“তিনবার সরকার পাল্টাতে দেখলাম, কিন্তু আমি পাল্টাইনি কারণ রাজনীতি আমার পেশা নয়!” “সাধারণত আমি বোকাদের সঙ্গে কাজ করি না…রুদ্রনীল নিজের কাজ করছে, অনির্বাণ নিজের মতাদর্শে চলেছে” রাজনৈতিক আনুগত্যের টানাপড়েনে যখন টলিউড বারবার বিভক্ত, তখন সব হিসাবের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের দর্শন স্পষ্ট করলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়!

বাংলা ছবির জগতে আবারও নতুন চমক নিয়ে আসছেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনের প্রযোজনায় তাঁর আগামী ছবির শুভ মহরতে উপস্থিত ছিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রুদ্রনীল ঘোষ, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। ছবির গল্পে সমাজের বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্তরের মানুষকে এক জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। আর এই ছবিতেই একসঙ্গে দেখা যাবে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী অনির্বাণ ও রুদ্রনীলকে। দুই অভিনেতাকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা, অনির্বাণের অভিনয়ে ফেরা, ছবির বিষয়বস্তু এবং পুজোর ছবি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানালেন কৌশিক।

অনির্বাণের অভিনয়ে ফেরা নিয়ে পরিচালকের বক্তব্য, “ও তো অভিনয় করেনি, নির্বাসন তো অভিনয় করেনি, গান গেয়েছে।” অভিনেতার প্রতিভায় তাঁর যে বরাবরই আস্থা রয়েছে, তা বুঝিয়ে কৌশিক বলেন, প্রতিভাবান মানুষ যে কোনও কাজেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেন। এমনকী, তাঁর বিশ্বাস, অনির্বাণ যদি চাষবাসও করেন, সেখানেও দারুণ ফসল ফলাবেন। অভিনেতা যখন কাজ করতে পারছিলেন না, সেই সময়ই তাঁকে এই ছবির চরিত্রটির কথা বলেছিলেন পরিচালক। সেই কথা রাখতে পেরে তিনি আনন্দিত। অনির্বাণের প্রতিভার প্রতি নিজের বিশ্বাসের কথা জানিয়ে কৌশিক বলেন, তিনি এই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষাতেও ছিলেন। অর্থাৎ, অনির্বাণের অভিনয়ে ফেরাকে তিনি নিছক কাজের সুযোগ হিসেবে দেখছেন না, বরং একজন প্রতিভাবান অভিনেতাকে আবার পর্দায় পাওয়ার আনন্দ হিসেবেই দেখছেন।

অন্যদিকে, অনির্বাণ ও রুদ্রনীলের রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কৌশিকের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজনীতি তাঁর কাছে কোনও সমস্যার বিষয় নয়। তাঁর কথায়, “আমি যেরকম ফিল্ম মেকিংটা আমার পেশা, অভিনয় আমার পেশা, রাজনীতি কিছু কিছু লোকের পেশা। তারা তাদের কাজ করবে, আমি আমার কাজ করব।” রুদ্রনীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে অনির্বাণের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে। তবে পরিচালকের মতে, দু’জনেই যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও পেশাদার অভিনেতা। তাই কাজের জায়গায় তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন না। বরং রুদ্রনীল নিজের পছন্দের পথে এগিয়ে সফলভাবে কাজ করছেন বলে তাঁর জন্য গর্বিত কৌশিক।

দুই অভিনেতার মধ্যে কে কীভাবে মিলবেন, তা নিয়ে আগাম দুশ্চিন্তা করতে নারাজ তিনি। তাঁর বিশ্বাস, কাজের প্রতি নিষ্ঠাই তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। ছবির গল্পের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৌশিক জানান, মানুষ সাধারণত নিজের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যে থেকে একটি নির্দিষ্ট জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই পরিচিত পরিবেশ থেকে কয়েক দিনের জন্য অন্য পরিস্থিতিতে গিয়ে থাকতে হলে কী হতে পারে, সেই ভাবনাই ছবির অন্যতম আকর্ষণ। হোটেলে পরিষ্কার বাথরুম কিংবা পরিচিত সুযোগ-সুবিধার মতো বিষয়গুলি আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও সেগুলি না পেলে জীবন কতটা বদলে যেতে পারে, তা ছবিতে উঠে আসবে।

পরিচালকের মতে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এক জায়গায় এনে তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গল্প এগোবে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মানুষের পোশাক, বাড়ি, গাড়ি কিংবা নিরাপত্তারক্ষীর পরিচয় সরিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত মানুষটিই থেকে যায়। জীবনের এই উপলব্ধি তিনি ছবির মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে চান। প্রযোজক নীলরতন দত্তের কাছ থেকে নিজের মতো করে ছবি তৈরির স্বাধীনতা পেয়েছেন বলেও জানান কৌশিক। পরিচালকের কথায়, এই আস্থা তাঁকে নিজের ভাবনামতো ছবি তৈরির সুযোগ দিয়েছে। পুজোর ছবি নিয়েও নিজের মতামত স্পষ্ট করেছেন পরিচালক। তাঁর মতে, “প্রচার দিয়ে ছবি চলে না কখনও। ছবি চলে কনটেন্ট এবং পরিচালনা সবকিছু মিলিয়ে।”

আরও পড়ুনঃ “আপনাকে বিগ স্যালুট! এই মনের দৃঢ়তা ও অনায়াসে সব ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক মানবিক ধর্ম!” “কাঁদলেন কেন তা বলব না, বরং ভালো করেছেন!” বিগ বসের ঘরে জিতু কমলের কান্না দেখে আবেগঘন পোস্ট মৈত্রেয়ী মিত্রের! বিতর্কের মাঝেই, ফাইনালে দেখার আশায় অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে কী বার্তা অভিনেত্রীর?

গত বছরের পুজোয় ছবি ঘিরে অতিরিক্ত প্রচার ও নানা বিতর্কের পর এবার দর্শক বিষয়বস্তুর দিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন বলেই তাঁর আশা। কোন ছবি এগিয়ে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত পরিচালকের নয়, দর্শকের বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, পুজোর প্রতিমা নিয়ে তাঁর কোনও নির্দিষ্ট পছন্দ নেই। ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা হোক কিংবা নতুন ধরনের শিল্পকর্ম, সবকিছুকেই তিনি উপভোগ করেন। তাঁর কাছে দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ছোটবেলার স্মৃতি এবং নিজের বিশ্বাস। তিনবার সরকার পরিবর্তন দেখেও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেননি বলে জানান তিনি। পুজোর ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া, আড্ডা এবং সময় কাটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে নতুন ছবিতে ভিন্ন মতাদর্শের অভিনেতাদের একসঙ্গে নিয়ে কৌশিকের লক্ষ্য সমাজের নানা স্তরের মানুষের গল্প তুলে ধরা।

You cannot copy content of this page