“আমি রচনার ছেলেকে ছয় বছর মানুষ করেছি”, “বুম্বাদার ছেলেরও দেখাশোনা করেছি”, পর্দায় যাঁকে দেখে ভয় পেত খুদেরা, সেই সুমিত গাঙ্গুলিই কেন তারকাদের সন্তানদের দেখাশোনা করতেন? বাংলা সিনেমার ভয়ংকর খলনায়কের জীবনের এই অজানা অধ্যায়ের কথা জানতেন?

বাংলা চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে একসময় দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনেতা সুমিত গাঙ্গুলি। তাঁর অভিনয়, চোখের চাহনি এবং পর্দায় ভয়ংকর উপস্থিতি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। বাংলা সিনেমার এমন এক সময়ে তিনি দর্শকদের ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন, যখন খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলা যেত। পর্দায় তাঁর সেই ভয় ধরানো চেহারা আজও অনেক দর্শকের স্মৃতিতে রয়েছে। তবে পর্দার বাইরেও সুমিত গাঙ্গুলির জীবনে রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা ও অজানা গল্প।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেছেন বেশ কিছু মজার ঘটনা। অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলেকে ছয় বছর মানুষ করা থেকে শুরু করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলের দেখাশোনা, এমনকি তাঁর অভিনীত দৃশ্য দেখিয়ে ছোটদের ভয় দেখানোর অভিজ্ঞতা একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলা সিনেমার পুরনো দিনের এমন কিছু ছবি, যা স্বাভাবিক ভাবেই দর্শকদের কৌতূহল বাড়াবে। সাক্ষাৎকারে সুমিত গাঙ্গুলি জানান, “আমি রচনার ছেলেকে ছয় বছর মানুষ করেছি।”

শুধু রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলেই নয়, বুম্বাদা অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলেরও দেখাশোনা করেছেন তিনি। অভিনেতার কথায়, টানা ছয়-সাত বছর ধরে তাঁদের সন্তানদের দেখাশোনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের জীবনের এমন একটি অভিজ্ঞতার কথা সামনে এনেছেন সুমিত, যা তাঁর পর্দার পরিচিতির বাইরে অন্য একটি দিক তুলে ধরে। তবে এই সময়ের বিস্তারিত ঘটনা নিয়ে তিনি বেশি কিছু বলেননি। তাঁর কথায়, এমন আরও অনেক গল্প রয়েছে, যেগুলি বলতে গেলে অনেকটা সময় লেগে যাবে। তাই আপাতত সেই সব কাহিনি সংক্ষেপেই শেষ করেন অভিনেতা।

অন্যদিকে, নিজের চোখের চাহনি নিয়েও বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন সুমিত গাঙ্গুলি। তাঁর চোখ নাকি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেশ উপযুক্ত ছিল। কিন্তু অভিনেতা এটিকে শুধু নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁর চোখের জন্য বহু সুন্দরী মহিলা তাঁকে পছন্দ করতেন বলেও মজার ছলে জানান তিনি। পাশাপাশি, একসময় তাঁর অভিনীত দৃশ্য দেখিয়ে কীভাবে বাড়ির ছোটদের ভয় দেখানো হতো, সেই অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন। ভিসিআর বা ভিডিও ক্যাসেটে সিনেমা দেখার সময় তাঁর ভয়ংকর দৃশ্য থামিয়ে ছবি তুলে শিশুদের দেখানো হতো বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে!’ ব্লাউজ ছাড়াই শাড়িতে ধরা দিলেন কাঞ্চনা মৈত্র! অভিনেত্রীর সা’হসী ফটোশ্যুট ঘিরে কটা’ক্ষ নেটপাড়ায়

কখনও সেই ছবি দেখিয়ে খাওয়ানো, কখনও আবার স্কুলে যাওয়ার জন্য রাজি করানো, এমন নানা কাণ্ড ঘটত। অর্থাৎ, পর্দায় খলনায়ক হিসেবে তাঁর অভিনয় শিশুদের মনে এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, বাবা-মায়েরা সেই ভয়কেই কাজে লাগাতেন। সব মিলিয়ে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সন্তানদের দেখাশোনার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে নিজের চোখের চাহনি এবং ছোটদের ভয় দেখানোর পুরনো স্মৃতি সুমিত গাঙ্গুলির কথায় উঠে এসেছে বাংলা সিনেমার জগতের নানা অজানা দিক।

You cannot copy content of this page