“তুই শিল্পী হতে এসে শিল্পী হোস, আমার মতো শিক্ষক হয়ে যাস না, আমি সব সময় পাশে আছি” শাশুড়িকে নিয়ে মুখ খুললেন স্বাগতা মুখার্জি! বিয়ের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই নতুন জীবন শুরু, তারপরেও অভিনয়ের স্বপ্নপূরণে কীভাবে পুত্রবধূর পাশে দাঁড়িয়েছিল গোটা শ্বশুরবাড়ি?

বিনোদন জগতে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে দিনের পর দিন পরিশ্রম করেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। কখনও ক্যামেরার সামনে, কখনও মঞ্চে নিজেদের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করার চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে একজন শিল্পীর এই পথচলা সহজ হয় না, যদি পাশে পরিবারের সমর্থন না থাকে। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে নিজের পরিচিতি তৈরি করা, প্রতিটি পদক্ষেপে পরিবারের পাশে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিয়ের পরেও একজন অভিনেত্রীকে নিজের শিল্পীসত্তা বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া এবং তাঁর কাজকে সম্মান করা সব পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু অভিনেত্রী স্বাগতা মুখার্জির জীবনে শ্বশুরবাড়ির সমর্থন যেন সেই পথকে আরও সহজ করে দিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বামী ঋষি মুখার্জির সঙ্গে প্রথম পরিচয় থেকে শুরু করে বিয়ে এবং শ্বশুরবাড়ির মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।

বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে স্বাগতা মুখার্জি বিশেষভাবে পরিচিত তাঁর খলনায়িকার চরিত্রের জন্য। পর্দায় কখনও নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের রাগের কারণ হয়েছেন, আবার কখনও নিজের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে নজর কেড়েছেন তিনি। তবে পর্দার বাইরের স্বাগতার জীবনেও রয়েছে এক সুন্দর গল্প। তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায়ও বেশ আকর্ষণীয়। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, স্বামী ঋষি মুখার্জির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল একটি অনুষ্ঠানে। সেই সময় স্বাগতা মূলত থিয়েটারের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, ঋষি একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন, এমনকি কয়েকটি ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দু’জনের বাড়িও ছিল একই পাড়ায়। কিন্তু একই পাড়ায় থাকলেও তাঁদের পরিচয় গাঢ় হয়েছিল শিল্পের সূত্র ধরেই।

স্বাগতা জানান, একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ঋষি মুখার্জি। প্রথমবার তাঁদের কথা হয়েছিল অনুষ্ঠানে স্বাগতার গান গাওয়া নিয়ে। এরপর একদিন ঋষি অভিনীত একটি থিয়েটারের নাটক দেখতে যান অভিনেত্রী। নাটক শেষ হওয়ার পর ঋষিকে জানান, তাঁর অভিনয় খুব ভালো লেগেছে। আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা বাড়তে শুরু করে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর সেই বন্ধুত্ব থেকেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। স্বাগতার কথায়, তাঁদের পরিচয়ের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। একদিন হঠাৎই ঋষি তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি অভিনেত্রীর পরিবারের কাছে ছিল কিছুটা অপ্রত্যাশিত। কারণ, স্বাগতার বাবা-মা মেয়ের জীবন বলতে পড়াশোনা আর অভিনয়কেই বুঝতেন। সেই জীবনে হঠাৎ এমন একজন মানুষের আগমন, যিনি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছেন, তা দেখে প্রথমে অবাক হয়েছিলেন তাঁর বাবা।

তবে ঋষি মুখার্জি শুধু বিয়ের প্রস্তাব দিয়েই থেমে থাকেননি। স্বাগতার বাবার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই তিনি কবিতা শুনিয়েছিলেন। তাঁর এই আচরণে অভিনেত্রীর পরিবারের সদস্যরা মুগ্ধ হয়ে যান। স্বাগতা আরও জানান, ঋষির পরিবারের সদস্যরা শুধু প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না, শিল্পীজীবনের গুরুত্বও তাঁরা বুঝতেন। একজন শিল্পীকে নিজের কাজের প্রতি কতটা নিষ্ঠাবান হতে হয়, নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কী ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন, সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে তাঁদের যথেষ্ট ধারণা ছিল। আর সেই কারণেই বিয়ের ক্ষেত্রে স্বাগতার মা-বাবাও সম্মতি জানান। অভিনেত্রীর কাছে এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্তে শুধু দু’জন মানুষের পছন্দ নয়, দুই পরিবারের মানসিকতাও অনেক সময় বড় ভূমিকা পালন করে। ঋষির পরিবারের শিল্পের প্রতি এই শ্রদ্ধা তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল।

আরও পড়ুনঃ প্রেমের জল্পনার মাঝেই একসঙ্গে মুম্বইয়ে অভিকা-রণজয়! ‘প্রতিজ্ঞা’র অভি-ছুটিকে নিয়ে নতুন চর্চা! ছুটি কাটাতে না অন্য কাজে গিয়েছেন তারা?

শ্বশুরবাড়ির সমর্থনের কথা বলতে গিয়ে স্বাগতা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তাঁর শাশুড়ির কথা। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর শাশুড়ি নিজেও খুব ভালো গান করতেন। রেডিও এবং টেলিভিশনেও গান গেয়েছেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শিক্ষিকার পেশা বেছে নেওয়ায় তাঁর নিজের শিল্পীজীবন আর আগের মতো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শাশুড়ি স্বাগতাকে নিজের শিল্পীসত্তাকে ধরে রাখার পরামর্শ দিতেন। অভিনেত্রী জানান, তাঁর শাশুড়ি তাঁকে বলতেন, “তুই শিল্পী হতে এসে শিল্পী হোস, আমার মতো শিক্ষক হয়ে যাস না। আমি আছি।” এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একজন শিল্পীর প্রতি আরেকজন শিল্পীর গভীর অনুভূতি এবং স্নেহ। নিজের জীবনে যে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়নি, সেই স্বপ্নের পথে পুত্রবধূকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন তিনি। স্বাগতার জীবনের এই অভিজ্ঞতা বুঝিয়ে দেয়, পরিবারের সমর্থন একজন শিল্পীর কাছে কতটা মূল্যবান। বিয়ের পরেও নিজের পরিচয় ও প্রতিভাকে বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ পাওয়া যে কত বড় প্রাপ্তি, অভিনেত্রীর কথায় যেন সেই ছবিই উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page