বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। পর্দায় তাঁকে মূলত মজার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেন দর্শক। তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, সহজ কথাবার্তা আর হাস্যরসের ভঙ্গি বরাবরই দর্শকদের মন জয় করেছে। তবে পর্দার বাইরেও তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা অজানা কাহিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের বাড়ির দুর্গাপুজো, পরিবারের দীর্ঘ ইতিহাস এবং একটি রহস্যময় ঘটনার কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা ঘিরেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। বিশ্বনাথ বসুর কথায়, তাঁদের পরিবারের শিকড় বহু বছর ধরে একটি গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
অভিনেতার দাবি, ১৬২৫ সাল থেকেই তাঁদের পরিবার ওই গ্রামে রয়েছে। তাঁদের বাড়ির দুর্গাপুজোও বেশ প্রাচীন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৬৭৫ সালে রামরাম বসুর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু পরিবর্তন এলেও এই পুজো তাঁদের পরিবারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। তবে এই পুজোর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু কথা, যা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিনেতার বর্ণনায়, তাঁদের বাড়ির দুর্গামন্দিরের কাছে রয়েছে একটি চাপা গাছ।
সেই গাছকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে ভূতের উপস্থিতি নিয়ে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। তবে এই কাহিনির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশটি হল মন্দিরে পুজো করতে আসা এক পুরোহিতকে ঘিরে। বিশ্বনাথের কথায়, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের বাড়ির দুর্গাপুজো বন্ধও ছিল। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর বন্ধ থাকার পর আবার নতুন করে পুজো শুরু হয়। এত পুরোনো একটি পুজোকে ঘিরে পারিবারিক স্মৃতি, লোকবিশ্বাস এবং রহস্যময় অভিজ্ঞতার নানা কাহিনি আজও আলোচনায় উঠে আসে। সাক্ষাৎকারে একটি অদ্ভুত ঘটনার কথাও জানান বিশ্বনাথ বসু। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, বাবু ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি তাঁদের মন্দিরে পুজো করতেন।
সেই সময়ের একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, একবার মন্দিরের দরজা খুলে তিনি দেখেন, সেখানে অন্য এক পুরোহিত পুজো করছেন। অথচ সেই পুরোহিতের বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব ছিল না বলেই দাবি করা হয়েছে ওই কাহিনিতে। কে ছিলেন সেই অচেনা পুরোহিত? চোখের সামনে দেখা সেই দৃশ্যের ব্যাখ্যাই বা কী? ঘটনাটি ঘিরে রহস্য থেকেই যায়। যদিও এই অভিজ্ঞতার স্বাধীন কোনও প্রমাণ নেই, তবু পারিবারিক স্মৃতি ও স্থানীয় জনশ্রুতির অংশ হিসেবে এমন ঘটনা মানুষের মনে কৌতূহল জাগায়। শুধু মুখে এই গল্প বলেই থেমে থাকেননি বিশ্বনাথ বসু।
আরও পড়ুন: “সারা বছর আমিষ খেলেও পুজোর চার-পাঁচ দিন আমি ছুঁয়েও দেখব না, নিরামিষ খাব!” “বাকিরা তো মাছ ও মাং’স খাবেই, আমি এই পাপ করতে পারব না!” এইবার দুর্গাপুজোয় নিজের প্রিয় জিনিসটা থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন দিতিপ্রিয়া রায়? অভিনেত্রীর কথায় নেটপাড়ার তুঙ্গে চর্চা!
শিশুদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশিত বইয়ের সঙ্গেও তাঁর লেখালিখির যোগ রয়েছে বলে তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। ফলে তাঁর বলা এই কাহিনি কেবল একটি ভূতের গল্প নয়, বরং বাংলার গ্রামজীবন, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং লোকবিশ্বাসের সঙ্গেও যুক্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা দুর্গাপুজোকে ঘিরে এমন নানা ঘটনা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তবে সেই অভিজ্ঞতা অলৌকিক কিছু, নাকি তার পিছনে রয়েছে অন্য কোনও ব্যাখ্যা, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আর সেই অনিশ্চয়তাই বিশ্বনাথ বসুর বাড়ির দুর্গাপুজোর এই কাহিনিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।






