্দ উদযাপনের ধরন যে সকলের একরকম হয় না, তা আরও একবার স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী। সারা বছর মাছ-মাংস খেলেও দুর্গাপুজোর পাঁচদিন আমিষ খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে কেন থাকেন তিনি? সম্প্রতি আজকাল ডট ইনের সঙ্গে কথোপকথনে নিজের পুজোর পরিকল্পনা এবং খাবারদাবার নিয়ে এমনই কিছু কথা ভাগ করে নিয়েছেন দিতিপ্রিয়া। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে পুজোর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি প্রাণীহত্যা এড়িয়ে চলার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কথাও।

এবারের দুর্গাপুজোতেও কাজের মধ্যেই সময় কাটবে দিতিপ্রিয়ার। অভিনয়ের ব্যস্ততা, নতুন ধারাবাহিকের প্রচার এবং আসন্ন কাজের প্রস্তুতি নিয়ে এখন বেশ ব্যস্ত অভিনেত্রী। পুজোর আগে প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর নতুন ধারাবাহিক ‘মনসামঙ্গল’-এর প্রথম ঝলক। স্টার জলসার এই নতুন ধারাবাহিকের মাধ্যমে ফের ছোট পর্দায় নতুন চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। পাশাপাশি একটি নতুন সিরিজ নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। ফলে পুজোর দিনগুলোয় দীর্ঘ সময় ধরে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ খুব একটা পাবেন না দিতিপ্রিয়া। তবে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও উৎসবের আনন্দ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান না অভিনেত্রী। নিজের মতো করে পুজো কাটানোই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর পরিকল্পনায় রয়েছে কাজের পাশাপাশি পরিচিত পরিবেশে সময় কাটানোর ভাবনা।

পুজো কীভাবে কাটাতে ভালোবাসেন, সেই প্রসঙ্গে দিতিপ্রিয়া জানিয়েছেন, রাত জেগে ঠাকুর দেখা কিংবা প্রতিদিন একের পর এক মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো তাঁর বিশেষ পছন্দের নয়। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি একটু ইন্ট্রোভার্ট, তাই পুজোর সময় রাত জেগে ঠাকুর দেখা, রোজদিন প্যান্ডেল হপিং ওসব আমার দ্বারা হয় না। আমি পাড়ার পুজোয় থাকি, আড্ডা দিই। ওটা আমার কাছে বেশি প্রিয়।” অর্থাৎ বড় বড় পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখার বদলে নিজের পাড়ার পুজোতেই আনন্দ খুঁজে পান তিনি। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে গল্প করা এবং সহজভাবে উৎসবের সময় কাটানোই তাঁর পছন্দ। তারকাদের পুজো মানেই যে জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন বা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো, এমন ধারণার সঙ্গে দিতিপ্রিয়ার এই পরিকল্পনা কিছুটা আলাদা। নিজের স্বভাব এবং পছন্দ অনুযায়ী পুজো কাটাতেই স্বচ্ছন্দ অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: “হতে চাই না দশভূজা!” “মেয়ে হয়ে জন্মেছি বলেই জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ করতে হবে, তা হতে পারে না!” “নারীর দশ হাত, সব দায়িত্ব একার, কে বানিয়েছে এই নিয়ম?” জন্মের পর ছেলেদের খেলনা গাড়ি আর মেয়েদের রান্নাবাটি, দেবীপক্ষের আবহে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে কী বললেন সন্দীপ্তা সেন?

দিতিপ্রিয়ার পুজোর পরিকল্পনার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর খাবারদাবারের অভ্যাস। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বছরের প্রায় প্রতিদিনই মাছ-মাংস খান তিনি। কিন্তু দুর্গাপুজোর পাঁচদিন নিজের ইচ্ছাতেই নিরামিষ খাবার বেছে নেন। এর পিছনে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতির ভাবনা। দিতিপ্রিয়ার কথায়, “আমার মনে হয়, পুজোয় সবার আনন্দ করার অধিকার আছে। খাওয়ার জন্য একটা প্রাণীকে মেরে ফেলতে চাই না।” তবে তিনি এটাও জানেন, তাঁর একা আমিষ না খাওয়ার সিদ্ধান্তে অন্যদের খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস বদলে যাবে না। তবুও নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী চলতেই পছন্দ করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, পুজোর আনন্দের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের যোগ রয়েছে একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতির। তাই বছরের অন্য সময় আমিষ খেলেও দেবীপক্ষের বিশেষ দিনগুলোয় মাছ-মাংস-ডিম এড়িয়ে চলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে দিতিপ্রিয়া আরও জানিয়েছেন, পুজোর দিনগুলোয় নিজের প্রিয় কোনও জিনিস থেকে দূরে থাকতে পারার মধ্যেও তাঁর কাছে বিশেষ অর্থ রয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, “যদিও আমি একা না খেলে বাকিরা যে খাবে না তা তো নয়। এটা মন থেকে বিশ্বাস করি, পুজোর সময় আর যাই হোক প্রাণী হত্যা করতে পারব না। এছাড়া ভাবি, পুজোর দিনে দেবী মায়ের জন্য নিজের প্রিয় জিনিসটা থেকে দূরে থাকতে পারলে মনোবাঞ্ছা পুরণ হয়।” অর্থাৎ তাঁর কাছে নিরামিষ খাওয়া শুধুমাত্র একটি খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং পুজোর সময় নিজের বিশ্বাস মেনে চলারও একটি উপায়। অন্যদিকে, নতুন ধারাবাহিক ‘মনসামঙ্গল’-এর প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসায় উচ্ছ্বসিত দিতিপ্রিয়া। নতুন চরিত্র নিয়ে আশাবাদীও তিনি। এসভিএফের ব্যানারে খুব শিগগিরই সম্প্রচারিত হবে ধারাবাহিকটি। কাজের ব্যস্ততা আর নিজের পছন্দের নিয়ম মেনেই এবারের দুর্গাপুজো কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page