বাংলা বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগীদের খেলাকে ঘিরে যত দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে বিতর্ক, বন্ধুত্বের সমীকরণ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন। বিশেষ করে অভিনেত্রী সৃজলা গুহর চোট পাওয়া, নন্দিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি এবং দুর্নিবারের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব এখন দর্শকদের আলোচনার অন্যতম বিষয়। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন সৃজলার দিদি লিমা। বোনের খেলা থেকে শুরু করে নন্দিনীকে ক্ষমা করা, দুর্নিবারের পাশে থাকা এবং চোট পাওয়ার পরেও সৃজলার লড়াই চালিয়ে যাওয়া, একাধিক বিষয় নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায় স্পষ্ট, বোনের জন্য গর্বিত হলেও বিগ বসের ঘরে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা সহজে ভুলতে পারছেন না তিনি।
সৃজলার খেলার প্রশংসা করতে গিয়ে লিমা জানান, বোনকে তিনি বরাবরই অন্তর্মুখী হিসেবেই দেখেছেন। সহজে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে মিশতে না পারলেও বিগ বসের ঘরে সৃজলা যেভাবে নিজের মতো করে এগিয়ে চলেছে, তা তাঁকে অবাক করেছে। লিমার কথায়, “আমি সত্যি কথা বলতে ভাবতেই পারিনি, ও এত ভালো গেমপ্লে করবে।” তাঁর মতে, অন্য প্রতিযোগীদের মতো আলাদা করে কোনও দল তৈরি না করেও সৃজলা নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে। অনেকে তাঁর কম কথা বলাকে অহংকার বা ব্যক্তিত্বের সমস্যা বলে মনে করলেও দিদির দাবি, সৃজলার কোনও মুখোশ নেই। সে বাস্তব জীবনে যেমন, বিগ বসের ঘরেও তেমনই। লিমার কথায়, “ওর আসল কোনও মুখোশ নেই। মুখের সামনে যা বলার, সেটাই বলে। মনে এক আর মুখে আর এক, ওরকম নয়।”
অর্থাৎ, দর্শকের সামনে আলাদা কোনও চরিত্র তৈরি না করে নিজের স্বভাব বজায় রেখেই খেলছে সৃজলা। নন্দিনীর সঙ্গে সৃজলার সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লিমা। তাঁর মতে, নন্দিনীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর সৃজলার মনে যে আঘাত তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র ক্ষমা চাইলেই মুছে যাওয়ার নয়। নন্দিনীর মা-বাবা সৃজলার পরিবারের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন, সেই বিষয়টি তিনি দেখেছেন বলেও জানান। তাঁদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান রয়েছে লিমার। তিনি চান না, নন্দিনীর মা-বাবাকে আর ক্ষমা চাইতে হোক। তবে একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “আমরা ক্ষমা করে দিলেও ভোলাটা সম্ভব নয়।” লিমার মতে, এই ঘটনার ফলে সৃজলার মনে নন্দিনীর প্রতি বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। আগে যাঁকে বিশ্বাস করেছিল, তাঁর সঙ্গে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর আবার আগের মতো সম্পর্ক রাখা কঠিন।
ক্ষমা করা এবং কাউকে আগের মতো বিশ্বাস করা যে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, সেই কথাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। সৃজলার চোট পাওয়ার ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দিদি। লিমার দাবি, আঘাতের পর সৃজলার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁরা যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখে তাঁর মনে হয়েছে, চোটের পরিণতি আরও গুরুতর হতে পারত। বিশেষ করে সৃজলার মা হওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার প্রসঙ্গটি তাঁকে আবেগপ্রবণ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। যদিও এই আশঙ্কার চিকিৎসাগত সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, লিমা স্পষ্ট করেছেন যে বোনের আঘাতকে তিনি কোনওভাবেই হালকাভাবে দেখছেন না। তাঁর কথায়, “সৃজলার একটা অপশন ছিল বাড়ি ফিরে আসার। কিন্তু ও ফিরে আসেনি, ও লড়েছে।
ও একজন ফাইটার।” চোট পাওয়ার পরেও বিগ বসের ঘরে ফিরে এসে সৃজলার খেলা চালিয়ে যাওয়ায় তিনি গর্বিত। তাঁর মতে, ব্যথা নিয়ে খেললেও সমালোচনা হচ্ছে, আবার না খেললেও প্রশ্ন উঠত। তাই অন্যের মন্তব্যের চেয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। সৃজলার এই লড়াইকে সহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখার পক্ষপাতী নন তিনি। বিগ বসের ঘরে সৃজলার পাশে থাকা দুর্নিবারকে নিয়েও বিশেষ মন্তব্য করেছেন লিমা। তিনি জানান, “সৃজলার পর যদি কাউকে জিততে দেখতে চাই, সে হলো দুর্নিবার, যে সবসময় আমার বোনের পাশে রয়েছে।” তাঁর চোখে দু’জনের বন্ধুত্ব আন্তরিক। তবে এটাও জানেন, বিগ বস একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে শেষ পর্যন্ত একজনই বিজয়ী হবেন।
আরও পড়ুনঃ “ছিঃ, এত জঘ’ন্য!” “ওঁকে ভালোই মনে করতাম কিন্তু রাজবীর, দুর্নিবার ও জিতু সবটা ফাঁস করল!” “জানে বউ-বাচ্চা আছে, তাও এই নোং*রামিটা করল!” সিরিয়ালের নায়কের সঙ্গে প্রেম করে ঠকিয়েছিলেন প্রাক্তনকে? ফের বিবাহিত গায়কের সঙ্গে ঘনি’ষ্ঠতার বিতর্কে চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন, নেটিজেনদের কটা’ক্ষের মুখে সৃজলা গুহ! বিগ বসের ঘরেই কি মুখোশ খুলছে অভিনেত্রীর?
অন্যদিকে, রাজরকে ঘরে আসার পর নতুন প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া প্রতিযোগী হিসেবে দেখছেন তিনি। নিরঞ্জনের খেলায় পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, আবার নন্দিনী ও রাজবীরের সম্পর্ককেও তাঁর মিষ্টি লেগেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর সমর্থন বোন সৃজলার দিকেই। সাক্ষাৎকারের শেষে লিমা জানান, “আমি তো ওকে উইনার হিসেবেই দেখতে চাই।” অর্থাৎ, চোট, বিতর্ক এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন পেরিয়ে সৃজলা যেভাবে নিজের খেলায় এগিয়ে চলেছে, তাতে দিদির আশা, শেষ হাসিটা হাসবে তাঁর বোনই। এখন দর্শকদের নজর, আগামী দিনে সৃজলার এই লড়াই তাঁকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যায়।






