বিগ বস বাংলার ঘরে এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে সৃজলা গুহ। কখনও দুর্নিবার সাহার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ, কখনও আবার জিতু কমলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, সব মিলিয়ে তাঁকে নিয়ে আলোচনা থামছেই না। এবার সৃজলাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হতেই নেটমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রথমদিকে সৃজলাকে ভালো মনে হলেও বর্তমানে তাঁর আচরণ দেখে সেই ধারণা বদলে গিয়েছে। একজন দর্শক তো সরাসরি লিখেছেন, “শুরু থেকে এই মেয়ে টা কে ভালোই মনে করেছিলাম। আজকে দূর্নিবার থেকে শুরু করে জিতু অবধি সবাই একে এক্সপোজ করলো! ছিঃ.. এত্তো জঘন্য!” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিগ বসের ঘরে সৃজলার আচরণ নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্নিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
ঠিক কী ঘটেছে বিগ বসের ঘরে? হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সোনামণি সাহা দাবি করেন, দুর্নিবার নাকি সৃজলাকে মাইক্রোফোন খুলে রেখে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন। সোনামণির বক্তব্য, সৃজলাই তাঁকে এই কথা জানিয়েছিলেন। এমনকী, দুর্নিবারের এই আচরণে সৃজলা অস্বস্তিতে রয়েছেন বলেও নাকি সোনামণিকে বলেছিলেন। সোনামণি আরও দাবি করেন, সৃজলা নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, একদিকে জিতু, অন্যদিকে দুর্নিবার, এই পরিস্থিতিতে তিনি বুঝতে পারছেন না কী করবেন। দুর্নিবারের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলতেও নাকি অস্বস্তি হচ্ছিল তাঁর। তবে সোনামণির মুখে এই কথা শুনে দুর্নিবার দাবি করেন, তিনি এমন কোনও কথা বলেননি। বরং বিষয়টি আর অন্যদের কাছে না বলার জন্য সোনামণিকে অনুরোধ করেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিগ বসের ঘরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই বিতর্কের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে দুর্নিবারের ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গও। কারণ, গায়ক বর্তমানে বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে। এর আগে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ২০২৩ সালের ৯ মার্চ মোহর ওরফে ইন্দ্রিলা সেনকে বিয়ে করেন দুর্নিবার। তাঁদের একটি ছেলেও রয়েছে, যার বয়স এখন আড়াই বছর। ফলে বিবাহিত দুর্নিবারের সঙ্গে সৃজলার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে চর্চা শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। যদিও দুর্নিবারের বিরুদ্ধে সোনামণির কাছে করা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। দুর্নিবার নিজেও সৃজলাকে পছন্দ করার কথা বলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তা সত্ত্বেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃজলাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন দর্শকদের একাংশ।
এক দর্শক সৃজলাকে আক্রমণ করে লিখেছেন, “জানে দূর্নিবার এর বউ, বাচ্চা আছে তাও এই নোংরামি টা করলো!” এরপরই সৃজলার অতীত সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করেছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্য, “অবশ্য যে ০৯ বছরের সম্পর্কে প্রেমিকের দয়ায় খেয়ে পড়ে (খেতে পেতো না, ৩৫ টাকার রোল খেয়ে দিন চালাতো টাকার অভাবে), সিরিয়াল এ চান্স পেয়ে প্রথম সিরিয়াল এই সিরিয়াল এর হিরোর সাথে প্রেম করে প্রেমিককে ঠকায় তার আবার ক্যারেক্টর!” অর্থাৎ সৃজলার ব্যক্তিগত জীবন এবং অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ওই দর্শক। তবে এই মন্তব্যে করা ব্যক্তিগত অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে মতামত জানাতে গিয়ে অনেক সময় দর্শকরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মন্তব্য করেন। সৃজলাকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
আরও পড়ুনঃ হাসি-গানে জমজমাট ছিল বিগ বসের ঘর, হঠাৎই নেমে এল বিষাদের ছায়া! শারীরিক অসু স্থতার কারণে মাঝপথেই বিগ বস বাংলা ছাড়তে বাধ্য হলেন ঝিলম গুপ্ত! মেডিক্যাল রিপোর্টে কী এমন এল যে তড়িঘড়ি নিতে হল এই বড় সিদ্ধান্ত? জানেন, কী হয়েছে ডিজে মাউসের?
অন্যদিকে, সৃজলা ও জিতু কমলের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে। বিগ বসের ঘরে তাঁদের কথাবার্তা এবং একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে দর্শকদের মধ্যে নানা মত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই দুর্নিবারের সঙ্গে সৃজলার সম্পর্ক নিয়ে সোনামণির বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। যদিও সৃজলা নিজে এই পরিস্থিতি নিয়ে কী ব্যাখ্যা দেবেন, তা নিয়ে এখনও অপেক্ষা রয়েছে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, ঘরের মধ্যে প্রতিযোগীদের আচরণেই তাঁদের প্রকৃত মানসিকতা প্রকাশ পাচ্ছে। আবার অন্যদিকে, রিয়্যালিটি শোয়ের পরিস্থিতি এবং সম্পাদিত দৃশ্য দেখে কারও ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। আপাতত দুর্নিবার, সৃজলা, জীতু এবং সোনামণিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে বিগ বস বাংলার ঘরের উত্তাপ আরও বেড়েছে।






